প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভারতের হরিদ্বারে কুম্ভ মেলায় লাখ মানুষের সমাগমে দু’দিনে কোভিড সংক্রমণ হাজার

রাশিদুল ইসলাম : [২] গত মঙ্গলবার ভারতের উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে করোনা আক্রান্ত হন ৫৯৪ জন। এর ফলে শহরে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮১২। সোমবার শহরে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪০৮ জন। মহাকুম্ভের ত্রয়োদশ দিন উপলক্ষে হরিদ্বারে এখন উপস্থিত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। সামগ্রিকভাবে উত্তরাখণ্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৯২৫ জন। মারা গিয়েছেন ১৩ জন। টাইমস অব ইন্ডিয়া

[৩] ভারতে চলছে কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভ। এরই মধ্যে রোজ পুণ্যস্নানের জন্য হরিদ্বারে গঙ্গার ঘাটে ভিড় করছেন হাজার হাজার মানুষ। গত সোমবার শাহী স্নান উপলক্ষে প্রায় এক লাখ মানুষ গঙ্গায় পুণ্যস্নান করেন। কোভিড বিধি সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে ওই বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েত হয়। পুণ্যার্থীরা প্রায় কেউই মাস্ক পরেননি। সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখেননি। পুণ্যার্থীদের মধ্যে ছিলেন কয়েক হাজার সাধু। তাঁরা ১৩ টি আখড়ার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।

[৪] মেলা প্রাঙ্গণে উত্তরাখণ্ড সরকার থেকে পোস্টার দিয়ে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘দাওয়াই ভি কড়াই ভি’। অর্থাৎ কোভিডের প্রতিষেধক নিতে হবে। সেই সঙ্গে কোভিড বিধিও মেনে চলতে হবে। কিন্তু পুণ্যার্থীরা অনেকে বলছেন, মেলার মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও অন্যান্য কোভিড বিধি মেনে চলা সম্ভব নয়।

[৫] মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তরাখণ্ডে সংক্রমিত হয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৭১ জন। মারা গিয়েছেন ১৭৮০জন। ভারতে পরপর সাতদিন এক লাখেরও বেশি মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। মঙ্গলবার জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৩৬ জন। মারা গিয়েছেন ৮৭৯ জন। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পর দেশে মারা গিয়েছেন মোট ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৮ জন।

[৬] ভারতে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র। বুধবার থেকে সেখানে ১৫ দিনের কার্ফু চালু হচ্ছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া রাজ্যের জায়গায় জায়গায় জারি থাকবে ১৪৪ ধারা।

[৭] ১৮৯৭ সালের মহামারী আইন ও ২০০৫ সালের বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের উল্লেখ করে রাজ্য জুড়ে যে কার্ফু জারি করা হয়েছে তার নাম ‘ব্রেক দ্য চেন’। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ১৪ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে ১ মে সকাল ৭টা অবধি রাজ্যজুড়ে কার্ফু বহাল থাকবে।

[৮] মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে তাঁর নির্দেশিকায় বলেছেন, সম্পূর্ণ লকডাউনের পথে না গিয়ে কড়া কোভিড বিধি চালু করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে। রাজ্যে নাইট কার্ফু চালু থাকলেও আক্রান্তের সংখ্যায় রাশ টানা যাচ্ছে না। তাই টানা ১৫ দিন কার্ফু জারি করে সংক্রমণের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। কার্ফু চলাকালীন রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ, সিনেমা হল-থিয়েটার, হোটেল- রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে। সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এই কয়েকদিনের বন্ধ রাখা হবে। জরুরি ভিত্তিতে গণপরিবহনে ছাড় থাকবে।

[৯] হাসপাতাল-নার্সিংহোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ওষুধ ও খাবারের দোকান, ডেয়ারি, বেকারি, মুদির দোকান ইত্যাদি জরুরি পণ্যের পরিষেবা চালু থাকবে। কোল্ড স্টোরেজ, এটিএম, পেট্রোল পাম্প, ই-কমার্স, পোস্টাল সার্ভিস ইত্যাদি চালু থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত