প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমি অন্তঃসত্ত্বা, চিরকুট লিখে আত্বহত্যার ৫ মাসেও গ্রেফতার হয়নি কোনো আসামি

তপু সরকার হারুন:  রাশেদের সন্তান আমার পেটে স্কুলছাত্রী ,চিরকুট লিখে আত্মহত্যা ৫ মাসেও গ্রেফতার হয়নি কোন আসামি। ঋতু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরেও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয় সে ধর্ষিত হয়নি এবং সে অন্তঃসত্ত্বা ছিলনা । এমনই ঘটনা ঘটেছে গার্মেন্স শ্রমিক ” “মা”আকলিমার সন্তান রাত্রি রহমান ঋতুর ।

রাশেদকে তুমি বাঁচতে দিও না আম্মু। রাশেদের বাচ্চা আমার পেটে’ এমন একটি চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছে শেরপুরের ভাতশালা ইউনিয়নের স্থানীয় নতুন কুড়ি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ঋতু (১৪)

রাশেদ আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছে। রাশেদ এর কারণে আমি আমার জীবন শেষ করে দিলাম। স্কুল ছাত্রী রাত্রি ওরফে ঋতু।

২০ সালের ১০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে ওই এলাকা থেকে তার মরদেহ ও একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি।

ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের কুঠুরাকান্দা পশ্চিমপাড়া এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলার কুঠুরাকান্দা পশ্চিমপাড়া এলাকার ঢাকায় অবস্থানরত ব্যবসায়ী রহমতুল্লাহ’র মেয়ে ওই স্কুল ছাত্রীর সাথে পূর্বপাড়া এলাকার অপর স্কুল ছাত্র রাশেদের সাথে দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে তার।

এক পর্যায়ে বন্ধুদের সহযোগিতায় ওই স্কুল ছাত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। চিরকুটে লেখা অনুযায়ী, এরই মধ্যে সে অন্ত:স্বত্বা হয়ে পড়ে। এদিকে রাশেদ প্রেমের সম্পর্ককে অস্বীকার করে। এতে দিশেহারা হয়ে লজ্জায় চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করে ওই স্কুল ছাত্রী। পরে রাতেই পুলিশ তার মরদেহ ও চিরকুট উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

চিরকুটে আরও লেখা ছিলো, মৌসুমি, মেঘলা সাজেদা, আজাদ, খুশি, নিশি, শফিক মোশারফ ও ময়নালের সহায়তায় তার ও রাশেদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং এ অনৈতিক ঘটনা ঘটে। এছাড়াও রাশেদের কাকা তামজিদসহ তারা সবাই মিলে ওই স্কুল ছাত্রীর জীবনটা শেষ করে দিয়েছে বলে চিরকুটে লেখা পাওয়া যায়। তাদেরকে ক্ষমা না করার জন্য বলা হয়েছে ঐ চিরকুটে।

এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, রাতেই পুলিশ ওই স্কুল ছাত্রীর মরদেহ ও একটি চিরকুট উদ্ধার করে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য শেরপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয় ।

১২ ডিসেম্বর শনিবার ”“মা” আকলিমা বেগম (শাফিয়া) শেরপুর সদর থানায় ২০০০ সালের নারী ও মিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩; ৯ (১)/৯-ক/৩০ ধর্ষন করিয়া অন্তসত্বা করতঃ আত্বহত্যার প্ররোচনা প্রদান করার অপরাধ মামলা করেন । মামলা নং- সদর থানা ৮৭৮/২০২০ ।

ডিসেম্বর থেকে গত ৩ মাসে কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়াই ঋতুর “মা”আকলিমা বেগম (সাফিয়া) গত ১৯ মাচ্র্ শুক্রবার বিকেলে শেরপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অভিযোগ করে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রেমে প্রতারিত হয়ে আত্ম হত্যাকারী সেই স্কুল ছাত্রী রাত্রি অরফে ঋতুর মামলার আসামীদের দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ধরা ছোয়ার বাহিরে প্রভাবশালী প্রেমিক সেই রাশেদ ও তার সহযোগীরা।
ঋতুর মা আরো অভিযোগ করে বলেন।

আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেন না । মামলার বাদী ঋতুর মা আকলিমা বেগম শাফি। এছাড়াও মেয়ে রাত্রি ওরফে ঋতু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরেও প্রভাবশালী দের হস্তক্ষেপে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্টাপাল্টা করা হয়েছে বলে ও তিনি অভিযোগ করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক এসআই আনোয়ার হোসেন এর কাছে আসামীদের গ্রেফতারের বিষয়টি ঋতুর মা মুঠোফোনে জানতে চাইলে নানা অজুহাত ও তালবাহনা করে থাকেন এবং কথা শেষ না করতেই ফোন রেখে দেন।

দায়িত্বে অবহেলা করার কারনেই আসামীদের গ্রেফতার করতে স্বক্ষম হয়নি। শেরপুরের পুলিশ সুপারসহ উর্ধতন কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন মেয়ে হারা অসহায় সেই গার্মেন্টস কর্মী মা আকলিমা বেগম শাফি।

শুক্রবার ১৯মার্চ বিকেলে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন এমন অভিযোগ করেন ।

তবে এ বিষয়ে আকলিমা বেগম (শাফিয়া) বলেন অদ্যবধি ৫ মাস হলেও আসামীদের এখনো পুলিশ ধরতে সক্ষম হয়নি ।স্থানীয় একটি কুচক্রী ও দালাল চক্র অপরাধীদের পক্ষে তদ্ববির করছে । আমি আমার সন্তান হত্যাকারী দের বিচার চাই ।

তবে মামলার তদন্ত অফিসার বলেন আনোয়ার হোসেন বলেন আমি আপ্রান চেষ্টা চালাচ্ছি আসামি ধরতে ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত