শিরোনাম
◈ তিন কারণে দেশে বেড়েছে লোডশেডিং ◈ শপিং মল-দোকানপাট খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও নাম ঘোষণা কাল ◈ বালু থেকে চিপ শিল্পের পথে বাংলাদেশ : ৮ নদীর বালুতে সেমিকন্ডাক্টরের সম্ভাবনা, সংগ্রহ করা হয়েছে ৬৬০০ নমুনা ◈ ২০০ কি.মি.র ভোগান্তি শেষ: যমুনায় ২ নদীবন্দরে বদলে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি ◈ আগস্টের ১১ দিনেই রেমিট্যান্স এলো ১৩৯ কোটি ডলার ◈ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার ◈ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল ◈ সি‌রি‌জের প্রথম টেস্টে বৃহস্প‌তিবার বাংলা‌দেশ-অ‌স্ট্রেলিয়া মু‌খোমু‌খি, ৪ পেসার নিয়ে খেলবে টাইগাররা ◈ পুলিশে বড় রদবদল, কমিশনার-ডিআইজি-এসপিসহ বদলি ২৩ কর্মকর্তা

প্রকাশিত : ০৫ এপ্রিল, ২০২১, ০১:৩৬ দুপুর
আপডেট : ০৫ এপ্রিল, ২০২১, ০৪:৫৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] ভারতের দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকার নিবন্ধে দাবি, বাংলাদেশ এখন একাত্তরের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন

মাছুম বিল্লাহ: [২] ভারতের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকায় দেশটির স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক অতীন দাশ এক কলামে লিখেছেন, একাত্তরের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষম কি না, সে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে শন্তিপ্রিয় মানুষের মনে। সম্প্রতি বাংলাদেশে মৌলবাদীদের যে উন্মাদ-আস্ফালন লক্ষ করা গেছে তা সামাল দেওয়া যে সহজ ব্যাপার নয়, দায়িত্বশীল মহল সে আশঙ্কায় দারুণভাবে চিন্তিত।

[৩] অতীন দাশ মৌলবাদীদের এই উত্থানের পেছনে শেখ হাসিনা সরকারকে দায়ী করে লিখেছেন, দীর্ঘদিন ধরে মৌলবাদীরা বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াজ এবং গণসমাবেশের মাধ্যমে ভারতবিরোধী প্রচার, উগ্র সাম্প্রদায়িক বক্তব্য রেখে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে তুলেছে। আওয়ামী লীগ বা হাসিনা সরকার কাগজে বিবৃতি দেওয়া ছাড়া এর বিরুদ্ধে কোনও ধরণের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশে মৌলবাদীদের এই যে বাড়বাড়ন্ত তার পিছনে আওয়ামী লীগেরও একটা ভুমিকা রয়েছে। মৌলবাদী মানেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, ওদের সঙ্গে আপস করে মুক্তিযুদ্ধে ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি তা একদিন দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে যে হুমকি হতে পারে, সে বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখেনি আওয়ামী লীগ। কেউ কেউ ভেবে থাকলেও আওয়ামী লীগে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির যে অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তাদের প্রভাবে কিছু করা সম্ভব হয়নি।

[৪] যুগশঙ্খের কলামে লেখা হয়েছে, খালেদা-নিজামির আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন সংঘটিত হয়েছিল, সে ব্যাপারে গঠিত তদন্ত কমিশন পাঁচ হাজারের বেশি ঘটনায় দোষীদের চিহিৃত করেছিল, কিন্তু হাসিনা সরকার তিন দফায় ক্ষমতায় এসেও একটি ঘটনারও সুবিচার করেনি। অনুরুপভাবে চট্টগ্রামের রামু, ব্রহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর এবং মুরাদনগরে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের সঙ্গ জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায়। এ ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও জড়িত। লোকদেখানো কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কিন্তু মুল আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। সরকার এ ঘটনার বিচার করে নাই।

[৫] কলামে অতীন দাশ লিখেছেন, হাসিনা সরকারে যে বামপন্থী দুটি মুখ ছিল হাসানুল হক ইনু এবং রাশেদ খান মেনন, তাদের সরকারে রাখা হয়নি, কায়েমি স্বার্থের পরামর্শে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, আওয়ামী লগি যদি এতই সংখ্যালঘুদরদি তাহলে এত বছরেও শত্রুসম্পত্তি আইন বাতিল হল না কেন? আওয়ামী লীগের যে সব কান্ডারী মনে করেন যে মৌলবাদীদের গোঁসা সংখ্যালঘুদের ওপর দিয়ে কেটে যাবে, আর তারা নির্বিঘ্নে রাজত্ব করে যাবেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা তাদের সেই সুবিধাদী অবস্থানে দারুণভাবে আঘাত হেনেছে। মৌলবাদীরা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

[৬] কলামে তিনি লিখেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তৃতার উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ। তিনি বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন যেমন কঠিন, তা রক্ষা করা এর চেয়েও কঠিনতর।’ শুধু আওয়ামী লীগ বা তার সহযোগী সংগঠনসমুহই নয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে। মনে রাখতে হবে, যারা আদর্শচ্যুত, আপনজন হলেও তারা পরিত্যাজ্য। বাংলাদেশ এখন একাত্তরের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়