প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষিত তরুণদের কৃষিতে আনতে আগামী বাজেটে প্রণোদনা

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের শিক্ষিত তরুণদের কৃষিতে আনতে আগামী বাজেটে প্রণোদনা দিয়ে তাদের উৎসাহিত করা হবে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, কৃষি আমাদের লাইফলাইন। কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ায় চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ধান, চাল এবং গম উৎপাদন প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। আমরা দাবি করি- আমরা খাদ্যশস্যে স্বাবলম্বী। খাদ্যশস্যে আমরা স্বাবলম্বী হতে পারি সেই বছর যে বছর আমাদের প্রকৃতি স্বাভাবিক থাকে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা জানান। তিনি বলেন, আমাদের খাদ্যে আরও ভর্তুকি বাড়াতে হবে, এর আউটলুকটা কি জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজেটে অবশ্যই প্রাধান্য পাবে কৃষি খাত। কৃষি খাতের যে যে স্থানে হাত দেয়া উচিত সেখানে সেখানে আমরা হাত দেব। কৃষি আমাদের লাইফলাইন সুতরাং কৃষি খাতে যে সকল পণ্য আছে সব ক্ষেত্রেই আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করব। পাশাপাশি দেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজ যারা কৃষিতে আসতে চায় তাদের উৎসাহিত করার জন্য কিছু কিছু প্রণোদনা রেখে আমরা চেষ্টা করব তাদেরকে উৎসাহিত করার জন্য। ভার্চুয়াল সভায় অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব জনাব মোঃ আসাদুল ইসলাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, চ্যানেল আই-এর বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান আলোচনায় অংশ নেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ হবে। ম্যানুয়াল থেকে যান্ত্রিকীকরণের কাজ আমরা ইতোমধ্যে শুরু করেছি। গতবার বাজেটে আমাদের বক্তব্য ছিল আমরা সেখানে আমরা কিছু টাকাও রেখেছিলাম। আমি মনে করি যে, আমাদের কৃষি ভাল কাজ করছে, কৃষিকে গতিশীল, বেগবান ও শক্তিশালী করার জন্য যা যা প্রয়োজন সরকার তা করবে। অর্থ অপচয় ও কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোসহ আর কোন কোন বিষয়ে এবারের বাজেটে আশ্বাস দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এগুলোর জন্য আমাদের বাজেট প্রণয়ন টিম রয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা রয়েছে তারা এগুলো নিয়ে কাজ করছে। আজ আমরা যে পরামর্শ পেয়েছি সেগুলো পর্যালোচনা করব। তারপর আমরা টিম নিয়ে আবার একসঙ্গে বসব, বসে সেখানে সিদ্ধান্ত নেব এরমধ্যে কোনগুলো বাজেট প্রণয়নে কাজে লাগাব। যতটা আমাদের সাধ্যে কুলায় সেভাবেই গ্রহণযোগ্য পরামর্শ আমরা গ্রহণ করা হবে।

গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন পরামর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, শাইখ সিরাজ খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো, পোল্ট্রি শিল্পের দিকে নজর দিতে পরামর্শ দিয়েছেন একি সঙ্গে কৃষি খাতে আমাদের শিক্ষিত তরুণরা এগিয়ে আছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শহরকেন্দ্রিক বিল্ডিংয়ের ছাদে কৃষিকাজ হচ্ছে। সেরকম আমাদের দেশেও করা যায় কিনা তার পরামর্শ দিয়েছেন। নঈম নিজাম নিউজপ্রিন্টের ওপর আরোপিত কর কমানো, কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। নাইমুল ইসলাম খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন আন্তর্জাতিক মানের নয় বলে উল্লেখ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে কিভাবে স্বীকৃত করা যায়, গবেষণার মাধ্যমে আরও বেশি আন্তর্জাতিক মানের করার বিষয়ে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া আমাদের বিভিন্ন কাজ সময়মতো হয়না বলে অপচয় হয়, সেই অপচয় বন্ধ করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বিশেষ করে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে আরও কঠোর হওয়ার জন্য পরামর্শ এই হচ্ছে আমাদের আজকের আলোচনা।

৮-১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতির পরও বাজারে চালের দাম অনেক বেশি, এর কারণ জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ধান, চাল এবং গম প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। আমরা দাবি করি- আমরা খাদ্যশস্যে স্বাবলম্বী। খাদ্যশস্যে আমরা স্বাবলম্বী হতে পারি সেই বছর যে বছর আমাদের প্রকৃতি স্বাভাবিক থাকে। যদি প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ আসে সেটা আমরা মেনটেন করতে পারি না। তিনি বলেন, আমাদের পাশের যেসব দেশ যেমন থাইল্যান্ড তাদেরও ঘাটতি আছে। করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বই আমাদের চেয়ে অনেক দেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর কারণে কৃষিকাজ কৃষকরা করতে পারেনি। স্বাভাবিক কাজ যেমন ব্যাহত হয়েছে তেমনি কৃষিও ব্যাহত হয়েছে। এর কারণে সরবরাহ কমে গেছে, ফলে চালের দামটা বেশি। তিনি বলেন, কামাল বলেন, আমাদের কৃষি খাতের যে যে জায়গায় হাত দেয়া উচিত সেখানে আমরা সহযোগিতা করব।

নিউজ প্রিন্ট কাগজের কর প্রত্যাহারের দাবি ॥ অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় সংবাদপত্র ছাপানোর প্রধান কাঁচামাল নিউজ প্রিন্ট কাগজের ওপর কর প্রত্যাহার চেয়েছেন সম্পাদকরা। একই সঙ্গে তারা সংবাদপত্র শিল্পে কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাব বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনায় বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে এসব প্রস্তাব দেন বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকরা। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সম্পাদকরা ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়েও বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরামর্শ দিয়েছেন। তারা নিউজ প্রিন্ট কাগজের ওপর কর প্রত্যাহার করা যায় কিনা, সে বিষয়েও প্রস্তাব দিয়েছেন। নিউজ প্রিন্ট পেপারের ওপর কর কমিয়ে দেয়ার জন্য বলেছেন নঈম নিজাম। নাঈমুল ইসলাম খান সংবাদপত্র শিল্পে কর্পোরেট ট্যাক্স কমাতে বলার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছেন।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে (এনবিআর) করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে দেশের সংবাদপত্র শিল্পের দুর্দশা তুলে ধরে মূল কাঁচামাল নিউজ প্রিন্ট আমদানির শুল্কসহ পুরো করভার থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন পত্রিকার মালিকরা। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রাক বাজেট আলোচনায় এই প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের পত্রিকা মালিকদের সমিতিÑ নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক সমকালের মালিক একে আজাদ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রাক বাজেট আলোচনায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। ওই সময় একে আজাদ বলেন, সংবাদপত্র একটি সেবাধর্মী শিল্প। এই শিল্পের অধিকাংশ নিউজ প্রিন্ট আমদানি করতে হয়। কারণ দেশে মানসম্পন্ন নিউজ প্রিন্ট বানানো হয় না। এর ফলে নিউজ প্রিন্ট আমদানি করতে হয় এতে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্কের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম শুল্ক মিলে ৩০ শতাংশ কর দিতে হয়। তিনি বলেন, চলমান করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এই শিল্প এখন চরম চাপের মধ্যে পড়েছে। সেবামূলক এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে এই শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখছি। এই খাত থেকে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কর্পোরেট কর কর্তন করা হয়, এই কর হারও কমানোর প্রস্তাব করছি। জনকণ্ঠ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত