প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খাতুনগঞ্জে জমে উঠেছে রমজানের বেচাকেনা: পেঁয়াজ ও ভোজ্য তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

নিউজ ডেস্ক: কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে একই সঙ্গে দেশ জুড়ে এক সপ্তাহের লকডাউন শুরু হচ্ছে। তাই খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বেচাকেনায় ভিড় বেড়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে খুচরা পাইকাররা রমজানের পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছে। পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও সয়াবিন ও পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। পেঁয়াজ আমদানির জন্য নতুন করে আইপি ইস্যু বন্ধ রয়েছে। সামনে বাজার আরো অস্থির হতে পারে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গত কয়েক দিন যাবত্ রমজানের বেচাকেনা জমে উঠেছে। লকডাউনের কারণে পাইকারি বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে দুই-তিন টাকা করে বেড়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজ কেজি ২৯-৩০ টাকা ও দেশীয় পেঁয়াজ কেজি ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে খুচরায় কেজি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে রসুনের দামও বেড়ে কেজি ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, পেঁয়াজ আমদানির জন্য নতুন করে আইপি ইস্যু হচ্ছে না। আপাতত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, গতকাল শনিবার পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে দু্ই-এক টাকা বেড়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে না। এভাবে আমদানি বন্ধ থাকলে সামনে বাজার অস্থির হতে পারে। বর্তমানে মজুত যে পরিমাণ পেঁয়াজ আছে তা দিয়ে বেশি দিন চাহিদা মেটানো যাবে না।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক কৃষিবিদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘পেঁয়াজ আমদানিতে গত দুই মাস যাবত্ নতুন করে আইপি ইস্যু বন্ধ রাখা হয়েছে। আমদানি বেশি হলে দেশের কৃষকরা তাদের উত্পাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাবে না।’

পাইকারি বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ছেই। খুচরায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হলেও পাইকারিতে খোলা সয়াবিন ও পাম্প অয়েলের দাম দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে। গতকাল শনিবার পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে খোলা সয়াবিন মণ ৪ হাজার ৫০০ টাকা ও পাম্প অয়েল মণ ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ভোজ্য তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কোনো কারণ জানা যাচ্ছে না। খাতুনগঞ্জে তিন-চারটি কোম্পানির ভোজ্য তেল বিক্রি হয়ে থাকে। তারাই তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।

তবে ডালজাতীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। চিনি, ছোলা ও মসুর ডালের দাম নিম্নমুখী বলে বিক্রেতারা জানান। পাইকারিতে চিনি কেজি ৬২ টাকা, মসুর ডাল কেজি সর্বনিম্ন ৭০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা কেজি ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেখা গেছে, সড়ক ও চাক্তাই খাল দিয়ে নৌপথে ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, নৌপথে পণ্য পরিবহনে খরচ অনেক কম। সড়কপথে পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়েছে। তারা জানান, সামনে লকডাউন শুরু হচ্ছে। ফলে পণ্য পরিবহন নিয়ে বিক্রেতারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে গাড়ি ও চালক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। – ইত্তেফাক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত