প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদন: মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় ‘উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা’ রয়েছে বাংলাদেশে

ইত্তেফাক: বাংলাদেশের সংবিধানে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা উল্লেখ থাকলেও সরকার অনেক ক্ষেত্রেই তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দেশটিতে মত প্রকাশের স্বাধীনতার উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ২০২০ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে করা প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক সাংবাদিক হয়রানি ও নিপীড়নের ভয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে সরকারের সমালোচনা করার বিষয়ে নিজেদের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করেছেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় সরকার ২০১৮ সালে পাশ হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে মহামারি মোকাবিলায় সরকারের সমালোচকদের শায়েস্তা করতে ব্যবহার করেছে। আইনে ‘হেইট স্পিচ’ বা ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও একে যথাযথভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি, যার কারণে সরকার একে ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করার সুযোগ পায়।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অজুহাতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে গোয়েন্দা বিভাগ এবং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা, হয়রানি বা ভয় দেখানোর মতো কাজ করেছে। এছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় সরকার ইন্টারনেট যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করা, ফিল্টার কিংবা ব্লক করার মতো পদক্ষেপ নিয়ে থাকে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে অন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকার বা এর এজেন্টদের হাতে বিচারবহির্ভূত ও বেআইনি হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন ও বেআইনিভাবে আটক রাখা এবং মত প্রকাশে বাধাদানের মতো ইস্যুগুলো।

বিস্তারিত এই প্রতিবেদনকে সাতটি মূল সেকশনে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে গুরুত্ব পেয়েছে নির্যাতন, কারাগারের বৈরী পরিস্থিতি, বেআইনিভাবে আটক, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, সহিংসতা, বেআইনিভাবে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের গ্রেফতার, সেন্সরশিপ আরোপ, সাইট ব্লকিং, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়া ও সংগঠনের অধিকার হরণ, চলাচলের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ ও সহিংসতা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রতি সহিংসতা ও হুমকি, সমকামীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, শ্রমিক সংগঠন ও ইউনিয়ন গঠনে কঠোরতা এবং শিশুশ্রমের মতো বিষয়গুলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার দেওয়া হলেও নির্বিচার ও বেআইনিভাবে হত্যার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দায়মুক্তি দিয়ে থাকে। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে খুব কম পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। দুর্নীতি বাংলাদেশে এখনো মারাত্মক সমস্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

সর্বাধিক পঠিত