প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোলায় তরমুজের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

মনিরুজ্জামান: দ্বীপজেলা ভোলায় এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল পরিবেশ, ভালো জাত ও বীজ নির্বাচন, বাজারব্যবস্থা, রোগব্যাধি ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় ফলন ভালো হয়েছে এমন দাবি কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের। বিস্তৃত চরজুড়ে তরমুজ আর তরমুজ। গরমের শুরুতেই জনপ্রিয় এই ফলটির আবাদ শুরু করছেন চাষিরা। পুষ্টি ও ভেষজগুণ সম্পন্ন এ ফলটির বাজার দাম রয়েছে বেশ ভালো। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আশাবাদ এবছর বোরহানউদ্দিনে প্রায় ৫৬ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রিয় হবে।

বোরহানউদ্দিন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর উপজেলায় তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩০ হেক্টর। অর্জন হয়েছে ৩৪০ হেক্টর। কৃষি বিভাগ ও উৎপাদনকারীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, এবছর হেক্টরপ্রতি তরমুজ উৎপাদন হয়েছে ৫৫ মেট্রিক টন। সেই হিসেবে মোট উৎপাদন হবে ১৮ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। প্রতি মেট্রিক টন ৩০ হাজার টাকা দরে মোট বিক্রয়লব্ধ অর্থ হবে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, লতায় লতায় তরমুজ শুয়ে আছে । মনে হয় পাতার ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে কৃষকের হাসি।

বেপারিরা মাঠ থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। পুরো জেলার চাহিদা মিটিয়ে ভোলার তরমুজ চলে যাচ্ছে বরিশাল-ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর , বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম ও খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। মাঝের চরের কৃষক শাহাবউদ্দিন জানান, চলতি বছর তিনি ২৫ একর জমিতে তরমুজ করেন । এতে তার খরচ হয়েছে ১২ লাখ টাকা। তিনি ৩৫ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।

তিনি আরো জানান, এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় তরমুজ লাল টুকটুকে সহ বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়েছে। ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর কালেঙ্গার তরমুজ চাষী ইসুফ মাঝি জানান, তিনি ১ একর জমি থেকে ইতোমধ্যেই ৬৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছে। আরো প্রায় ১লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রির কথা চলছে। আরেক চাষী করিম মাঝি জানান, প্রায় ২ একর জমি থেকে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন।

একই ভাবে ওই চরের নান্নু মিয়া, কবির মিয়া, জানান, তারা বিগত বছরের চেয়ে পোকার উপদ্রব কম থাকায় এবছর ফলন ভালো হয়েছে। সিকদার চরের তরমুজ চাষী আবু হোসেন,বাচ্চু সর্দার,মাহে আলম বলেন, প্রতি পিচ বড় তরমুজ ২৫০ -৩৫০ টাকায় পাইকারি বিক্রি করেন। একই উপজেলার জয়নব বিবি নামে একজন নারী তরমুজ চাষী বলেন, তরমুজের দাম ভাল পাওয়ায় তিনি খরচ বাদ দিয়ে লাভের টাকা দিয়ে থাকার ঘর নির্মাণ করার কথা ভাবছেন।

পাইকারী ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, তরমুজের সাইজ বড় ও রোগ বালাই মুক্ত হওয়ায় তারাও ভাল দাম পাচ্ছেন।গরম আবহাওয়ার কারণে ক্রেতার চাহিদা তরমুজের প্রতি বেশি। ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন, বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, বিগত বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে তরমুজ চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলো। সে জন্য এবার চাষ কম হয়েছে,।

ফলন ভালো ও কাঙ্খিত বাজার দামে তারা খুশি । আগামি বছর গুলোতে চাষীরা আরো বেশি জমিতে তরমুজ চাষ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মোঃ এনায়েত উল্লাহ বলেন, অনুকূল পরিবেশ, ভালো বাজারব্যবস্থাপনা আর বৃষ্টি না হওয়ায় এ বছর তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। দাম রয়েছে সন্তোষজনক। সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে ভোলার কৃষকরা আরো বেশি তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত