প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিচ্ছিন্নতা ও হতাশা কাটাতে লকডাউনে যা করবেন

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা সব বয়সী মানুষকেই ঘরে থাকা ও যতটুকু সম্ভব সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানুষের মধ্যে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকীত্বের কারণে শরীরে নানা ধরনের রোগব্যাধি বাসা বাঁধতে শুরু করে। যেমন, উচ্চ রক্তচাপ, হতাশা, উদ্বেগ, মস্তিস্কের রোগ এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই এই সময়ে নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের একটু পরিকল্পনার মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে এই ধরনের সমস্যাগুলো অনেকটাই এড়িয়ে যাওয়া যায়।

গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগগুলো ঠিক করুন

সুস্থ এবং ভালোভাবে জীবনযাপনের জন্য কারা আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা ঠিক করুন। এদের মধ্যে যেমন আত্মীয় হতে পারে, হতে পারে বন্ধু, এমনকি প্রতিবেশিও। আপনার পারিবারিক চিকিৎসক অবশ্যই এই তালিকার প্রথমদিকে থাকবে। তবে মনে রাখবেন এধরনের পরিস্থতিতে তারাও অনেক বেশি ব্যস্ত থাকবেন। আবার করোনার ঝুঁকি এড়াতে তারাও বাসায় অবস্থান করতে পারেন। তাই এসব গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগগুলো ফোনে সেরে ফেলার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন ছাড়া তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করাই ভালো।

যোগাযোগের তথ্য

আপনার আত্মীয়, বন্ধু, সহকর্মীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সব ধরনের তথ্য যেমন, ফোন নম্বর, যোগাযোগের ঠিকানা, মেইল ইত্যাদি সংগ্রহে রাখুন। এটি আপনাকে এসব মানুষ সম্পর্কে খোঁজ রাখতে ও যেকোন প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করবে। ফোন, ইমেইল এমনকি পুরনো দিনের মতো হাতে চিঠি লিখেও সবার খোঁজখবর নিতে পারেন। তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিতে পারেন।

যেভাবে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করবেন

যদি শুধুমাত্র ফোনে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চান তাহলে ফোনটি সচল আছে কিনা তা দেখে নিন। আবার যদি স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনার বাসার ইন্টারনেট কানেকশন ও সে অনুযায়ী ডিভাইস সচল রাখুন। আপনার কাছে কম্পিউটার বা ট্যাবলেট থাকলে অনলাইন গ্রুপে যুক্ত থেকে আপনার পছন্দের যেকোন কিছু প্রিয়জনদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন।

নিজেকে সময় দিন

নিজেকে সময় দেওয়ার জন্য লকডাউনের চেয়ে উপযুক্ত আর কি হতে পারে। ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। বারান্দা বা ছাদে বাগান করতে পারেন। যাদের বাগান আছে তারা সেগুলোর যত্ন নিতে পারেন। এসব কাজে উৎসাহ পেতে অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত হতে পারেন। প্রতিদিন রাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান। সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠে পড়ুন।

সৃজনশীল কাজ করুন

ঘরে থাকার এই সময়টাতে নানা সৃজনশীল কাজ করতে পারেন। হাতের কাজ, নানান ধরনের ক্রাফ্ট, সেলাই কিংবা শখের যেকোন কিছু হতে পারে। আমরা সবাই জানি, এ ধরনের সৃজনশীল কাজগুলো একাকীত্ব দূর করতে খুব ভালোভাবে সাহায্য করে।

কাছাকাছি স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জানুন

আপনার এলাকা বা কাছাকাছি এলাকায় যারা স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন তাদের সম্পর্কে ভালোভাবে জানুন। কীভাবে তাদের সেবা পাওয়া যাবে, করোনা টেস্ট করতে হলে কি করতে হবে, কোন কোন স্থাস্থ্যসেবা আপনি যেকোন সময় পেতে পারেন এসব বিষয়ে ভালোভাবে জেনে নিন।

খাবার নিয়ে সচেতন হোন

এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া। পরিবারের সবার সুষম পুষ্টি নিশ্চিত হচ্ছে কি না সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস করুন। সারাবাংলা

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত