প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কালকিনিতে দখলে-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে নদী ও খাল

এইচএম মিলন: [২] মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা সদরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত কুমাড় খাল ও পালরদী নদীর বিভিন্ন স্থান ভরাট ও দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দখল ও দূষণের ফলে বিভিন্ন অংশে পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়ে খাল ও নদীর অস্তিত্ব এখন সংকটের মুখে পড়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় প্রতিবেশ-পরিবেশ।

[৩] অনুসন্ধানে জানাগেছে, উপজেলা সদরের পুরান বাজার এলাকা দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের সরস্রোতারা কুমাড় খাল এবং বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পালরদী ছোট নদী সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত। স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্র কুমার খাল ও পালরদী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট কৌশলে ভরাট করে দখল করছে। গত ২০-২৫ বছরের ব্যবধানে এসব খাল ও নদীর আশপাশ ভরাট করে পাকা ভবন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে।

[৪] সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে উপজেলা সদরের পৌরসভার পালপাড়া, বড়ব্রীজ এলাকা, মাছবাজার এলাকা, সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন, ঝাউতলা ও রাজদী এলাকাসহ অধিকাংশ এলাকায় সরকারি সম্পত্তি দীর্ঘদিন ময়লা আর্বজনা ফেলে কৌশলে ভরাট করে দখল করা হচ্ছে। এক সময় শতাধিক পুকুর ও জলাশয় থাকলেও এর অধিকাংশই এখন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে যে কয়েকটি পুকুরের অস্তিত্ব রয়েছে তার অধিকাংশের পানি ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া দুপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা এ খালটিতে বর্জ্য ফেলে ভরাট হওয়ার কারনে শুখিয়ে গিয়ে পানি প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

[৫] কালকিনি বাজারের ব্যবসায়ী আশরাফুর, টুলু তালুকদার ও সুমনসহ অন্তত ১২ জন বলেন, স্থানীয় ভূমিদস্যুরা পরিকল্পিতভাবে প্রথমে ময়লা-আবর্জনা ফেলে নদী ও খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে। ময়লা আর্বজনার পচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ বিষেয় উঠেছে। তারপর রাতারাতি ময়লা-আর্বজনার ওপর মাটি ফেলে দোকানপাট ও বাসাবাড়ি গড়ে তুলছেন। অনেকেই বহুতল পাকাবাড়ি নির্মাণ করেছেন।

[৬] পরিবেশবাদী জসিম উদ্দিন বলেন, ময়লা আর্বজনা ফেলে সরকারি খাল ও নদী দখল করতে পারবে না। এলাকার পক্ষে কেউ অভিযোগ দিলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে খাল-নদী উদ্ধারসহ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[৭] কালকিনি সদরের কুমাড় খাল সম্পর্কে নবনির্বাচিত মেয়র এস এম হানিফ জানান, ময়লা-আর্বজনা ফেলার জন্য পৌরসভার নির্দিষ্ট কোন জায়গা না থাকায় অনেকেই খাল-নদী ভরাট করছে। পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দখল হওয়া খাল ও নদী উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[৮] এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, সরকারি খাল ও নদীসহ কোনো সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় দখলের কোনো সুযোগ নেই। যারা অবৈধভাবে এসব স্থাপনা দখলে রেখেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এসব স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হবে। তবে এলাকাবাসী অভিযোগ করলে পৌরসভার সাথে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত