প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফারুক ওয়াসিফ: শ্যাম ও কুল দুদিক হারাবার ভয়ে আতঙ্কিত হেফাজতের শীর্ষ নেতারা?

ফারুক ওয়াসিফ : হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই থাকতে পারবে, নাস্তিক থাকতে পারবে না। যারা গুলি করে নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে, তারা থাকতে পারবে। যারা জান ও জবানের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে, তাদের পাশে থাকবেন তিনি। যারা স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়েছে তারা বিক্রি করতে থাকুক, অসুবিধা নাই। যারা বেগমপাড়াকে দেশ আর দেশকে মাফিয়াস্তান বানিয়েছে, তাদের বাসায় দাওয়াত খাওয়াতেও সুখ। শুধু নাস্তিক থাকতে পারবে না, তাদের কতলও করা হতে পারবে। এই কথা বলে তিনি মাদ্রাসা ছাত্রদের গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক আত্মদানকে বিকিয়ে দিলেন তাদেরই কাছে, যাদের বিরুদ্ধে এই তরুণেরা জীবন দিয়েছে। বুঝিয়ে দিলেন, কওমি ছাত্ররা ভুল করেছে, ঠিকটা করছেন তিনি!
আসলে এটা হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের ভয়ের প্রকাশ। শ্যাম ও কুল দুদিক হারাবার ভয়ে তাঁরা আতঙ্কিত। তাদের লাশেও সওদাগিরি, তাদের আপোসের দোকানদারি তাদের অনেক অনুসারীরা চিনে ফেলেছেন। যদি বিভ্রান্তই করতে না পারেন, তাহলে মহাজনেরাও এসব হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাদের পুষবেন কেন? বাবুনগরীরা দেখছেন, অনুসারীরা অনেকে নেতাদের কথা মানছেন না। তলার মাটি সরে যাওয়ার ভয়ে তারা এখন জুজুর ভয় দেখিয়ে, ঘৃণার আতশ ফুটিয়ে সংগ্রামীদের চোখে ধুলা দিতে চাইছেন। কিন্তু নাস্তিক-বিদ্বেষের কার্ডটি ব্যবহারে ব্যবহারে নেতানো নিউজপ্রিন্ট হয়ে গেছে। এইটা দিয়ে কি আর চলবে?
নাস্তিক ও বাম হলো নিরাপদ টার্গেট। যখন বৃহত বাম দলের নেতারা বিবৃতিদাতা ওরা ১১ জনের কাতারে, তখন বাম ছাত্রতরুণেরা বিরাট সাহস ও স্বচ্ছতা নিয়ে জাতীয় রাজনীতির মূল এজেন্ডা সেট করেছে, যখন মাদ্রাসা ছাত্ররাও তাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে, তখন তিনি আন্দোলনকে ঘৃণার ছুরি দিয়ে ভাগ করে ফেললেন।
ছাত্ররা তাদের নেতাদের আপোসের বাইরে রাজপথে নেমেছিল, এখন সেই মিছিলকে ঘুরিয়ে দিতে চাওয়া হচ্ছে গৌণ হয়ে থাকা কয়েকজন নাস্তিকের বিরুদ্ধে। ভুল জায়গায় শত্রু খোঁজার চাতুরি রাজনীতির ধুলাখেলা। আজ নাস্তিকের বিরুদ্ধে, কাল নারীর বিরুদ্ধে, পরশু সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে, এরকম দিগ্বিদিকি ছুটিয়ে ছুটিয়ে হয়রান করাতেই তাদের লাভ। হিটলার ইহুদীদের জাতীয় শত্রু বানিয়ে, বিজেপি মুসলমানদের ভারতের শত্রু বানিয়ে শেষ পর্যন্ত নিঃস্ব ও ছত্রভঙ্গ করেছে স্বধর্মের সংখ্যাগরিষ্ঠদেরই।
এই সময়ের নকল জাতীয়তাবাদ, ধর্মবাদ, সাম্যবাদ নিজ জাতিকে, ধর্মবিশ্বাসীদের, শ্রমিকদের আসলে ভালোবাসে না। তারা তাদের অযোগ্য ও অসম্পূর্ণ মনে করে বদলাতে চায়। বলে, তোমার চেতনা নাই, তোমার ইমান নাই, তোমার শ্রেণি সংগ্রাম নাই, তুমি বাতিল না হতে চাইলে আমার মতো হও। তাদের আসল ভয় ভিন্ন জাতি, ধর্ম বা শ্রেণি নয়, তাদের আসল ভয় হলো, যাদের কাঁধে সওয়ার হয়ে তারা চলছেন, তারা যাতে কাঁধ থেকে তাদের ফেলে না দেয়। তাই চিলের পিছে ছোটায়। ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত