প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফিরে দেখা: মামলা প্রত্যাহার করে নেন আলমগীর কবির

ইমরুল শাহেদ: প্রয়াত সাংবাদিক, প্রযোজক ও পরিচালক আলমগীর কবিরের সাবেক স্ত্রী জয়শ্রী কবির তখন খুবই অসুস্থ। থাকেন মোহাম্মদপুরে। সেই সময়ে তিনি তার পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য এক সাংবাদিকের মাধ্যমে মোহাম্মদপুরের বাসাতেই এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে সাপ্তাহিক বিচিত্রার প্রতিনিধির উপস্থিতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক তেমনটাই জানালেন আমাকে।

যথা সময়ে আমি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে গেলাম এবং জয়শ্রী বক্তব্য শুরু করতেই আমার সঙ্গে থাকা ছোট টেপ রেকর্ডারটি অন করে দিলাম। রেকর্ডকৃত তথ্যের ভিত্তিতে বিচিত্রায় একটি প্রতিবেদন লিখলাম। তাতেই ক্ষেপে গেলেন আলমগীর কবীর। তৎকালীন সময়ে প্রায় সব পত্রিকাতেই জয়শ্রী কবিরের সংবাদ সম্মেলন লিয়ে লেখা হলেও জয়শ্রীর বক্তব্যের প্রতি গুরুত্বে দেওয়া হয়েছে কমই। শুধু বিচিত্রাতেই জয়শ্রীর বক্তব্যের প্রতিটি পয়েন্ট তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষ করে তাদের পুত্রকে নিয়ে। এতে সুযোগ পেয়ে গেলেন আলমগীর কবির। তিনি কোনো প্রতিবাদ করলেন না। বললেন না যে, জয়শ্রী মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। আলমগীর কবির বিচিত্রার সম্পাদক এবং প্রতিবেদক হিসেবে আমার বিরুদ্ধে প্রেস কাউন্সিলে সরাসরি মামলা করে দিলেন। মামলার অভিযোগে আমাকে হলুদ সাংবাদিক থেকে যতো নেতিবাচক শব্দ আছে সবই ব্যবহার করলেন। আমাদের সম্পাদক শাহাদত চৌধুরী আমাকে ডেকে নিয়ে আমার কাছে থাকা ক্যাসেটটির একটি কপি আইনজীবী খায়রুল ইসলামকে দিতে বললেন।

ইতোমধ্যে আমার হাতে আরো একটি প্রমাণ চলে এলো। জয়শ্রী আমাদের সম্পাদক বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমার আশা ছিল বিচিত্রায় অন্তত আমার বক্তব্য পুরো মুদ্রিত হবে। কিন্তু আলমগীর কবিরের প্রতি স্বজনপ্রীতি দেখিয়ে আপনারা আমার বক্তব্য আংশিক ছাপিয়েছেন। আমার পুরো বক্তব্য ছাপার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’ এই চিঠিটিও আইনজীবীর হাতে তুলে দিলাম। আইজীবী বললেন, ‘আর কিছু লাগবে না।’ মামলার প্রথম তারিখেই বিচিত্রার আইনজীবী আলমগীর কবিরকে বললেন, ‘আমার হাতে কিছু প্রমাণ আছে, যা আদালতে দেব।

চাইলে পরখ করে নিতে পারেন। তারপর সিদ্ধান্ত নেন।’ আলমগীর কবির খুব মনোযোগ দিয়েই ক্যাসেটটি শুনলেন এবং জয়শ্রীর চিঠিটিও দেখলেন। তারপর কিছুক্ষণ নীরব থেকে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেন। পরে আমি আলমগীর কবিরকে বলেছিলাম, ‘আমার কাছে সর্বাগ্রে আমার পত্রিকার মর্যাদা। তারপর সম্পাদকের প্রতিনিধি হিসেবে তার সম্মান রক্ষা করে চলা। নিজেকে নিরাপদে রাখার বিষয়টিও মাথায় রাখা।’ সে পথ আমি আজো অনুসরণ করে চলি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত