প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চুয়াডাঙ্গায় আইনজীবী ও বিচারকদের দ্বন্দ্বে প্রায় একমাস বন্ধ জেলার বিচারিক কার্যক্রম

সোহেল রানা:[২] নাজির নিয়োগকে কেন্দ্র করে আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের পর আইনজীবীদের টানা আন্দোলনে ভেঙে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার বিচার ব্যবস্থা। একটানা ২৫ দিনের আন্দোলনে চরম হতাশা ও বিড়ম্বনার মধ্যে আছে এ জেলার বিচার প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় বন্ধ রয়েছে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সব মামলার কার্যক্রম।

[৩] দ্রুতই এ বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে দেখা দিতে পারে চরম মামলা জট। তবে আশার কথা হলো- গত ৭ এপ্রিল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এদিকে, এ ঘটনায় একটুও ছাড় দিতে নারাজ আইনজীবীরা। আদালতের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি জেলার আইনজীবী নেতাদের।

[৪] তবে আদালত খোলা থাকলেও অফিসের কাজ ছাড়া নেই বিচারিক কার্যক্রম।সোমবার (১২ এপ্রিল) আদালত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আইনজীবীদের টানা ২৫দিনের আন্দোলনে চরম হতাশা ও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছেন শত শত বিচার প্রত্যাশীরা। আদালত বন্ধ থাকায় শত শত মুহুরীদেরও চাপাকষ্ট বেড়েছে। মন্দায় পড়েছে আদালত এলাকা ঘিরে গড়ে ওঠা ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।

[৫] তেমনি এক বিচারপ্রত্যাশী সদর উপজেলার জালশুকা গ্রামের আশকার আলী জানান, মাদক সেবনের মামলায় তাঁর ছেলে জেলে আছে। আদালত চললে এতোদিনে তাঁর ছেলের জামিন হয়ে যেত। কিন্তু আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধে আদালত বন্ধ থাকায় তার ছেলের জামিন আটকে আছে।

[৬] বিচারপ্রত্যাশী দামুড়হুদার আরিফুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন আগে আরামপাড়ার জব্বারুল ইসলাম পল্টু নামে তাঁর এক আত্মীয়কে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে জেলখানাতে পাঠানো হয়। তাঁকে জামিন করানোর জন্যই কোর্টে এসেছেন তিনি। আন্দোলনের ফলে আজও তাঁর জামিন আবেদন করা হলো না। আফসোস আর বিরক্তি নিয়েই তিনি বাড়ি ফিরলেন।

[৭] এদিকে আদালত এলাকার আসমান নামের এক ফাস্ট ফুডের দোকানি বলেন, আদালত বন্ধ থাকায় তাঁদের বেচা-বিক্রি একদম শূন্যের কোঠায় নেমেছে। দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারী খরচ দিয়ে এ মাসে দোকান ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর উপায় নেই তাঁদের।

[৮] এছাড়াও আদালত এলাকার ফটোকপির দোকান, ছোট বড় খাবারের হোটেল, চায়ের দোকান, ভ্রাম্যমাণ ডাব ব্যবসায়ী, বাদাম-চানাচুর বিক্রেতারাও পড়েছেন চরম অর্থকষ্টে। তাই তাদেরও দাবি দ্রুত এই দ্বন্দ্ব নিরসন হোক।জানা যায়, গত ১৫ মার্চ অবসরজনিত ছুটিতে যান বিচারক রেজা মোহাম্মদ আলমগীর হাসান। অথচ পরদিন সকালে জেলা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী নুরুল হক রাতে স্বাক্ষর করা একপত্র নিয়ে এসে বলেন, তাঁকে নাজিরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

[৯] বিষয়টি নিয়ে ওই আদালতের অন্য কর্মচারীদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি হলে তিনি আর যোগদান করতে পারেননি। যোগদান করতে না পেরে আইনজীবীদের কাছে বিষয়টি জানান তিনি। পরদিন ১৮ মার্চ নাজির দাবি করা বেঞ্চসহকরী নুরুল হক ও আইনজীবী নেতারাসহ কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত জেলা জজের খাস-কামরায় গিয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

 

 

সর্বাধিক পঠিত