প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনাবিষ্কৃত ১৭ লাখ ভাইরাস, সতর্কতা জাতিসংঘের

রাশিদ রিয়াজ : বিজ্ঞানীরা বলছেন ভাইরাস প্রবণ পরিবেশ সৃষ্টি হয় এমন কর্মকাণ্ডে উচ্চ হারে কর আরোপ করা যেতে পারে। ইকোহেলথ এ্যালায়েন্স’র প্রেসিডেন্ট পিটার ডাসজাক বলেছেন কোভিড মহামারী নিয়ে অলৌকিক কিছু নেই। মানুষের কৃত কাজ যা জলবায়ুকে পরিবর্তন ও প্রাণবৈচিত্রকে হ্রাস করছে তাই মহামারী সৃষ্টির কারণ। জমির ব্যবহারে পরিবর্তন, আগ্রাসীমূলক কৃষি কাজ, টেকসই নয় এমন বাণিজ্য ও উৎপাদন, এমন চাহিদার যোগান যা প্রকৃতিকে বিপর্যস্ত করে, বন্যজীবন, প্রাণিসম্পদ, প্যাথোজেন ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি যা শুধু মহামারী পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তা নয় বরং তা একই সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি, নতুন নতুন টিকার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। এটি ধীরে হলেও অনিশ্চিত এক গন্তব্য হয়ে উঠেছে।ডেইলি মেইল

মানব সম্পদের এধরনের ক্ষতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্যেও হুমকি সৃষ্টি করছে। গত বছর জুলাই পর্যন্ত কোভিড মহামারীতে বিশ^ অর্থনীতিতে ক্ষতির পরিমান দাঁড়িয়েছে ৮ থেকে ১৬ ট্রিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে ৮.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। অতীতের মহামারীগুলোতেও এধরনের বিশাল আর্থিক ক্ষতি বহন করতে হয়েছে। ২০১৪ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় এবোলা ছড়িয়ে পড়ার কারণে সাড়ে ৩৮ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি হয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালে দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ার উপকূলে জিকা ভাইরাস সংক্রমণে ৫ থেকে ১৩ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এধরনের মহামারীজনিত ক্ষতি বছরে গড়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলার দাঁড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভবিষ্যতে মহামারীগুলির ঝুঁকি হ্রাস বা এই ধরনের সংকট মোকাবেলা ব্যয়ের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ কম হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এবং এধরনের পরিবর্তনের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রণোদনা জরুরি। প্রাণবৈচিত্র হ্রাস পায় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা, বন উজাড় হয় এমন অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের আয়োজন না করা এবং এসব কর্মকাণ্ডের ওপর উচ্চ হারে কর আরোপ করা। ড. ডাসজাক আরো বলেন প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন যা আমাদের সার্বিক পরিস্থিতি রক্ষায় সহায়ক হয়ে উঠবে। তবে এখন আমরা যেভাবে এধরনের বিরুপ কর্মকাণ্ড মোকাবেলা করছি তা মূলত কার্যকর ক্ষমতাকে উপেক্ষা করে করা হচ্ছে। এরফলে আমাদের পদ্ধতি কার্যকরভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে, আমরা এখনও ভ্যাকসিন এবং থেরাপিউটিক্সের মাধ্যমে রোগগুলি নিয়ন্ত্রণের উপর নির্ভর করছি। আমরা মহামারীর যুগ থেকে বাঁচতে পারি কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া ছাড়াও প্রতিরোধে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার।

জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞ বলছেন যে ১৭ লাখ ভাইরাসের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তার অর্ধেকই মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক এক বিশেষজ্ঞ দল সতর্ক করে বলেছে ভাইরাস জনিত রোগ বৃদ্ধির মোকাবেলায় আমাদের অবশ্যই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এবং এ ধরনের প্রতিরোধের উদ্যোগই পারে কেবল মহামারীর কবল থেকে মানুষকে বাঁচাতে।

বন উজাড় ও গবাদিপশু বা বন্যজীবন নিয়ে বাণিজ্য বৃদ্ধি এধরনের ভাইরাস সংক্রমণ ও মহামারীর মত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে বলে বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ার করেছেন। জাতিসংঘের ২২ জন বিজ্ঞানীদের এই দল বলছে উদ্যোগ না নিলে একের পর এক মহামারীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে বিশ^। যা পূর্বের মহামারীকে আরো ভয়ানকভাবে আঘাত হানবে। অধিক প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। অর্থনৈতিক ক্ষতি আরো বাড়াবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন সংক্রামক রোগগুলির যেভাবে আমরা মোকাবেলা করি তা এক পরিবর্তনশীল পরিবর্তন ও প্রতিরোধমূলক অবস্থানের দিকে সরে যাওয়ায় এই মহামারীর যুগ থেকে বাঁচতে আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগের কেনো বিকল্প নেই। ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু’র পর কোভিড হচ্ছে ষষ্ঠতম মহামারী। স্প্যানিশ ফ্লু’তে বিশে^ ২০ থেকে ৫০ মিলিয়ন মানুষ মারা যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন আজ পর্যন্ত সব মহামারীর উৎস প্রাণীর মাধ্যমে জীবাণু থেকে সংক্রমণ ঘটলেও এর প্রতিটির উত্থান পুরোপুরি মানুষের ক্রিয়াকলাপে নিহিত রয়েছে। প্রতিবছর প্রায় পাঁচটি রোগ মানবদেহে সংক্রমণ ঘটায় এবং এর কোনটি ছড়িয়ে পড়ার বা মহামারীতে রুপান্তরিত হওয়া শঙ্কা থেকে যায়।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত