প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান: মহামারির মোকাবেলা চিকিৎসকদের ত্যাগ জাতি মনে রাখবে

অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান: করোনার উৎপত্তিস্থল চীন। ২০১৯ সালের শেষের দিক থেকে মারণঘাতী ভাইরাস বিশ্বে ছড়িয়েছে। ২০২০ সাল বিশ্বের জন্য এক ভয়াবহ দুঃসময়ের বছর। এই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে লাখ লাখ লোক মানুষ মারা গেছে। কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এক অনিশ্চিয়তার চূড়ান্ত রূপ ছিলো ২০২০ সাল। কেউ জানতো এই রোগ কীভাবে সারবে। কীভাবে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। কীভাবে চিকিৎসা হবে রোগী। কী চিকিৎসা করবেন চিকিৎসকেরা। সকলেই অপ্রস্তুত ছিলেন। আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইতালির মতো শক্তিশালী দেশও কাবু হয়েছিলো এই রোগে। এক অমানিশার অন্ধকারে পতিত হয়েছিলো বিশ্ব।

করোনার ভয়াল থাবা থেকে বাংলাদেশও রক্ষা পায়নি। ২০২০ সালের ৮ মার্চ করোনা শনাক্ত হয় আমাদের দেশে। করোনাভাইরাস বিশ্বে ছড়াচ্ছে, চীন থেকে এর ভয়াবহতা আমরা পাচ্ছিলাম, কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না ভারতীয় উপমহাদেশেও এই রোগ ছড়াবে কিনা, ছড়ালেও এর ক্ষয়ক্ষতি কী হবে। কীভাবে সুরক্ষা পাবো- সবকিছু নিয়ে স্টাডি পর্যায়ে ছিলো। উহানে করোনার ভয়াবহতা ছড়িয়ে যখন ইতালি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলো, সঙ্গত কারণে বাংলাদেশও সতর্ক হয়ে গিয়েছিলো। পাশাপাশি প্রস্তুতিও গ্রহণ করতে থাকে। যতোটুকু সম্ভব বাংলাদেশকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা চলতে থাকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সবকিছু চলতে থাকে।

করোনা শনাক্তের প্রথম দিকে আমরা শৃঙ্খল ও সমন্বিতভাবে সবকিছু চালাতে পারিনি। ফলে আমাদের কিছু সমস্যা হয়েছে। চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্ট পাচ্ছিলেন না। কিছুটা অসহায় হয়ে পড়েছিলেন তারা। অনেক চিকিৎসক সেবা দিতে গিয়ে নিজের প্রাণ হারিয়েছেন। জীবন দিয়েছেন মানবসেবা করতে গিয়ে। বহু চিকিৎসক দুর্বিষহ সময় কাটিয়েছেন। পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। ধীরে ধীরে আমাদের করোনা চিকিৎসা বিশে^র সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়েছে। যার ফলে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে সংক্রমণ হার একপর্যায়ে তিন শতাংশেরও নিচে নেমে আসে। এটা ছিলো আমাদের জন্য বিরাট অর্জন। এটা সম্ভব হয়েছে সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে কারণে। এখন করোনার সংক্রমণ কিছুটা বাড়তে শুরু করলেও এখনো এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে ২০তম অবস্থানে আছি। এই র‌্যাংকিং আমাদের করোনা নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতার তথ্যই তুলে ধরে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে আমরা ভ্যাকসিন পেয়েছি ফেব্রুয়ারি থেকেই। এটা বাংলাদেশের জন্য বিরাট এক অর্জন। কারণ বিশ্বের ১৩০টির মতো এখনো ভ্যাকসিনের বাইরে আছে। কানাডার মতো দেশ যেখানে ভ্যাকসিনের জন্য হাহাকার করছে, সেখানে আমরা প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন তাদের প্রথম ডোজ। দ্বিতীয় ডোজও দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। মানুষ টিকা দিচ্ছে। টিকা আসছে। ধীরে সব মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। এই যে মানুষ উৎসাহের সঙ্গে টিকা নিচ্ছেন, এটা কম কথা নয়। কারণ টিকা নিয়ে অনেক গুজব রটানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু রটনাকারীরা বিজ্ঞানের কাছে পরাজিত হয়েছে।

আমরা টিকা নিচ্ছি। করোনা সংক্রমণও অনেকাংশে কম অন্য দেশের তুলনায়। ফলে আমরা কি আত্মতুষ্টিতে ভুগবো? না। আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। বরং নতুন যে স্ট্রেইন আমাদের এখানে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে, কীভাবে সংক্রমণ হার কমিয়ে রাখা যায়, কীভাবে সাধারণ আবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে, সে ব্যাপারে সরকারি দিকনির্দেশনাগুলো বারবার প্রচার করতে হবে। মানুষকে জানাতে হবে। উৎসাহিত করতে হবে। আগ্রহী করে তুলতে হবে। করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। কোনোভাবেই যাকে করোনা আবারও আমাদের জীবন গতি হ্রাস করে না দিতে পারে, এটার দিকে খেয়াল করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, করোনা এখনো যায়নি। টিকা আবিষ্কার হলেও সব মানুষ এখনো টিকার আওতায় আসেনি। ফলে সতর্কতা অবলম্বন ছাড়া আমাদের রক্ষা নেই। কারণ নতুন স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে টিকার পুরো কাজ করছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাহলে আমাদের অবহেলা করার সুযোগ ঠিক নেই।

করোনা মোকাবেলা আমরা আপাতত সফল হলেও অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। সব মানুষকে টিকা দিয়ে দেশকে সুরক্ষিত করা না পর্যন্ত আমাদের সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। সরকারি- বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তার মানবিক সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যেতে হবে। করোনার চিকিৎসকেরা যে ভূমিকা পালন করেছেন তা অনবদ্য। তাদের এই ত্যাগ ও অবদান জাতি মনে রাখবে। জাতি মনে রাখবে একজন শেখ হাসিনাকেও। তার নেতৃত্ব বাংলাদেশকে আজ অনেক নিরাপদ রেখেছে। জাতির জনক যে ত্যাগের দীক্ষা আমাদের দিয়ে গেছেন, তা যদি আমরা মনে রেখে এগোতে পারি, তাহলে আমরা এগোবোই। কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত সফল আমরাই হবো।  পরিচিতি : সভাপতি, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত