প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সালথায় লকডাউনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক, নিহত এক (ভিডিও)

হারুন-অর-রশীদ:[২] ফরিদপুরের সালথায় পুলিশের গুলি ও টিয়ার সেল বর্ষণের পর গভীর রাতে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। এঘটনায় এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়েছেন। ওই মাদ্রাসা ছাত্র নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান জানিয়েছেন, হামলার সময় র‌্যাব ও পুলিশের ৮জন সদস্য আহত হয়েছেন।

[৩] ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সিআইডির ক্রাইম টিম কাজ শুরু করেছে। এছাড়া হামলার ঘটনায় অংশ নিয়েও অনেকে গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছেন যাদের পরিচয় জানা যায়নি।

[৪] এদিকে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যা হতে সারারাতের তান্ডবের পর আজ (৬ এপ্রিল) মঙ্গলবার সকালে সালথা উপজেলা সদরে যেয়ে দেখা গেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ভবনের বিভিন্ন সরকারী অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে উপজেলা ত্রাণের গুদাম ও কৃষি অফিস।

[৫] উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনেও ভাংচুর করা হয়েছে। দুটি বিলাসবহুল সরকারী ও দুটি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সাতটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে। দুটি মোটর সাইকেল হামলাকারীরা নিয়ে গেছে।

[৬] হামলার সময় নিহত ওই মাদ্রাসা ছাত্রের নাম হাফেজ মো. জুবায়ের হোসেন (২২)। সে সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামের আশরাফ আলী মোল্যার বড় ছেলে। মাদারীপুর জেলার শিবচরের একটি মাদ্রাসা হতে হাফেজি সম্পন্ন করে হাফেজ জুবায়ের সেখানে চার জামাতে পড়াশুনা করছে। তারা তিন ভাই ও একবোন।

[৭] স্থানীয়রা জানান, আশরাফ আলী মোল্যা ক্ষেতে কৃষি কাজ ও মাদ্রাসা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন। গতকাল রাতে জুবায়েরের মৃত্যুর পর আজ মঙ্গলবার সকালে বাড়ির প্রাঙ্গণে হাফেজ জুবায়েরের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানেই তাঁকে দাফন করা হয়।

[৮] সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের থানা কার্যালয়, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, এসি ল্যান্ডের অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও সরকারী বাসভবন, উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারী বাসভবনে হামলা হয়েছে। এরমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ভবনে অবস্থিত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলা হয়েছে বেশি।

[৯] পুরো ভবনের নিচতলার অধিকাংশ দরজা জানালা ও আসবাব ভাংচুর করা হয়েছে। কাগজপত্র ও মালামাল তছনছ করা হয়েছে। এসিল্যান্ড অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বিনষ্ট হয়েছে। পাঁশের মুক্তযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে পল্লী বিদুৎ সমিতির অস্থায়ী কার্যালয়ের জানালা ও সাইনবোর্ড ভাংচুর করা হয়েছে। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

[১০] হামলার শিকার এসব স্থানে পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। সদরের দোকানপাট অধিকাংশ বন্ধ রয়েছে। এদিকে, এ ঘটনার সময় হামলার সাথে জড়িত কতজন আহত হয়েছেন তা নিদিষ্ট করে জানা যায়নি। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মঙ্গলবার সকালে সালথা থানা কার্যালয় চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে পুরো ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করেছি।

[১১] যেই ধ্বংসযজ্ঞ তারা চালিয়েছে সেসব আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ক্রাইম টিম। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধরার চেষ্টায় জড়িতদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। হামলায় পুলিশ ও র‌্যাবের ৮ জন আহত হয়েছেন। তারা বিভিন্নভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষে জড়িতদের মধ্যে একজন মারা গেছে এবং চারজন আহত হয়েছে।

[১২] তিনি বলেন, ঘটনার পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরণের গুজব প্রচার করা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোক এবং পলিটিকাল মতাদর্শের লোক জড় হয়েছে। আমরা বিষয়টি যাচাইবাছাই করে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।

[১৩] তিনি বলেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেয়া হচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে পর্যাপ্ত সংখ্যক গুলি বর্ষণ করতে হয়েছে। থানা পুলিশ ৫৫২ রাউন্ড রাবার বুলেট,টিয়ার সেল ব্যবহার করেছি। লেট বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বোপরি আমরা শেষ মুহুর্তে চায়না রাইফেল ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছি।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত