প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাঈদ তারেক: ভ্যাকসিন আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক!

সাঈদ তারেক: বাংলাদেশে করোনার থাবা মারাত্মক হয়ে দেখা দিয়েছে। রুটিন নিয়মে টিকাদান কর্মসূচি চলছে, এর মধ্যে কাল স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান দিলেন, সময়মত দ্বিতীয় ডোজ পুশ করা নিয়ে নাকি সন্দেহ আছে। মজুদ এবং সরবরাহের অনিশ্চিয়তা এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ফলে স্বভাবতই নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যারা প্রথম ডোজ নিয়ে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছেন তাদের দুশ্চিন্তাটা একটু বেশি। আমাদের দেশে টিকার চালান আসছে ভারত থেকে। একটাই টিকা। সেরাম ইন্সটিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-এস্টাজেনেকার টিকা। প্রথম দফায়ই সরকার বুকিং দিয়ে রেখেছিল এবং প্রথম দফায়ই ভারত চালানের একটি অংশ সরবরাহ করেছে।

এই টিকা ছাড়া আমাদের কাছে অন্য কোনো কোম্পানির টিকা নেই। সারা দুনিয়ায়ই নতুন করে করোনা হানা দেওয়ায় দেশে দেশে টিকাদান কর্মসূচিও জোরেশোরে চলছে। আমেরিকায় প্রধানত তিনটি টিকা দেওয়া হচ্ছে। ফাইজার-বায়ো-এনটেকের টিকা, মডার্না এবং জনসন অ্যান্ড জনসন-জেনেসেন টিকা। যার যে কোম্পানির ওপর আস্থা আছে মানুষ চাইলে সে টিকা গ্রহণ করতে পারে। ইওরোপে প্রধানত অক্সফোর্ড-এস্টাজেনেকার টিকারই চল, তারপরও এসব দেশের মানুষ অন্য কোনো টিকা গ্রহণের জন্য স্বাধীন। ভারতেও সেরামের তৈরি অক্সফোর্ড-এস্টাজেনেকার টিকা ছাড়াও আরও কমপক্ষে দুইটি কোম্পানি টিকা বাজারজাত করেছে বলে জানা গেছে। সে দেশের সরকার ইতোমধ্যে সেগুলোরও অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে।

অক্সফোর্ড-এস্টাজেনেকার টিকার পরীক্ষা-নিরিক্ষা এখনো শেষ হয়নি। এটি না পুরোপুরিভাবে বাজারে আসবে এপ্রিলে। ভারতের কমপক্ষে সাতটি কোম্পানি তাদের উৎপাদিত টিকা বাজারজাত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত-বায়েটেকের কোভ্যাক্সিন ইতোমধ্যেই প্রস্তুত। এই মার্চেই বাজারে ছাড়ার কথা। হায়দ্রাবাদভিত্তিক বায়োলজিক্যালইর একটি টিকা ফেব্রুয়ারিতে আসার কথা ছিল। পুনেভিত্তিক জেনেভা বায়োফার্মসিউটিক্যালস-এর এস-আরএনএ নামক একটি টিকাও মার্চে বাজারে আসবে বলে জানানো হয়েছিল। অর্থাৎ ভারতের জনগণ তাদের পছন্দমতো টিকা গ্রহণের জন্য স্বাধীন। আমরা যে টিকাটি গ্রহণ করছি সেরামের তৈরি অক্সফোর্ড-এস্টজেনেকার এই টিকা নিয়ে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা সমালোচনা উঠেছিল।

আমেরিকা প্রথম দফায় ৩০ লাখ ডোজ কিনে তা আর ব্যবহার করেনি। সেখানকার এফডিও বলেছে এই টিকা ৭৯ শতাংশ কার্যকর। এগুলো নাকি এখন কানাডা আর মেক্সিকোকে গছানোর চেষ্টা চলছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে এই টিকার বিরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা ওঠে। কোনো কোনো দেশ থেকে বলা হয়, এতে নাকি মানুষের দেহে রক্ত জমাট বাঁধার উপকরণ আছে। বেশ কয়েকটি দেশ টিকাপ্রদান কর্মসূচি স্থগিতও করেছিল। যাহোক শেষ পর্যন্ত এসব অভিযোগের ব্যাপকভিত্তিক সত্যতা প্রমাণিত হয়নি, ফলে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এ টিকাকে মানসম্মত বলে সার্টিফিকেট দিয়েছে। এরপর থেকে ইউরোপের দেশগুলো আবার টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে।

সেরামের টিকা নিয়ে একপর্যায়ে ভারতেও কথা উঠেছিল। সমালোচনার মুখে কদিন আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শোনা গেছিল ভারতীয়দের এই টিকা ব্যবহারের ব্যাপারে পর্যালোচনা করা যেতে পারে তবে বাংলাদেশিদের ওপর এর প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে। অব্যাহত আছে। কারণ আমাদের আর চয়েস নেই। চয়েজ নেই বলতে টিকা যারা নিতে চাইবেন তাদের এই টিকাই নিতে হবে। আমাদের সরকার এখন পর্যন্ত সেরামের টিকা ছাড়া অন্য কোনো টিকা আমদানি করেনি বা কোনো বেসরকারি সংস্থাকে মডার্না, জনসন বা ফাইজার এমনকি ভারতেরই অন্য কোনো কোম্পানির টিকা আমদানির অনুমতি দিয়েছে বলে জানা যায়নি। সেরামের টিকা খারাপ বা মানসম্মত নয়- এমন কথা কেউ বলছে না। সারা বিশ্বেই মানুষ অক্সফোর্ডের এ টিকা গ্রহণ করছে। সেদিন খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিজে এই টিকা নিয়েছেন।

কাজেই এর মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না, কথা হচ্ছে টিকা যেহেতু বিশ্বে আরও আছে- তা নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের চয়েজের ব্যাপারটা থাকতে পারে কিনা। ভারতের বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি টিকা তৈরি নিয়ে গবেষণা করছে দীর্ঘদিন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বানিয়েও ফেলেছে। আমাদের দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বললে তারাও এতোদিনে করোনার টিকা রেডি করে ফেলতে পারতো বলে আমার বিশ্বাস। এটা কোনো বিগডিল নয়। গত বছর গণস্বাস্থ্য আগেভাগেই করোনা পরীক্ষার কিট উদ্ভাবন করে ফেলেছিল। ধান্ধাবাজদের বাণিজ্য হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়ে শেষ পর্যন্ত সে কিট অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

এবারও হয়তো টিকা নিয়ে বড় ধরনের কোনো বাণিজ্য হয়ে গেছে। সেদিন এক কাগজে দেখলাম অক্সফোর্ড-এস্টাজেনেকার প্রতিডোজ টিকার দাম নাকি ১৮০ টাকা। আমাদের করিৎকর্মারা নাকি তা কিনেছে ১১০০ টাকা করে। সত্য-মিথ্যা জানি না। কারণ আমাদের দেশের সরকারি ক্রয়ে কর্তৃপক্ষকে কখনো ক্রয়মূল্য প্রকাশ করতে দেখা যায় না। কারণ না বোঝার মতো গর্দভ কেউ না। কাজেই বাণিজ্য যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন প্রাইভেট সেক্টরে করোনার টিকা আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে অসুবিধার কিছু দেখছি না। কিছুদিন আগে শুনেছিলাম আমাদের দেশের গ্লোব বায়োটেক নাকি ইতোমধ্যে করোনা ভ্যাক্সিন তৈরি করে ফেলেছে। যদি তাই হয়ে থাকে, এর অনুমোদন নিয়েও তো কথাবার্তা চলতে পারে। মানুষে মানুষে পছন্দের ভিন্নতা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।

তাছাড়া বিশ্বাস এবং আস্থারও ব্যাপার আছে। বিশ্বে যেহেতু আরও কয়েক ধরনের টিকা উৎপাদিত হচ্ছে, ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটের প্রডাক্টের পাশাপাশি অন্য কোম্পানির টিকা আমদানির অনুমোদন দিলে সমস্যা কিছু দেখি না তো! হ্যাঁ, ফাইজার বা মডার্নার টিকা সংরক্ষণের ব্যাপারে কিছু বিশেষ ব্যবস্থা আছে। বলা হয়েছিল, আমাদের দেশে সেই সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দুষ্কর। তারপরও মানুষ চাইলে কিনা হয়। আমার বিশ্বাস সরকার বা বেসরকারি পর্যায়ে যদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশে উৎপাদিত এমনকি ভারতেরই অন্য কোম্পানির টিকা আমদানি করা সম্ভব। এখন দরকার- শুধু একটিমাত্র প্রডাক্টের ওপর নির্ভরশীল না থেকে অন্য সোর্স থেকেও টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা। যতো দ্রুত সম্ভব। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত