প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শরীয়তপুর পৌরসভার ৫ কাউন্সিলরের ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকচক্র

মো. আল-আমিন: [২] শরীয়তপুর পৌরসভার পাঁচ কাউন্সিলরের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারকচক্র। রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি থেকে ত্রাণ দেয়া হবে, এজন্য প্রতি গ্রাহককে ৭০০ করে টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এমন কথা বলে এ প্রতারণা করে ওই চক্রটি। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী কাউন্সিলররা শরীয়তপুরের পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

[৩] পালং মডেল থানা সূত্র জানায়, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে গত ১ এপ্রিল এক ব্যক্তি শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট পারভেজ রহমান জনকে ফোন করে। তিনি মেয়রকে জানান, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি থেকে ত্রাণ হিসেবে প্রতি ব্যক্তিকে চার হাজার ২০০ টাকা, পাঁচ কেজি চাল, পাঁচ কেজি তেল, পাঁচ কেজি ডাল ও পাঁচ কেজি চিনি দেয়া হবে। ওই ত্রাণ দেয়ার জন্য পৌরসভা থেকে ১৫০ জনের একটি তালিকা চাওয়া হয়। মেয়র তখন ওই ব্যক্তির মোবাইল নম্বর কাউন্সিলরদের দেন। কাউন্সিলরা ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি (প্রতারক) তখন কাউন্সিলরদের আরও বেশি ব্যক্তিকে ত্রাণ দেয়া যাবে বলে তাদের জিএম আকবর রহমান নামের এক ব্যক্তির ফোন নম্বর দেয়।

[৪] কাউন্সিলররা ওই ব্যক্তির নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতি ব্যক্তির নাম নিবন্ধন করতে ৭০০ টাকা করে লাগবে বলে জানান। তখন ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোয়াজ্জেম হোসেন ঢালী ১০০ নামের বিপরীতে ৭০ হাজার টাকা, ৭ নম্বর ওযার্ড কাউন্সিলর আমীর হোসেন ১৫০ নামের বিপরীতে এক লাখ ৫ হাজার টাকা, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পলাশ খান ৫০ নামের বিপরীতে ৩৫ হাজার টাকা, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ফেরদৌসি আক্তার ৬৫ হাজার ও মাহমুদা খানম ২৫ হাজার টাকা দেন।

[৫] কাউন্সিলররা শনিবার বিকাশের মাধ্যমে ওই চক্রকে টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পর মোবাইল নম্বর ও বিকাশের নম্বরগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পরে রবিবার (৪ এপ্রিল) পালং মডেল জিডি করেন এই পাঁচ কাউন্সিরলর।

[৬] ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোয়াজ্জেম হোসেন ঢালী বলেন, ওই চক্র প্রথমে মেয়রকে ফোন করে তালিকা চায়। মেয়র আমাদের সেই নম্বর দেয়। এ কারণে আমাদের সন্দেহ হয়নি। বেশি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিতে পারব এমন একটি প্রলোভনে পড়ে তাদের প্রলোভনে ফাঁদে পা দিয়েছি।

[৭] শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান বলেন, রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা পরিচয়ে আমাকে ফোন করে ত্রাণ দেয়ার কথা জানানো হয়। নামের তালিকা চাওয়ায় ওই ব্যক্তির নম্বরটি কাউন্সিলরদের দিয়েছি। কিন্তু ওই ব্যক্তি কাউন্সিলরদের কাছে টাকা চেয়েছে তা আমি জানতাম না। বিষয়টি যখন জেনেছি ততক্ষণে পাঁচ কাউন্সিলর প্রতারকচক্রকে টাকা দিয়ে দিয়েছেন।

[৮] এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, একটি চক্র প্রতারণা করে বিকাশের মাধ্যমে কাউন্সিলরদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ-সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। যেহেতু তাদের মোবাইল ও বিকাশ নম্বর রয়েছে তাই তাদের খুঁজে পেতে সহজ হবে। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত