প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সব দোষ পুলিশের: বাকি সবাই দুধে ধোয়া তুলসি পাতা!

ডেস্ক রিপোর্ট : হঠাৎ ঝড় এলে যেমন পরিস্থিতি হয়, পথচারী নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড় দেন, দোকানি ঝাপ লাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মালামাল সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন, ঝড় চলে গেলে আবার সার্টার খুলে মালামালের পসরা সাজিয়ে বসেন। লকডাউনের অবস্থা অনেকটা তেমনি চলছে। পুলিশ এলে ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। গাড়ি চলে গেলে আবার আগের অবস্থা।

করোনার সংক্রমণরোধে গত বুধবার থেকে সারাদেশে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এই লকডাউনের প্রথমদিন যতটা কড়াকড়ি ছিল তা দ্বিতীয় দিনে অনেকটাই ঢিলেঢালা। প্রথম দিনে রাজধানীর রাজপথ ছিল ফাঁকা। গাড়ি চলাচল করেছে হাতেগোনা। তাও আবার সেগুলোকে বার বার পুলিশের চেকপোস্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মুভমেন্ট পাস দেখাতে না পারলে পুলিশ রাস্তা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে গাড়ি। পক্ষান্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকার রাস্তায় ছিল ভয়াবহ যানজট। পুলিশের শৈথল্যভাবের কারণেই এমন অবস্থা হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর মতিঝিল, দৈনিকবাংলা, ফকিরাপুল, শান্তিনগর, মগবাজার, কাওরানবাজার ঘুরে দেকা গেছে লকডাউনের ঢিলেঢালা ভাব। প্রথমদিন প্রধান রাস্তায় কোনো রিকশার দেখা না মিললেও দ্বিতীয় দিনে নগরীর প্রধান রাস্তা ছিল মূলত রিকশার দখলে। যদিও কোথাও কোথাও পুলিশকে রিকশা আটকাতে দেখা গেছে। কিন্তু এত রিকশা নেমে পড়েছে রাস্তায় যে কত আটকাবে? তাছাড়া ব্যক্তিগত কার চলাচল আগের দিনের তুলনায় অনেক বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন রাত পৌঁনে ৮টায় এমন চিত্র দেখা গেছে, রেডজোন খ্যাত রূপনগর আবাসিকের ১৭ নম্বর রোডে। পুলিশের গাড়ির সাইরেন শুনতে পেয়েই শুরু হলো ছোটাছুটি। রাস্তায় যারা আড্ডা দিচ্ছিলেন তারা যেনো দৌড়ে পালালেন, আর দোকানিরাও ঝাপ নামিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলেন। নিমিষেই ফাঁকা হয়ে গেলে গলির রাস্তাটি। যারাও দু’একজন পালাতে ব্যর্থ হলেন, পুলিশ তাদের ধমক দিতেই সরু গলিতে মিলিয়ে গেলেন।

পুলিশের গাড়িটি যেমন মন্থর গতিতে এলো তেমনি গতিতে বামে টার্ন নিয়ে অন্য গলি চক্কর দিয়ে মেইন রাস্তার দিকে ছুট দিলেন। ধীরে ধীরে সাইরেনের শব্দ বাতাসে মিলিয়ে গেলো। যারা পুলিশের গাড়ি দেখে সটকে পড়েছিলেন, তারাই আবার একে একে বেরিয়ে এলেন। নেতা গোছের একজন সিগারেট মুখে দিয়েই হাক ছাড়লেন, ওই চাচা গাড়ি গেছে গা, খুইলা ফালান।

ধীরে ধীরে মুদি দোকানগুলো খুলে গেলো। তবে প্রতিটি দোকানের অর্ধেক করে খোলা। রাস্তায় লোাজনের গেদারিং আগের অবস্থা ফিরল মিনিট পনরের মধ্যেই। এভাবে পুলিশের সঙ্গে চলছে লুকোচুরি । অন্যান্য গলির রাস্তায় প্রায় একই, মেইন রোডের চিত্র।

জনগণের যেনো কোনো দায় নেই। রাস্তায় যারা মহড়া দিচ্ছেন তাদেরকে কিছু বলারও লোকের বড়ই অভাব। গায়ে পড়ে কেউ ঝামেলায় জড়াতে চান না মহল্লার এই পুচকে নেতাদের সঙ্গে। অবস্থাটা এমন সব দায় যেনো পুলিশের। করোনা বেড়ে গেলে মনে হয় পুলিশের সমস্যা, জনগণের কিছু যায় আসে না। তাই তাদের গাছাড়া ভাব।

একটি বিষয় খুবই উদ্বেগের সেটি হচ্ছে আইন না মানার প্রবণতা। ছোট-ছোট অনেক আইন লঙ্ঘনকে না দেখার ভান করায় এই অবস্থা বলে মনে করছেন ওষুধের দোকানি জুয়েল মিয়া। তিনি বলেন, ঢাকার রাস্তায় উল্টোপথে চলাটা এখন জায়েজ হয়ে গেছে। কেউ কিছু বলে না। প্রতিবাদ করার শক্তিটুকু দিন দিন হারিয়ে ফেলছি, কিছু বলতে গেলে উল্টো পথের যাত্রী দুইগুণ শুনিয়ে দেবে। পলিথিন নিষিদ্ধ আইন, ধুমপান নিষিদ্ধ আইন কতো কিছু হলো কোনটি মানছে বলতে পারেন!
সূত্র-ইনকিলাব ও বার্তা২৪

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত