প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কল্যাণমূলক কাজে অগ্রগামী হওয়ার মাস রমজান

ডেস্ক রিপোর্ট: গত শুক্রবার মদিনার মসজিদে নববিতে জুমার ইমামতি করেন শায়খ ড. আবদুল্লাহ আল বুয়াইজান। জুমাপূর্ব খুতবায় তিনি আগামী রমজান সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। প্রদত্ত খুতবার চুম্বুকাংশ অনুবাদ করেছেন মো. আতিকুর রহমান। দেশ রূপান্তর

আল্লাহতায়ালার আনুগত্য হচ্ছে উত্তম পাথেয় ও উপার্জন, তার সন্তুষ্টি অর্জন কাক্সিক্ষত বিষয়। ফজিলতে পূর্ণ ও ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময় রমজান মাস আসন্ন। এটি ইবাদত-বন্দেগি, তওবা-ইস্তিগফার, আনুগত্য ও বিনয় প্রকাশের মাস। দুনিয়ার প্রতি অনীহা প্রকাশ ও আখেরাতমুখী হওয়ার মাস। প্রবৃত্তির অনুসরণ, লোভ-লালসা ও ভোগ-বিলাসিতা পরিহার করে কল্যাণমূলক কাজে অগ্রগামী হওয়ার মাস। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমুখী হও এবং তার আজ্ঞাবহ হও তোমাদের কাছে আজাব আসার পূর্বে। এরপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ উত্তম বিষয়ের অনুসরণ করো তোমাদের কাছে অতর্কিতে ও অজ্ঞাতসারে আজাব আসার পূর্বে, যাতে কেউ না বলে, হায়, হায়, আল্লাহ সকাশে আমি কর্তব্যে অবহেলা করেছি এবং আমি ঠাট্টা-বিদ্রুপকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। অথবা না বলে, আল্লাহ যদি আমাকে পথপ্রদর্শন করতেন, তবে অবশ্যই আমি পরহেজগারদের একজন হতাম। অথবা আজাব প্রত্যক্ষ করার সময় না বলে, যদি কোনোরূপে একবার ফিরে যেতে পারি, তবে আমি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে যাব।’ সুরা জুমার : ৫৪-৫৮

মানবজীবনে যেহেতু রমজান গুরুত্বপূর্ণ, তাই স্বপ্রণোদিত হয়ে রমজানকে স্বাগত জানাবেন। মহান আল্লাহর দয়া, অনুগ্রহ পাওয়ার আশা, তার ক্ষমা ও রহমত লাভের দৃঢ় প্রত্যাশায়। তাদের মতো করে নয়, যারা অহেতুক কাজ ও ঠাট্টা-মশকরা করে সময় নষ্ট করে। রমজানকে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভির্যতার সঙ্গে স্বাগত জানানো এ মাসের প্রাপ্য। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘এটাই বিধান। আর কেউ আল্লাহর সম্মানিত বিধানাবলির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তার রবের কাছে তার জন্য এটাই কল্যাণকর।’ সরা হজ : ৩০

তওবা কবুলের এই মাসকে তওবার মাধ্যমে, দান-সদকার মাসকে মুক্ত হস্তে দানের মাধ্যমে, কোরআন নাজিলের এই মাসকে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে, দোয়ার মাসকে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া-ইস্তিগফারের মাধ্যমে, ইবাদত ও আনুগত্যের মাসকে বেশি বেশি নফল ইবাদতের মাধ্যমে এবং রহমতের এই মাসকে সৃষ্টির প্রতি সদয়, অনুগ্রহ ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বরণ করুন ও স্বাগত জানান।

রমজান মাস পাওয়া নিশ্চিতভাবে একটি নেয়ামত। যার জন্য আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করা এবং পুরোদমে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত উবাদা বিন সামিত (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের আগমনের সময় বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে বরকতের মাস আগমন করেছে, এ মাসে আল্লাহতায়ালা তোমাদের বরকতে জড়িয়ে নেন; ফলে রহমত নাজিল হয়, গোনাহ মাফ করা হয় এবং এ সময় দোয়া কবুল করা হয়। আল্লাহ তোমাদের ভালো কাজের প্রতিযোগিতাগুলো দেখেন এবং ফেরেশতাদের কাছে তোমাদের নিয়ে গর্ব করেন। অতএব তোমরা কল্যাণের দিকে অগ্রসর হয়ে তা আল্লাহকে দেখিয়ে দাও। ‘জেনে রাখো, দুর্ভাগা সেই ব্যক্তি যে এই মাসে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়।’

সুখবর তাদের জন্য, যারা রমজানকে পেয়ে সময়ের মূল্যায়ন করেছে, ফলে সে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ও বিজয়ীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছে। আর আফসোস তাদের জন্য, যারা সুযোগ হাতছাড়া করে সময় নষ্ট করেছে, আর এমন সময় পরিতাপ করছে যখন তা কোনো উপকারে আসবে না। ওই ব্যক্তিকে আল্লাহ লাঞ্ছিত করুন, যে রমজান পেয়েও নিজের গোনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারল না, ফলে আল্লাহতায়ালা তাকে বঞ্চিত করে রেখেছেন।

রমজানকে স্বাগত জানানোর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো তওবা করা। তওবা হচ্ছে মুক্তির ওসিলা, সফলতার মাধ্যম এবং সংশোধনের প্রথম ধাপ। তওবার মাধ্যমে মানুষ পাপমুক্ত হয়। এর প্রভাবে মানুষ নেক আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়, সত্যের ওপর অবিচল থাকে। তওবা আত্মশুদ্ধি অর্জন ও ভুল সংশোধনে সহায়তা করে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ সুরা নুর : ৩১

সর্বদা আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখুন। সাবধান! আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না। সাবধান! তওবা করা থেকে বিমুখ হবেন না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি তওবা করে, ইমান আনে এবং সৎ কাজ করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের গোনাহগুলো পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ সুরা ফুরকান : ৭০

নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। তাকে শত্রু হিসেবেই বিবেচনা করুন। সে আপ্রাণ চেষ্টা করে এই কল্যাণের মৌসুম ও উত্তম সময়ে মানুষকে হেদায়েতের পথ থেকে দূরে রাখতে, রহমত ও মাগফিরাতের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে। অভিশপ্ত শয়তান মানুষকে রবের আনুগত্য করতে বাধা প্রদান করে, ফলে তারা বহু কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। বিচক্ষণ ওই ব্যক্তি, যে নিজেকে সংযত করে; আত্মপর্যালোচনা করে এবং মৃত্যু পরবর্তী কালের জীবনের জন্য আমল করে। পক্ষান্তরে হতভাগা সেই ব্যক্তি, যে প্রবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও কল্যাণের আশা পোষণ করে।

উদাসীনতা পরিহার করুন, কেননা এটি একটি দুরারোগ্যে ব্যাধি, ঘৃণিত অভ্যাস ও কঠিন বিপদ। এটি বান্দা ও রবের মধ্যে সম্পর্ক বিনষ্ট করে। ফলে বান্দা তার অপরাধ সম্পর্কে জানে না, অন্যায় করেও বিচলিত হয় না, পাপের কারণে তওবা করে না। ভালোকে ভালো মনে করে না, অসৎকাজকে অন্যায় ভাবে না। ফজিলতপূর্ণ সময়গুলো অতিবাহিত হয়ে যায়, অথচ সে উদাসীনতার মধ্যে ডুবে থাকে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জীবন খুব সংক্ষিপ্ত, সময়ও স্বল্প। যা গত হয়ে গেছে তা নাগালের বাইরে, আর যা হওয়ার তা আসবেই আসবে। অতএব এই জীবনে শিথিলতার কোনো সুযোগ নেই।

সর্বাধিক পঠিত