প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের মঙ্গল শোভাযাত্রা নববর্ষ উদযাপন

শাহীন খন্দকার, মহসীন কবির: [২] কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নের কারণে ছেদ পড়েছে এবার বাংলা নববর্ষ উৎসব পালনে। সব ধরনের উৎসবই বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা সীমিত পরিসরে বের করেছে প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রা। তারা বিভিন্ন মুখোশ ও প্রতীক নিয়ে অনুষদ প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বের করা হয় এ শোভাযাত্রা। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রতীকী এই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।

[৩] এই শুভযাত্রায় আরও অংশগ্রহণ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়াসহ চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

[৪] এসময়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত মঙ্গল শোভাযাত্রা। কিন্তু চলমান করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে এ বছর পহেলা বৈশাখ উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা আশা করি আগামীতে বাংলাদেশে আগের রূপে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে সক্ষম হবো।

[৫] এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কারণে জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে রমনার বটমূল, শিল্পকলা একাডেমি, হাতিরঝিল, বাংলা একাডেমিসহ উৎসবের রঙিন আঙ্গিনাগুলো ঢাকা রয়েছে স্বাস্থ্যবিধির চাদরে।

[৬] আর উদীচী, খেলাঘর, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, ছায়ানটসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোও গতবারের মতো এবারও উদযাপন থেকে নিজেদের বিরত রাখছে আনন্দ আর উদ্দীপনায়। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো এ উপলক্ষ্যে প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে সব কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে (এতিমখানা) উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

[৭] ছায়ানট তাদের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে স্বল্প পরিসরে বৈশাখ বরণ করেছে। ছায়ানটের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল দর্শকশূন্য অবস্থায় অথবা পরিস্থিতি আরও বেশি প্রতিকূল হলে পহেলা বৈশাখের ভোরের অনুষ্ঠান আগেই রেকর্ড করে নেওয়া। সে লক্ষ্যে সম্মেলক দলের নিয়মিত মহড়াও চলছিল।

[৮] কিন্তু করোনা পরিস্থিতির ক্রমান্বয় অবনতি এবং সরকারের সতর্কতামূলক বাস্তবিক সিদ্ধান্তের কারণে তারা সেটা করতে পারননি। এছাড়া বেশ কজন শিল্পী ও কর্মীও করোনা-আক্রান্ত। দেশবাসী ও শিল্পীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিরুপায় হয়ে তারা তাই ডিজিটালি বৈশাখ উদযাপন করেছে। রেকর্ড করা এক ঘণ্টার অনুষ্ঠানমালা পয়লা বৈশাখে সকাল ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রচার করেছে। একইসাথে ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলেও অনুষ্ঠানটি দেখা গেছে। এদিকে তরুণ প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরাও এবার ভার্চয়ালী বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে এবার বৈশাখ পালন করছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত