প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৫ বছরের নিজ কন্যাকে ব্রিজ থেকে ফেলে দিলেন মা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : বুধবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের কাছে থাকা সফিকুল ইসলাম (৪০) এ সময় দ্রুত গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। নাগেশ্বরী থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মা লায়লা বেগম (৩৬) তার ৫ বছর বয়সী শিশুকন্যা সৌমিকে রাস্তার ব্রিজের ওপর থেকে পানিতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় তাকে আটক করে শিশুটিসহ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চত্বরে নিয়ে যায় স্থানীয় লোকজন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশে খবর দেন।

বেরুবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব জানান, বেরুবাড়ি বাজার-চর বেরুবাড়ি সড়কের ইউনিয়ন পরিষদের পার্শ্ববর্তী ব্রিজের ওপর থেকে নিজের শিশুকে ফেলে দেয় মা। সফিকুল শিশুটিসহ লায়লা বেগমকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসার পর থেকে তিনি কোনো কথা বলেননি। পরে শিশুটির কাছ থেকে নাম-পরিচয় জেনে খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশকেও ঘটনাটি জানানো হয়।

খবর পেয়ে শিশুটির পিতা খোকন খন্দকার (৪৫), তার ভাই ও পরিবারের অন্য লোকজন এবং স্থানীয় ইউপি মেম্বার ঘটনাস্থলে আসেন।

খোকন খন্দকার জানান, তারা পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ি উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর বালাবাড়ি গ্রামের অধিবাসী। তার স্ত্রী লায়লা বেগম মানিসকভাবে অসুস্থ। এ অবস্থায় বুধবার (১৪ এপ্রিল) সকালে পার্শ্ববর্তী কাশেমবাজার গ্রামে অবস্থিত বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে সৌমিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তার স্ত্রী। পরে জানতে পারেন বেরুবাড়িতে সৌমিকে ব্রিজ থেকে ফেলে দিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন লায়লা।

পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত শিশুটির বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঘুঘুরাম এলাকার বালারহাট বাজারের পাশে। তার বাবার নাম খোকন। তবে শিশুটির মা মানসিক ভারসাম্যহীন। ৯৯৯ এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজনকে ডেকে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে।

ওসি রওশন কবির জানান, শিশুটির মা মানসিক ভারসাম্যহীন। এ কারণে তিনি শিশুটিকে ব্রিজের ওপর থেকে পানিতে ফেলে দেন। এরপর খুব দ্রুত প্রত্যক্ষদর্শীরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং ওই নারীকে আটক করে। পরে ওই নারীর পরিবারকে হাজির করে শিশুটিসহ তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সর্বাধিক পঠিত