প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লকডাউনে পুলিশের হয়রানির শিকার সাংবাদিক

রাজু আহমেদ :[২] একাত্তর টিভির লাইভ শেষে হাওর থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরার পথে পুলিশের হয়রানির শিকার হয়েছেন সাংবাদিক শামস শামীম।

[৩] জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ওয়েজখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ তাঁর মোটরসাইকেল আটকে মুভমেন্ট পাস চান। সাংবাদিক পরিচয় পেয়েও তাঁর মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন রাজ্জাক নামে এক পুলিশ সদস্য।

[৪] সৃজনশীল সাংবাদিকদের অন্যতম শামস শামীম একাত্তর টিভি ও দৈনিক কালেরকন্ঠ পত্রিকায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে স্বচ্চতার সাথে অর্পিত দায়িত্বপালন করে আসছেন।

[৫] বিষয়টি নিয়ে সজ্জন এই সাংবাদিক তাৎক্ষণিক তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন- কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন। পুলিশ কোথাও কঠোর, কোথাও ঢিলেঢালা। কখনো বাড়াবাড়ি করছেন। কিছুক্ষণ আগে হাওর থেকে ফিরেছি। একাত্তর টিভিতে হাওরের স্টোরি নিয়ে লাইভ করে আসলাম।

[৬] ওয়েজখালি এলাকায় রাজ্জাক নামের একজন পুলিশ সদস্য মোটরসাইকেল থামালেন। কিছু না বলেই চাবি নিয়ে নিলেন। বিষয়টি সহ্য হলো না। আমি বললাম একাত্তর টিভি ও কালের কণ্ঠে কাজ করি।

[৭] তিনি বললেন, মুভমেন্ট পাস দেখান। বললাম আমার জন্য মুভমেন্ট পাস প্রযোজ্য নয়। তিনি বললেন প্রযোজ্য। বললাম সরকারি ১৩ দফা নির্দেশনা আপনার মোবাইল থেকে সার্চ করে জেনে নিন। এতে তিনি আরও গরম হলেন। বললেন ডিসি-ইউএনও সাহেব বললে গাড়ি দেব। আমি বললাম ঠিক আছে। বাইক রেখে দিন; আমি চললাম।

[৮] ওই সময় আরেক পুলিশ ভাই এগিয়ে এসে বললেন, স্যার উনি সাংবাদিক চাবি দিয়ে দেন। পরে দু’জন পথচারীর হাতে চাবি দিলেন। কিন্তু গর্জন থামছে না তার। ঘটনাটি ফোনে এসপিকে জানালাম।

[৯] এদিকে শামস শামীমের লেখা পোস্টটি জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্ম সচিব মো. সাবিরুল ইসলামের নজরে আসে। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করেন।

[১০] জেলা-উপজেলায় দায়িত্বরত সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসক-নার্স, পুলিশ সদস্যরা যেমন ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে সেবা দিচ্ছেন; তেমনি সাংবাদিকরাও ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্বপালন করছেন। এখন আমাদের দায়িত্বপালনে পুলিশ যদি হয়রানি করে তাহলে বিষয়টি খুব বেদনাদায়ক।

[১১] এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। ওই পুলিশ সদস্য সাংবাদিক পরিচয় জেনে এমন ব্যবহার করেছেন নাকি পরিচয় না জেনে এমন করেছেন তা খতিয়ে দেখব। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারকে বলা হবে।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত