প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাচ্চি বিরিয়ানি, খাসির রেজালা, জাফরানি মুরগি পোলাও’র উদ্ভাবক মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের

ডেস্ক রিপোর্ট : একটি সত্য ঘটনা… যখন সুস্বাদু কাচ্চি বিরিয়ানি খাই তখনই মনে পড়ে মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের কথা। মনে মনে ধন্যবাদ দিই মুঘল সম্রাজ্ঞীকে। এত মজাদার খাবারটা আবিস্কার করার জন্য। অনেকে হয়ত জানেন না তিনিই কাচ্চি বিরিয়ানি, খাসির রেজালা, জাফরানি মুরগি পোলাও’র উদ্ভাবক। নূরজাহান ছিলেন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ২০ তম স্ত্রী। আগে তাঁর নাম ছিল মেহেরুন্নেসা। তিনি রাজদরবারের নৃত্যশিল্পী ছিলেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আরেক নাম হল শাহজাদা সেলিম। সেলিম আনারকলির মর্মস্পর্শী প্রেমের কাহিনী আমরা সবাই জানি। ১৯৬০ সালে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘মুঘল-ই-আজম’-এ সে কাহিনী করুণভাবে চিত্রিত হয়েছে।

শুনলে রূপকথার মত লাগে মুঘল সম্রাট শাহজাদা শাহাজাদী এবং হেরেমের বাঈজিদের জীবন কাহিনী। সম্রাট আকবরের পুত্র শাহজাদা সেলিম ওরফে জাহাঙ্গীর বহু নারীতে আসক্ত ছিলেন। তিনি হেরেমের সবচেয়ে সুন্দরী বাঈজী আনারকলিকে ভালোবেসে ফেলেন। যা সম্রাট আকবর মেনে নিতে পারেননি।

রাজনর্তকী আনারকলি ছিলেন সম্রাট আকবরের হেরেমের রক্ষিতা। বয়সে আনারকলি সেলিমের চেয়ে ১০ বছরের বড় ছিলেন। নিজের রক্ষিতার সাথে ছেলের প্রেমের সম্পর্ক হওয়ায় নাখোশ হন সম্রাট আকবর। তাঁর নির্দেশে আনারকলিকে জীবন্ত দাফন করা হয় ইটের অন্ধকূপে। মুঘল হেরেমের হতভাগী আনারকলির মর্মান্তিক অধ্যায়ের ইতি ঘটে। শুরু হয় নূরজাহানের কাহিনী।
সম্রাজ্ঞী নূরজাহান কেবল ভারতবর্ষ বা মুঘল ইতিহাসেই নন, তিনি বিশ্ব ইতিহাসের এক বিস্ময়কর নারী ব্যক্তিত্ব। তিনি আজীবন ঐশ্বর্যময় জীবন কাটিয়েছেন। মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকাই মসলিনের প্রচলন হয়। এই সম্রাজ্ঞী সবচেয়ে ফ্যাশনেবল ছিলেন। সেই সাথে ছিলেন বিলাসিতার প্রতীকও। তাঁর সময় ভোজের সময় দস্তরখানের ব্যবহার, চোলি বা আধুনিক ব্লাউজের প্রচলন, পোশাকে বোতাম, বাদলা, কিঙ্গারি, ওড়না, অন্তর্বাস, নৈশবেশ, কুর্তা, সালওয়ার, কামিজ এবং জরির লেসের প্রচলন হয়। সোজা কথায় সম্রাজ্ঞী নূরজাহানই গোটা ভারতবর্ষে এইসব অভূতপূর্ব ফ্যাশনের জননী ছিলেন। ভারতবর্ষের সবচেয়ে দামী “গোলাপের আতর” তিনিই আবিস্কার করেন। মুঘল ইতিহাসে যার পোশাকী নাম ‘’আতরে জাহাঙ্গীরী!”
সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের বিলাসবহুল গোসলখানার টবে গোলাপ মিশ্রিত পানিতে ত্বকের সৌন্দর্যের জন্য উপকারী বহু সুগন্ধি জিনিস মিশিয়ে রাখা দেয়া হত।

নূরজাহানের স্নানের গোলাপ পানিতে আতর, চন্দন, রূপটান ও অন্যান্য প্রসাধনী সামগ্রী মিশ্রিত থাকতো। তাঁর প্রতিদিনের ব্যবহৃত সুগন্ধি গোলাপ আতরের দৈনিক খরচ পড়তো তৎকালীন তিন হাজার টাকা। তিনি বিধবা ছিলেন। তাঁর রূপ লাবণ্য ও আকর্ষণীয় দেহবল্লরী দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়েন সম্রাট জাহাঙ্গীর। নূরজাহানের প্রথম স্বামী নিহত হয়েছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে শত্রুতার জেরে।

একদিন নূরজাহান একটি বাঘ শিকার করেন। স্ত্রীর বীরত্ব দেখে সম্রাট জাহাঙ্গীর অভিভূত হয়ে স্ত্রীকে একলক্ষ মুদ্রার হীরার চূড় উপহার দেন। ১৬২৭ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর ১৮টি বছর বন্দীদশায় কাটাতে হয়েছিল নূরজাহানকে। ১৬৪৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। পাকিস্তানের লাহোরের শাহদারাবাগে মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানকে সমাধিস্থ করা হয়।
সূত্র- বাবা মঈন

একটি সত্য ঘটনা…

যখন সুস্বাদু কাচ্চি বিরিয়ানি খাই তখনই মনে পড়ে মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের কথা।
মনে মনে ধন্যবাদ দিই…

Posted by Baba Moin on Thursday, April 8, 2021

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত