প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুলক ঘটক: মামুনুল হকের গোটা পরিবার অপরাধ কর্মের সঙ্গে জড়িত, সংশ্লিষ্ট সকলকেই আইনের আওতায় আনা উচিত

পুলক ঘটক: মাদ্রাসার ছেলে শিশুরা মাওলানা মামুনুল হকদের হাতে কতো অসহায় তা মিডিয়ায় বারবার আসছে। এবার প্রমাণ পাওয়া গেলো, এই মামুনুল হকরা নারীদের প্রকাশ্যে বোরকায় মোড়ানোর পরামর্শ দিলেও তাঁরা গোপনে পরের স্ত্রীর বোরকা খোলার কাজ করেন। এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো, নারীরা এদের হাতে কতো অসহায়! ঘরে স্ত্রী রেখে তিনি পরস্ত্রী নিয়ে হোটেলে ফুর্তি করতে যান, অথচ ঘরের অসহায় স্ত্রীর সামর্থ্য নেই এর প্রতিবাদ করার। এই অসহায় নারীদের মুখে বাণী দিতে হবে, তাদের প্রতিবাদ করার শক্তি যোগাতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজের এটা দায়িত্ব। মামুনুল হক যখন ফেসবুকে এবং ইউটিউবে লাইভ করেছিলেন তখন তিনি তাঁর ভাইদের সঙ্গে নিয়ে বসেছিলেন। কিন্তু যার বিরুদ্ধে তিনি প্রধান অপরাধটি করেছেন তাঁকে (স্ত্রীকে) লাইভ করার সময় পাশে বসাননি। তাকে অন্তঃপুরে বন্দী করে রেখেছেন।

ফেসবুক লাইভে আসার আগে তিনি স্ত্রীকে টেলিফোনে বলেছিলেন, ওই মহিলাকে তিনি বিবাহ করেননি। মহিলা তাঁর বন্ধু শহীদুলের স্ত্রী। ধরা পরার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি জনগণকে মিথ্যা বলেছিলেন। অথচ লাইভে তিনি বললেন তাঁর বন্ধু তালাক দেওয়ার পর ওই মহিলাকে তিনি বিয়ে করেছেন, যে বিয়ের কোনো প্রমাণ নেই; তালাকেরও প্রমাণ নেই। তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে (যদি আদৌ হয়ে থাকে) তিনি স্ত্রীর কাছে এবং সমাজের কাছে গোপন রেখেছিলেন। মামুনুলের সঙ্গে ধরাপরা ওই মেয়েটির বাবা একজন আওয়ামী লীগের নেতা (ওয়ার্ড সভাপতি) ও মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেছেন, এমন বিয়ের কথা তিনি শুনেননি। এলাকাবাসী এবং ওই নারীর অন্য আত্মীয়রাও বলেছেন, মেয়েটির বিয়ে হয়েছে খুলনায়; সেই ঘরে তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। কিন্তু ওই স্বামীর সঙ্গে তাঁর ডিভোর্স ও মামুনুলের সঙ্গে বিয়ের কথা তারা কেউ শোনেননি। হেফাজতের নেতারাও আগে কেউ শোনেননি।

বোঝা যাচ্ছে আলেম সাহেব ওই নারীকে নিয়ে গোপনে মাঝে মাঝে ফুর্তি করেন আরকি! অর্থাৎ ওই নারীকেও তিনি রাষ্ট্র ও সমাজের সামনে স্ত্রীর মর্যাদা দেননি। তাঁকে সকল ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন, দেনমোহর, কাবিননামা, স্বাক্ষী ইত্যাদি কিছুই নেই। তাদের যৌনমিলনের ফলে কোনো মানবশিশু পৃথিবীতে আসলে সেই শিশুটিও হবে অধিকার বঞ্চিত। এই নারী ও শিশুদের এসব পিশাচ হুজুরদের খপ্পর থেকে বের করে এনে তাদের ন্যায্য অধিকার দিতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজকে এ দায়িত্ব নিতে হবে।

মিডিয়ার উচিত অন্তঃপুরে বন্দিনী মামুনুল হকের স্ত্রীর স্বাক্ষাৎকার নেওয়া। এ ব্যাপারে মিডিয়াকে সহযোগিতা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। দুবরৃত্তরা যেন কোনোভাবেই মিডিয়ার কাজে বাধা দিতে না পারে। মামুনুল হকের স্ত্রীকে সসম্মানে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ প্রোটেকশনের ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে তিনি পাষণ্ড মামুনুল হক গংয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। মামুনুল হকের অসহায় স্ত্রীকে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ব্রেইনওয়াশ করা হচ্ছে। তাই ওই নারীর জন্য প্রোপার কাউন্সেলিং প্রয়োজন। ফাঁস হওয়া অপর একটি টেলিফোন সংলাপে দেখা যায়, মামুনুল হকের বোন তাঁর স্ত্রীকে পরামর্শ দিচ্ছেন, মামুনুল হককে সমর্থন করার জন্য। অর্থাৎ মামুনুল হকের গোটা পরিবার এই অপরাধ কর্মের সঙ্গে জড়িত। তাই সংশ্লিষ্ট সকলকেই আইনের আওতায় আনা উচিত। এদের সকলের বক্তব্য একে একে ক্রসচেক করা উচিত।

হেফাজতে ইসলাম মানুষকে হত্যার ফতোয়াদানকারী একটি অনৈতিক ক্রিমিনাল সংগঠন। তারা দৃশ্যত মামুনুল হকের অপরাধ গোপন করার দায়িত্ব নিয়েছে।  এরা জেনার দায়ে প্রকাশ্যে পাথর মেরে  হত্যার বয়ান দিলেও মামুনুল হকের বিরুদ্ধে কোনো কথা নেই। মামুনুল হক পরস্ত্রীসহ হোটেলে ধরা পরার পর হেফাজতের কর্মী-সমর্থকরা যা করেছে তাতে আবারও প্রমাণিত হলো, হেফাজত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা না রেখে নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিয়েছে, হোটেলে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চালিয়েছে। ওই হোটেলটি কিন্তু তাদের জেহাদের জায়গা ছিলো না। এই সংগঠনকে অবশ্যই দেশে-বিদেশে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত