প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ: ক্ষতির মুখে ২৫ হাজার বিদেশগামী কর্মী

নিউজ ডেস্ক: কভিড-১৯-এর সংক্রমণ পরিস্থিতিতে আজ থেকে এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ হচ্ছে আন্তর্জাতিক রুটের বাণিজ্যিক ফ্লাইট। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদেশগামী প্রায় ২৫ হাজার কর্মীর ওপর। প্রত্যেক কর্মীই উচ্চমূল্যে টিকিট ক্রয়ের পাশাপাশি কোয়ারেন্টিনের জন্য হোটেল বুকিংও দিয়েছেন। হঠাৎ ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় এসব কর্মী টিকিটের মূল্য কিংবা হোটেল বুকিংয়ের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে রয়েছেন শঙ্কায়।

জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, হঠাৎ ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় নতুন কর্মীরা যেমন শঙ্কায় পড়েছেন, তেমনি বিপদে পড়েছেন ছুটিতে আসা কর্মীরাও। কারণ যারা ছুটিতে এসেছিলেন তাদের ভিসা, আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। ঠিক সময়ে ফিরতে না পারলে আকামার মেয়াদ নবায়ন করা নিয়েও সমস্যায় পড়বেন তারা। কারণ এক সপ্তাহ পর যদি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুও হয়, সেক্ষেত্রে নতুন করে টিকিট পাওয়াটাও সহজ হবে না। করোনার কারণে ফ্লাইট কম থাকায় আগে থেকেই টিকিটের সংকট রয়েছে। আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে বাতিল হওয়া প্রায় ২৫ হাজার বিদেশগামী কর্মীর টিকিট জোগাড় করা দুরূহ হবে। যারা টিকিট পাবেন, তাদেরও কিনতে হবে উচ্চমূল্যে।

এ বিষয়ে জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) মহাসচিব (সদ্য বিদায়ী) শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, আন্তর্জাতিক রুটের সব ফ্লাইট বন্ধ করায় ছুটিতে আসা কয়েক হাজার প্রবাসীর নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে নতুন করে বিদেশে যাচ্ছেন এমন কর্মীরাও। তিনি বলেন, গত জানুয়ারি থেকে যে হারে অভিবাসন হচ্ছিল, তাতে এক সপ্তাহে ১৫ থেকে ১৭ হাজার নতুন কর্মী বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। আবার পুরনো কর্মী যারা ছুটি কাটিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরেন, তাদের সংখ্যাও সপ্তাহে প্রায় পাঁচ-সাত হাজার। সে হিসেবে এক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকলে সংকটে পড়বেন প্রায় ২৫ হাজার বিদেশগামী কর্মী।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে রফতানি হয়েছে ৩৫ হাজার ৭৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৯ হাজার ৫১০ এবং মার্চে ৬১ হাজার ৬৫৩ জন। চলতি এপ্রিলের প্রথম ছয়দিনে জনশক্তি রফতানি হয়েছে ১৩ হাজার ২১ জন।

চলতি বছর নতুন কোনো বড় শ্রমবাজার না খোলায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যই এখনো মূল ভরসা। চলতি বছর এ পর্যন্ত বিদেশে রফতানি হওয়া কর্মীর প্রায় ৭০ ভাগই গেছেন সৌদি আরবে। এর পরই রয়েছে সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমানসহ আরো কয়েকটি দেশ।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে গত বছর মার্চের শেষ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জনশক্তি রফতানি প্রায় বন্ধ ছিল, যা পরবর্তী সময়ে গত নভেম্বরে কিছুটা গতি পায়। গত বছর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিদেশে জনশক্তি রফতানি হয় যথাক্রমে ৬ হাজার ৫৭০ ও ২৮ হাজার ৩৯৮ জন।

এদিকে ছুটিতে আসা এবং নতুন ভিসাপ্রাপ্ত প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে যাওয়ার ফ্লাইট অব্যাহত রাখার দাবি জানাতে গতকাল জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)। -বণিক বার্তা

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত