প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জলবায়ু ও ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

তরিকুল ইসলাম:[২] ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিফিএফ) এর চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু সম্মেলনে অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাশি প্রতি বছর ১০ হাজার কোটি ডলারের বৈশ্বিক তহবিল গঠন ও কার্বন নিঃসরণে প্রতিটি দেশ যেন তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবয়ন করে সে আহ্বান জানাবে বাংলাদেশ।

[৩] মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আহ্বানে আগামী ২২-২৩ এপ্রিল এবারের জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলন ভার্চুয়ালী অনুষ্ঠিত হবে। ৪০ দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের এরই মধ্যে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটি।

[৪] দক্ষিণ এশিয়ার তিন নেতাকে আমন্ত্রণ জানাতে আবুধাবি, নয়াদিল্লী ও ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের জলবায়ু সংক্রান্ত বিশেষ দূত জন কেরি।

[৫] প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সশরীরেই আমন্ত্রণপত্র নিয়ে আসছেন জন কেরি। ৯ এপ্রিল ঢাকা সফরে তিন ঘন্টারও কম সময় অবস্থান করবেন তিনি।

[৬] পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভঙ্গুর দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অনেক অর্জনও আছে।

[৭] উন্নত বিশ্বের সম্পদ অপব্যবহারের জন্য যে ক্ষতি হচ্ছে এজন্য তাদের উচিত এই বোঝার কিছু অংশ বহন করা।

[৮] জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে পাশে চায় উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, প্যারিস চুক্তি থেকে দেশটির সরে যাওয়া ও আবার যুক্ত হওয়াসহ বড় পরিবর্তন এসেছে। জন কেরি’র ঢাকা সফর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ করবে।

[৯] উইড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলার্সের এশিয়া কর্মসূচির উপপরিচালক ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট কুগেলম্যানেমর মতে বাইডেন শাসনামলে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

[১০] ওয়াশিংটন জানে যে চীন-ভারত দুই দেশই বাংলাদেশের মূল প্রতিযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ঢাকা এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক সামগ্রিকভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং স্থিতিশীল হওয়া উচিত।

[১১] দিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্ক বেইজিংয়ের তুলনায় উষ্ণ এবং আরও বহুমুখী। স্পষ্টতই এখানে একটি প্রতিযোগিতা চলছে।

[১২] মার্কিন উদ্যোগ ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’ ও রিজিওনাল প্ল্যাটফর্মের বাইরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করতে গত বছর অক্টোবরে ঢাকা সফর করেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বাইগান।

[১৩] সে সময় তিনি বলেন, নয়াদিল্লির চোখে বাংলাদেশকে দেখেনা যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকার সঙ্গে সরাসরি অংশিদারিত্বমূলক সম্পর্ক চায় ওয়াশিংটন।

[১৪] বাইগানের ঢাকার এনগেজমেন্টের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত অবাধ, মুক্ত, সমন্বিত, শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক রিজিওন প্রতিষ্ঠার যে প্রয়াস, যা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কমন ভিশন, তা এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়।

[১৫] দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পর বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি ইন্দো-প্রশান্ত কৌশলগত পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছে দেশটির নতুন প্রশাসন।

[১৬] ঢাকার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্র বলছে, বাংলাদেশ যেন খাদ্য উৎপাদন, যোগাযোগ ব্যাবস্থায় সাফল্য, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও সেনা দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরো এগিয়ে যেতে পারে সেই সহযোগিতা করতে চায় দেশটি।

[১৭] সম্প্রতি উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিফোন আলাপে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হন।

[১৮] পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেছেন, দেশটির সঙ্গে যদি আমাদের সম্পর্ক আরও উন্নত করতে পারি, দিজ ইজ এ উইন-উইন। বাংলাদেশেরও এখন অনেক কিছু অফার করার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত