প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গাজীপুরে হেফাজত-পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, পুলিশ ও মুসল্লিসহ আহত ২০

মিলটন খন্দকার: [২] জেলার সিটি কর্পোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

[৩] পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে আট পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২০জন আহত হন। শুক্রবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরের চৌরাস্তা জামে মসজিদ এলাকায় ওইসব ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

[৪] স্থানীয় সূত্রে জানা জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১১টা থেকেই গাজীপুর চৌরাস্তা ও বোর্ডবাজার জামে মসজিদের চারপাশে পুলিশ সশস্ত্র সতর্ক অবস্থানে থাকে। হেফাজতে ইসলামের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুম্মার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল সহকারে মুসল্লিরা চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হয়।

[৫] পরে তারা মিছিল সহকারে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের মাঠের মধ্যেই সমাবেশ করার অনুরোধ করে। পরে হেফাজত নেতাকর্মীরা ও মুসল্লীরা ঈদগাহ মাঠের ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে হেফাজত কর্মী ও মুসল্লীরা চান্দনা চৌরাস্তায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। জবাবে হেফাজত কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে। একপর্যায়ে হেফাজত নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন হেফাজত কর্মী আহত হন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

[৬] পরে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে হেফাজতে ইসলামের অন্তত ২০ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আধাঘন্টা ধরে সবধরণের যান চলাচল বন্ধ থাকে।

[৭] জেলার মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার জাকির হাসান জানান, হেফাজতে ইসলামের পূর্ব নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসুচী তাদেরকে মসজিদ চত্বরেই পালনের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা মহাসড়কে উঠার চেষ্টা নিয়ে পুলিশের সাথে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বাকবিতন্ডার পেছন থেকে হেফাজত কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা, শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি করা হয়। এ ঘটনায় কেউ নিহত হননি। ইটপাকেলের আঘাতে পুলিশের আট সদস্য আহত হয়েছেন। তাদেরকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক তাদের নাম পরিচয় নোট করা হয়নি।

[৮] হেফাজতে ইসলামের গাজীপুর জেলা কমিটির যুগ্ম স¤পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন খান জানান, চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাহ ময়দানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর পুলিশ অতর্কিত লাঠিচার্জ, গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১৫জন কর্মী আহত হয়েছেন।

[৯] অপর দিকে দুপুরে জুম্মা নামাজের পর মহানগরীর বোর্ড বাজারে হেফাজতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থক ও স্থানীয় কয়েক হাজার মুসল্লী ঢাকা-ময়মনসিংহ সহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয়। এতে হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহিম আল মাদানীসহ স্থানীয় ওলামাগণ বক্তব্য রাখেন। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত