প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনা শঙ্কায় ঝুঁকিতে গর্ভবতী নারী ও শিশু

আশরাফ আহমেদ:[২] মহামারী কোভিড -১৯সংক্রমণের আতঙ্ক নিয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটছে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের । এরিই মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে দেশের গর্ভবতী মা ও তাদের গর্ভের শিশুরা। ভয়াবহ করোনার প্রাদুর্ভাবে দেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী্রা করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা নিয়ে ব্যস্ত।

[৩] যার দরুন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের শিশু জন্মের জন্মদাত্রী ও দক্ষ লোকবলের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দেশে সরকার লকডাউন কর্মসূচি গ্রহণ করায় হাসপাতাল ও মাতৃসদন কেন্দ্রগুলোতেও এখন মা ও শিশুদের কাঙ্খিত সেবা দেওয়া হচ্ছেনা।

[৪] যদিও জরুরি সেবামূলক কার্যক্রমে হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ,ফার্মেসি খোলার অনুমতি থাকলেও মানুষ ভয় ও আতঙ্কে ঘর থেকে বাহির হচ্ছে না।তাই এই সময়ে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গর্ভের শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছেন।

[৫] আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ বলেছে, বৈশ্বিক মহামারী করোনা কালে বাংলাদেশের প্রসূতি মা ও শিশুদের কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা জেসমিন আক্তার করোনা সংক্রমনের আতঙ্কে শরীর চেকআপ করতে চিকিৎসকের নিকট যাননি। তিনি বলেন, আমার শ্বাসকষ্ট রোগ আছে, তাই খুব আতঙ্কে আছি।

[৬] এ নিয়ে খুব টেনশনে আমি মানসিক অসুস্থ হয়ে পড়েছি। একবার হাসপাতালে যাওয়ার পর লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ফুলে যায় তবুও ডাক্তারের দেখা পায়নি।সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনা সংক্রমণের কারণে গর্ভে শিশুদের নিয়ে গর্ভবতী মায়েরা উৎকণ্ঠায় আছেন।

[৭] গর্ভবতী মায়েরা যখন একটি নতুন জীবন আনার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন ঠিক সেই সময়ে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে মায়েরা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন। তবে আমরা সব ধরনের রোগীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেবা দিতে সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

[৮] স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, করোনা সংকট শুরুর পর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে মাতৃত্ব ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। উল্লেখ্য ৬৩ জেলা হাসপাতালে মধ্যে মাত্র ৩৩ টি তে এসব ধরনের জরুরি গর্ভকালীন ও প্রসূতি সেবা দেওয়া হচ্ছে।

[৯] বাংলাদেশ ইউনিসেফের প্রতিনিধি হোয়ুমি বলেন, কোভিড -১৯পরিস্থিতির কারণে হাসপাতাল গুলোর উপর চাপ সত্ত্বেও অন্তঃসত্ত্বা মা ও নবজাতকের জীবনরক্ষাকারী রুটিন সেবাগুলো যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে অব্যাহত রাখা দরকার। অসুস্থ নবজাতকের জরুরি সেবা লাগবে। কারণ তাদের মৃত্যু ঝুঁকি বেশি থাকে।

[১০] এছাড়াও বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করার জন্য সহায়তা এবং সুস্থ রাখতে ওষুধ, টিকা ও পুষ্টি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।অফসটেট্রিক্যাল এন্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি রওশন আরা বেগম বলেন, এখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিসেবা কমায় আরও অতিরিক্ত ৩৮শতাংশ প্রসব হচ্ছে বাড়িতে। এতে মাতৃমৃত্যু এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত