প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তাঁর জন্যই নাকি জাহাজ আটকেছিল সুয়েজে! তবে কি নীল সমুদ্রের পুরুষ আধিপত্যে ভাগ বসানোই কাল হল তাঁর?

অনলাইন ডেস্ক: গতমাসে সুয়েজ খালে যখন জাহাজ আটকে গিয়েছিল সেইসময় বেশ খানিকটা দূরে আলেকজান্দ্রিয়ার একটি জাহাজে সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন মারওয়া এলসলেহদার। অথচ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল হতে হয় মিশরের প্রথম মহিলা ক্যাপ্টেনকে। মিশরের পুরুষ-শাসিত সমুদ্রে এক নারীর দিকে আঙ্গুল তুলতে কাল বিলম্ব করেননি অনেকেই।

ছোট থেকেই সমুদ্র ভাল লাগত মারওয়ার। ভালবাসতেন সাঁতার কাটতে। সেই ভাল লাগা থেকেই স্কুলের গণ্ডি পেরনোর পর তিনি চেয়েছিলেন সমুদ্র নিয়ে পড়াশোনা করতে। ২০১৩ সালে আরব অ্যাকাডেমি ফর সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তিনিই ছিলেন এই বিভাগের প্রথম মহিলা স্নাতক।

এর পর কারডিফ মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেছেন। এই মেয়ের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে ততটাও হইচই হয়নি যতটা হয়েছিল স্নাতক হওয়া নিয়ে। কারণ ওই বিভাগে তিনিই ছিলেন প্রথম মহিলা পড়ুয়া।

ক্লাসে কোনও মহিলা সহপাঠী ছিল না। তা সত্ত্বেও পিছু হঠেননি তিনি। পড়াশোনা সম্পূর্ণ করে দেশের প্রথম মহিলা জাহাজ ক্যাপ্টেন হয়েছেন। পাশে অবশ্যই পেয়েছিলেন পরিবারকে।একটা সময় ক্লাসে ঢোকাই দায় হয়ে পড়েছিল তাঁর।

কিন্তু জাহাজ নিয়ে সমুদ্রে ভেসে বেড়ানো যাঁর স্বপ্ন, সহজে হার মানার পাত্রী তো তিনি নন। হার মানেননি মারওয়া। ২০১৫ সালে তিনি মিশরের প্রথম মহিলা জাহাজ ক্যাপ্টেন হন। সে সময় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছিলেন এই ইজিপশিয়ান ‘বিউটি উইথ ব্রেইন’। রচনা করেছিলেন ইতিহাস।

সুয়েজের ঘটনার পর ফের একবার সংবাদ শিরোনামে মিশরের sea gal সমুদ্র-কন্যা মারওয়া।মুহূর্তে তাঁর সমালোচনায় সরব হয় বিশ্ব। পরে অবশ্য জানা যায় সুয়েজ খালের ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক ছিল না। তবে কি একজন মিশরীয় বলেই এই ঘটনায় এত সহজে অকারণে বিদ্ধ হলেন তিনি? নাকি শুধুই নীল সমুদ্রের পুরুষ আধিপত্যে ভাগ বসানোই কাল হল তাঁর? প্রশ্ন মারওয়ার।

ছবি সৌজন্য – মারওয়ার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম

 

সর্বাধিক পঠিত