প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোভিড নিয়ন্ত্রণে সিদ্ধান্ত, সংক্রমণের গ্রাফ ও লকডাউন

এ বি এম কামরুল হাসান: সোমবার থেকে সারা দেশে লকডাউন। সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে কেন জানি মনে হচ্ছে, কোভিড বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আমরা সব সময় এক সপ্তাহ পিছিয়ে আছি। সময়ের কাজ সময়ে করতে পারছি না।

বাংলাদেশে কোভিড সংক্রমণের গ্রাফটা বোঝার চেষ্টা করি । গত বছর জুলাই এর দুই তারিখে সংক্রমণের দৈনিক হার চার হাজার অতিক্রম করে। এটাই ছিল প্রথম পিকের সর্বোচ্চ। দৈনিক চারশ ছিল গত বছরের ছাব্বিশ এপ্রিল। গেল বছর চারশ থেকে চার হাজার হতে সময় লাগে সাতষট্টি দিন। এবার লেগেছে একত্রিশ দিন। প্রায় অর্ধেক সময়। চারশ ছিল এ বছরের সাতাশ ফেব্রুয়ারী। চার হাজার হলো তিরিশ মার্চ। পরিসংখ্যানটি মাস খানেক ধরেই জানান দিচ্ছে, এবারে দ্রুততা ও ক্ষিপ্রতার সাথে আসছে। অথচ এটা বুঝতে বা পদক্ষেপ নিতে আমাদের এক মাস সময় লেগে গেলো ! গতবারের সমান পিকে আসার আগেই আমাদের লক ডাউনে যাবার প্রয়োজন ছিল। যেটা করা হচ্ছে এক সপ্তাহ পর। আঠারো দফা অস্পষ্ট নির্দেশমালা দরকার ছিল আরো এক সপ্তাহ আগে, যখন দৈনিক সংক্রমণ তিন হাজারের কোঠায়।

নির্দেশমালা আসলেই অস্পষ্ট ছিল। জনসমাগম সীমিত। সীমিত মানে কি ? অনেক দেশ সীমিত মানে সংখ্যা বলে দিয়েছে। সংখ্যা জানি না বলেই নির্দেশ জারির পর ঢাকার একটি মেডিকেল কলেজে তিন শতাধিক লোক নিয়ে কর্মশালা হয়েছে। বইমেলা চলেছে । হেফাজত সমাবেশ করেছে । খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভর্তি পরীক্ষার নামে যেটা করেছে সেটা তো ইতিহাস, পরিহাস। স্বাস্থ্য বিধি মেনে ভর্তি পরীক্ষা হলো। মুখে মাস্ক, হাতে স্যানিটাইজার, শারীরিক দূরত্ব। কিন্তু বাইরে কি হলো, পরিবহনে কি হলো -তার দায়িত্ব কে নিবে ? সব অফিসে পঞ্চাশ শতাংশ জনবল থাকবে। নির্দেশ জারির পাঁচ দিন পরও জানা গেলো না। কোন পঞ্চাশ শতাংশ অফিসে আসবে ? কারা বাসায় থাকবে ? গণপরিবহনে পঞ্চাশ শতাংশ সিট । ষাট শতাংশ ভাড়া। অফিস খোলা । বাস কম । তাই বাসস্ট্যান্ডে ছোট খাটো গণজমায়েত । একেতো আঠারো দফা পরিষ্কার নয় । তারপর সেটা বাস্তবায়নে কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখা গেলো না। যার ফলে যা হবার তাই হলো। আঠারো দফার নামে তামাশা ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হলো না। এখন আমাদেরকে শেষ ধাপে যাওয়া ছাড়া গতি নেই ।

কোভিড নিয়ন্ত্রণের শেষ উপায় হলো লকডাউন। এটি এখন কঠোরতম করা ছাড়া উপায় নেই। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। কিভাবে কঠোরতম করা যায় । এক সপ্তাহ নয়। নিদেনপক্ষে দুই সপ্তাহ। ভাইরাসটি বাঁচে দুই সপ্তাহ। তাই কঠোর লকডাউন অন্তত দুই সপ্তাহ বাঞ্চনীয়। আবার বেশিদিন লকডাউন কাম্য নয় । অর্থনীতিকে বাঁচাতে হবে । ট্রেন চলবে না। লঞ্চ চলবে না। সাধারণ পরিবহন চলবে না। দেশের ভেতর উড়োজাহাজ চলবে না। শপিং মল বন্ধ থাকবে। এগুলো ভালো খবর। ভাবতে হবে খেটে খাওয়া মানুষের কথা। তাদের প্রণোদনা নিয়ে ভাবা দরকার। শুধু সরকার নয়, সবাইকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। বিত্তবানরা এগিয়ে আসুন। নিজে বের হতে না চাইলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিন। প্রশাসনের সাহায্য নিন। নিজে বাঁচুন। বাড়ির পাশের খেটে খাওয়া মানুষদের বাঁচান। অর্থনীতি বাঁচান । দেশ বাঁচান। লেখকঃ প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট

সর্বাধিক পঠিত