প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসান মোরশেদ: আওয়ামী লীগ যদি তার লড়াকু চেহারায় ফিরে আসে গল্প একরকম

হাসান মোরশেদ: এই আলাপটা পুরনো, বেশ কয়েক বছর আগে শুরু করেছিলাম। বিদগ্ধ কয়েকজন উপহাসের হাসি হেসেছিলেন, আওয়ামী লীগের দালাল তকমাও শুরু করেছিলেন তখন। বলছিলাম, আওয়ামী লীগ একটা বিশাল অজগরের মতো কাঠামো। পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রায় পুরোটা কাটিয়ে সেই রাষ্ট্র ভেঙে দিয়ে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ জন্ম দিয়ে নানা ঘাত প্রতিঘাত ও দুই দুইটা সামরিক শাসন মোকাবেলা করে তার টিকে থাকা। এই রাষ্ট্র, এই সমাজ, এই জনমানসে আওয়ামী লীগের চেয়ে সম্পৃক্ত আর কেউ নেই। এই আওয়ামী লীগের ভেতর শুভ অশুভের দ্বন্ধ আছে। শুভ শক্তি যখন জোরালো হতে পারে তখন বাংলাদেশের জন্য ভালো, অশুভ শক্তি জোরালো হলে আওয়ামী লীগের যাই হোক বাংলাদেশের জন্য খারাপ।

‘অকুপাই আওয়ামী লীগ’ যে তত্ত্বের কথা বলি সে তত্ত্ব ও নতুন নয়। কমিউনিস্টরাও পঞ্চাশের দশকে আওয়ামী লীগের ভেতরে ঢুকে আওয়ামী লীগ দখল করতে চেয়েছেন। না পেরে তারা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিকেই আওয়ামী লীগ থেকে সরিয়ে নিয়ে ন্যাপ করেছেন। আওয়ামী লীগ কমিউনিস্ট মুক্ত হয়ে যখন মধ্যপন্থী জাতীয়তাবাদী দল হিসেবে নিজেকে অসামান্য শক্তিশালী করে তুলেছে তখন কমিউনিষ্টদের এক অংশ আবার আওয়ামী লীগের সহযোগী হয়েছেন, এক অংশ চিরতরে বিরোধী হয়ে গেছেন।

’৫০, ’৬০ এর সেই যুগ ছিলো বিশ্বজুড়ে কমিউনিজমের হাওয়া। এই যুগ ইসলামিজমের জোয়ার, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো। যেহেতু আওয়ামী লীগ নামক বিশাল সংগঠনটি এখনো দোর্দন্ড প্রতাপে আছে সেহেতু সে যুগের কমিউনিস্টদের মতো এ যুগে ইসলামিস্টরাও চাইবেন এই কাঠামো দখলে নিতে। অনেক বছরের অভিজ্ঞতায় তারা বুঝে গেছে, এই কাঠামোর শেকড় এতো পোক্ত একে ধাক্কা দিয়ে ফেলা যাবে না। অতএব দখল করতে পারলেই লাভ। দখলের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৩ থেকে। এতে অবশ্যই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের ভূমিকা আছে। কঠিন করে বললে, তারা এই কাঠামো বিক্রি করে দিতে চেয়েছেন। আর বেনিফিট অফ ডাউট নিয়ে বললে, তারা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী বরং ইসলামিস্টদের কৌশলে ব্যবহার করতে সক্ষম হবেন।

ফিরে আসি মুল আলাপে। শুভ অশুভের দ্বন্ধে। এটা অনিবার্য। সংঘর্ষ অনিবার্য আওয়ামী লীগের নিজের ভেতর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম,  নারায়নগঞ্জ, মাদারীপুর, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, শাল্লা সবখানেই আমরা দেখছি- আওয়ামী লীগের এক সময়ের প্রশ্র দেওয়া হেফাজত এখন এতোটাই প্রবল যে আওয়ামী লীগ কর্মীরাই লাঞ্চিত হচ্ছে তাদের হাতে। আওয়ামী লীগের পদ-পদবি দখল করে নিয়েছে হেফাজতের লোক, আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনের যারা এদের বিরোধিতা করছেন তাঁরা প্রহৃত হচ্ছেন। এমনকি প্রান্তিক পর্যায়ে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।

তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ কর্মীদের চাপে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সাহসী কথাবার্তা বলতে হচ্ছে, কিছু ভূমিকা রাখতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এগুলো কতোটা আন্তরিক, কতোটা কার্যকর, কতোটা দীর্ঘমেয়াদী সে সবের ওপর অনেক কিছু এমনকি আগামী দিনের বাংলাদেশের চেহারা কী দাঁড়াচ্ছে সেটাও নির্ভর করে। আওয়ামী লীগ যদি তার লড়াকু চেহারায় ফিরে আসে গল্প একরকম আর যদি পুরোপুরি দখল হয়ে যায় তাহলে গল্প আরেক রকম। বাদবাকি যারা আছেন তারা দুধভাত। তারা হেফাজতের বিরুদ্ধে স্পষ্ট করে কিছু বলবেনা, তৃণমূলে তারা লাঞ্চিত হবে না, প্রতিবাদ/প্রতিরোধ ও গড়ে তুলবে না।  সবকিছু স্থির হয়ে গেলে পর হাওয়া বুঝে তারা তাদের পাল উড়াবে।

যেকোনো সংকটে অনেকগুলো দ্বন্দ্ব থাকে। এর মধ্যে প্রধান দ্বন্দ্বটি চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী কর্মপন্থা স্থির করা, এটা কমিউনিস্ট রাজনীতির মৌলিক ব্যাকরণ। ইতিহাস সাক্ষী এই মৌলিক দ্বন্দ্ব চিহ্নিত করতে তারা সবসময়ই ভুল করেছে। হয় এটা তাদের রাজনৈতিক বিচার বুদ্ধির অভাব অথবা ইচ্ছে করেই করে যাতে ঝুঁকি নিতে না হয়। মামনুল হকদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা না বলে তার ‘পার্সোনাল স্পেইস’ এ সরকারের হস্তক্ষেপ নিয়ে কথা বলা নিরাপদ। সরকারের মাইরের একটা ব্যাকরণ আছে, হেফাজতের মাইরের তো কোনো ব্যাকরণ নেই। এই ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। বরং তত্ত্ব না পড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের কিছু মাথা গরম লোকজন ঝুঁকি নিক। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত