প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সংকটকালীন মুহূর্তে উন্মুক্ত পাঠাগারের শিক্ষার্থীদের পাশে জবি প্রক্টর

অপূর্ব চৌধুরী: [২] করোনাকালীন সংকটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার্থে পাশে দাঁড়িয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল। গতবছরের সেপ্টেম্বরে দেশব্যাপী করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবার পর শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পড়াশোনার সুবিধার্থে খুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত পাঠাগার। তার এ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে পাঠাগারমুখী হতে থাকে শিক্ষার্থীরা।

[৩] বর্তমানে করোনার প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে পাঠাগারের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

[৪] এদিকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত পাঠাগারে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরাও দারুণ খুশি হন। ধীরে ধীরে পাঠাগারে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ও লোকপ্রশাসন বিভাগের মোট ৯টি রুমে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত পাঠাগারের কার্যক্রম পরিচালিত হত।

[৫] করোনার প্রকোপ বিদ্যমান থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ও মাস্ক পরিধান করে শিক্ষার্থীরা যেন পাঠাগারে পড়াশোনা করে শুরু থেকেই সেই বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল।

[৬] পাশাপাশি পাঠাগারে শিক্ষার যথাযথ পরিবেশ তৈরী, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে পাঠাগারের সময়সীমা বৃদ্ধি সহ তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, ইলেক্ট্রিক ফিল্টার স্থাপন সহ পাঠাগারের সাথে সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে তিনি ছিলেন তৎপর।

[৭] প্রক্টরের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরী করেছে উৎফুল্লতা জুগিয়েছে প্রেরণা। একই সাথে তাদের প্রত্যাশা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুতই আবারো পাঠাগারে ফিরতে পারবেন তারা।উন্মুক্ত পাঠাগারের শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ বলেন, মহামারিতেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় টিকে থাকার জন্য এক ঝাক মেধাবী শিক্ষার্থীকে উন্মুক্ত পাঠাগারে পড়াশোনার সুযোগ দেন ড. মোস্তফা কামাল স্যার।এজন্য আমরা স্যারের নিকট কৃতজ্ঞ।আশা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শীঘ্রই পাঠাগারমুখী হতে পারব।

[৮] রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জুনায়েদ সাব্বির বলেন,করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সেপ্টেম্বরে উন্মুক্ত পাঠাগার খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেন প্রক্টর স্যার৷ ফলে আমরা একটি সুন্দর পড়াশোনার পরিবেশ পাই।এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

[৯] উন্মুক্ত পাঠাগারের প্রতিনিধি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৭ম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, পাঠাগারের সার্বিক দিক সম্পর্কে প্রক্টর স্যার সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখেন। পাঠাগার ও শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিক ।

[১০] এ ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারে সেজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে উন্মুক্ত লাইব্রেরি খুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে করোনার প্রাদুর্ভাব আবারও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারো পাঠাগারের কার্যক্রম চালু করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত