প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পৃথিবীজুড়ে চক্রাকারে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা

লিহান লিমা: [২] আমাদের ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল ও প্যাকেট থেকে বের হওয়া ক্ষুদ্র কণা বাতাসের সাহায্যে পুরো মহাদেশজুড়েই ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে নতুন গবেষণায় দেখা গিয়েছে। সিএনএন

[৩]আমাদের ব্যবহৃত বেশিরভাগ প্লাস্টিক বর্জ্য চলে যায় ভূমিতে, যেগুলো পরে জ্বালিয়ে দেয়া হয় বা পুনব্যবহারযোগ্য করা হয়, তবে এর ১৮শতাংশই পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায়। যেহেতু প্লাস্টিক সহজে ক্ষয়যোগ্য না, তাই এটি নিঃশেষ হওয়ার পরিবর্তে ছোট থেকে ছোটতর হয় এবং একসময় বাতাসে প্রবাহিত হওয়ার মতো ক্ষুদ্রাকৃতির হয়ে থাকে।

[৪]উটাহ স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, ‘বিশ্বব্যাপী জৈব্য রাসায়নিক চক্রের মতো প্লাস্টিগুলো এখন বিশ্বজুড়ে ভেসে রয়েছে।’ অর্থাৎ সমুদ্রে ও ভূমির বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়া প্লাস্টিকগুলো এখন ভেঙে ক্ষুদ্রাকৃতির হয়ে পড়েছে এবং সেগুলো এখন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, যা বাস্তুতন্ত্র ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।’

[৫]গবেষণার প্রধান লেখক জেনিস ব্র্যানলি বলেন, ‘আমরা পৃথিবীর প্রত্যেক স্থানে প্লাস্টিকের প্রচুর দূষণ খুঁজে পেয়েছি, এটি বায়ুমÐলের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীজুড়েই ছড়িয়েছে। এবং এই প্লাস্টিকগুলো নতুন নয়, এগুলো সেগুলো যা আমরা গত কয়েক দশক ধরে পরিবেশে ফেলেছি।’

[৬]গবেষকদল দেখেন, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালে শুধুমাত্র পশ্চিম আমেরিকায়ই প্রতিবছর ২২ হাজার টন প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা জমা হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে সমুদ্র সৈকতে পানির উপরিস্তরে থাকা প্লাস্টিকের কণার পরিমাণ ১৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন। যেগুলে ঢেউ ও বাতাসের সাহায্যে বায়ুমÐলে মিশে যায়। এছাড়া বড় শহরগুলোতে বাতাসের মাধ্যমে, কৃষিকাজের সময় মাটির ধূলিকণায় সাহায্যে এই প্লাস্টিকগুলো বায়ুমÐলে মিশে যায়।

[৭]গবেষণায় দেখা গিয়েছে, একবার বায়ুমÐলে প্রবেশ করলে এগুলো সাড়ে ৬দিন পর্যন্ত বায়ুবাহিত থাকতে পারে এবং এই সময়ের মধ্যে তারা এক মহাসাগর থেকে অন্য মহাসাগরে ও এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম।

[৮]গবেষণাটি বলছে, ভূমিভিত্তিক প্লাস্টিক বর্জ্যরে হটস্পট যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ভারত ও পূর্ব এশিয়া। অনদিকে বায়ুবাহিত প্লাস্টিকের মূল উৎস হলো যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল, ভূমধ্যসাগর ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া।মাইক্রোপ্লাস্টিলের ধূলো ও কৃষিজনিত উৎসের জন্য দায়ী উত্তর আফ্রিকা ও ইউরেশিয়া। গবেষণায় বলা হয়, জনবহুল অঞ্চলগুলোতে যানজট মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বহুলাংশে দায়ী।

[৯]গবেষকরা বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক মাটি ও উদ্ভিদের উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করা ছাড়াও উদ্ভিদ ও জীবজন্তুকে গ্রাস করে এবং দূষকপদার্থগুলোর জন্য উজ্জীবনি শক্তি হিসেবে কাজ করে। প্লাস্টিকের এই ক্ষুদ্র কণা মানুষে ফুসফুসের মারাত্মক জটিলতাসহ অন্যান্য রোগের জন্ম দিতে পারে।

[১০]গবেষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়নের আহŸান জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত