প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের কাজ শুরু চলতি বছরের ৩০জুন, চালু হবে ডিসেম্বর ২০২৩ বা ২০২৪ সালের মার্চে: ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিএসসিসিএল

সমীরণ রায়: [২] বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, ২০০৮ সালে বিটিটিবি কোম্পানি বিলুপ্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ টেলিকমনিকেশন (বিটিসিএল) ও বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) সৃষ্টি করা হয়। তবে ২০০৬ সালের এপ্রিল থেকে সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যবহার শুরু হয়। তখন কক্সবাজারে বাংলাদেশের একমাত্র সি-মি-উই-ফোর সাবমেরিন ক্যাবল যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশের জন্য প্রাথমিক ক্যাপাসিটি ছিলো ১০ জিবিপিএস। তখন সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ ইউস হতো আন্তর্জাতিক ভয়েসের জন্য।

[৩] তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর ডিজিটাল বাংলাদেশের শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বেড়ে যায়। এতে ২০১২ সালে আরেকটি সাবমেরিন ক্যাবল করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ২০১৪ সালে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রথম ছিলো সি-মি-উই-ফোর। আর দ্বিতীয় সি-মি-উই-ফাইফ ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটাতে সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন চালু হয়। ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির উদ্বোধন করেন। এটির ব্যান্ডউইথ প্রাথমিকভাবে ছিলো ১৫০০ জিবিপিএস। প্রথমে আমরা ১৫০০ চালু না করে ২০০ জিবিপিএস চালু করি। এটি বাড়িয়েছি। প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল থেকে বাংলাদেশ ৫০০ জিবিপিএস, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল থেকে ২৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পাচ্ছি। মোট ২৮০০জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পাচ্ছি।

[৪] তিনি আরও বলেন, সিঙ্গাপুরের দিকে ১৬০০ জিবিপিএস এর বেশি পাচ্ছি না। কারণ দেশের ব্যান্ডউইথের চাহিদার ৯৫ভাগ হলো সিঙ্গাপুরের দিকে। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে কানেক্ট হতে পারলে সারা বিশ্বের সঙ্গে কানেকশন হওয়া সম্ভব। সেই জন্য ২০১৯ সালে আরেকটি সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-উই-৬ নামের একটি কনসোডিয়ামে সিঙ্গাপুরের নেতৃত্বে গঠন করা হয়। তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল চালু হলে সিঙ্গাপুরের দিকে ৬০০০ জিবিপিএস পাওয়া যাবে। এছাড়াও দেশে থ্রি জি ও ফোর জি চালু হওয়ায় প্রতিবছর ব্যান্ডউইথ গ্রোথ ৪০ ভাগ বাড়ছে।

[৫] বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ইতোমধ্যে ইউএসের সাপকম কোম্পানিকে যাচাই বাছাই করে চলতি মাসের মাঝামাঝি ভ্যান্ডর সিলেকশনের কাজ শেষ হয়েছে। এ প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন হয়েছে। এ প্রকল্পের ব্যয় ৬৯৩ কোটি টাকা। এরমধ্যে জিওবি ফাণ্ড থেকে ৩৯২ কোটি টাকা সরকার ইনভেস্ট করবে। আর বাকি ৩০১ কোটি টাকা কোম্পানির ফাণ্ড থেকে ইনভেস্ট করা হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল তার লাইফ ২০২২ সালে শেষ হলেও আরও ৫ বছর চালাতে পারবো। কারণ একটি সাবমেরিন ক্যাবলের লাইফ ২৫ বছর। সেক্ষেত্রে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ২০৪৮ সাল পর্যন্ত চলবে। আাগামীতে বাল্ক ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের জন্য সাবমেরিনের কোনো বিকল্প নেই। কারণ সারা বিশ্বের ৯৯ ভাগ সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট বিতরণ করা হয়।

[৬] তিনি বলেন, ভারতের ত্রিপুরাকে ব্যান্ডউইথ ব্যবহারে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩ বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছিলো। যদিও সেটি এক বছরের জন্য বাড়িয়ে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছিলো। এতে ত্রিপুরার কাছে বাংলাদেশে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার পাওয়ানা ছিলো। সেটি পরিশোধ করার পর এখনও ১ লাখ ডলার পাওনা রয়েছে। এটি আগামী ৬ মাসের মধ্যে ত্রিপুরা পরিশোধ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত