প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভাসানচরের পথে চট্টগ্রামে আড়াই হাজার রোহিঙ্গা

ফরিদুল মোস্তফা :[২] আরও প্রায় আড়াই হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরের পথে চট্টগ্রাম গেছে। মঙ্গলবার দুপুর ও বিকেলে দুই ধাপে দুপুর ও বিকেলে ৪৫ বাসে মোট ২ হাজার ৪৯৫ জন রোহিঙ্গা বহনকারি ৪৫ টি বাস চট্টগ্রামের উদ্দ্যেশে উখিয়া ছেড়ে গেছে।

[৩] এটি ষষ্ঠ দফার রোহিঙ্গা যারা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে নিজেদের জীবন উন্নয়নে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে এটি ভাসানচরমুখী রোহিঙ্গাদের আপাততঃ শেষ যাত্রা বলে জানা গেছে।

[৪] শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ্দৌজা জানান, কয়েক ধাপে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজারের মতো রোহিঙ্গা ভাসানচরে গেছে। এই দফায় আড়াই হাজারের মতো রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ভাসানচর যাচ্ছে। যারা যেতে ইচ্ছুক তাদের নিবন্ধনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ভাসানচর নেওয়া হবে।

[৫] এভাবে পর্যায়ক্রমে এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করা হবে ভাসানচরে।মঙ্গলবার ষষ্ঠ দফায় দুপুর ও বিকেলে দুই ধাপে ৪৫ টি বাস যোগে উখিয়া ডিগ্রী কলেজ ক্যাম্পাসের অস্হায়ী ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দ্যেশে রওনা দিয়েছে রোহিঙ্গারা।

[৬] রোহিঙ্গাদের বহনকারি বাসগুলোর সামনে ও পেছনে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য ছাড়াও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংস্থাকে কড়া নিরাপত্তা দিতে দেখা গেছে ।ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য সোমবার রাত থেকেই উখিয়া ডিগ্রী কলেজ এবং কুতুপালং ক্যাম্প সংলগ্ন ট্রানজিট ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসা হয়।

[৭] এসব রোহিঙ্গাদের জন্য মেজবানি খাবারের বন্দোবস্ত করা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। প্রাথমিকভাবে ভাসানচরমুখী রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে গাড়ীতে উঠানো হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এটি হয়ত ভাসানচরমুখী রোহিঙ্গাদের শেষ কাফেলা। কারণ চলতি শুষ্ক মৌসুম বা এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সমুদ্র অনেকটা শান্ত থাকে। বর্তমানে সমুদ্রে অনেকটা প্রতিকূল অবস্থা দেখা দিচ্ছে।

[৮] ভাসানচরমুখী রোহিঙ্গাদের চট্টগ্রাম থেকে সমুদ্র পথে নেয়া হয়ে থাকে।এছাড়াও বর্তমানে দেশব্যাপী করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিও অনেকটা প্রতিকূলে। তাছাড়া আর কয়দিন পর পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। তাই সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় চলতি মৌসুমে সম্ভবত এটিই ভাসানচরমুখী রোহিঙ্গাদের শেষ যাত্রা।

[৯] তবে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয় ক্যাম্প থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ভাসানচর চলে যেতে নাম তালিকাভূক্ত করাচ্ছে বলে সূত্র জানায়।সূত্র জানায়, ষষ্ঠ দফায় ভাসানচরের পথে রওনা হওয়া রোহিঙ্গারা রাতে চট্টগ্রামে বিএন শাহীন কলেজের ট্রানজিট ক্যাম্পে অবস্থান করবে। সেখান থেকে আজ বুধবার (৩১ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্বাবধানে জাহাজে করে তাদের ভাসানচরে নেওয়া হবে।

[১০] এর আগে প্রথম দফায় গত ৪ ডিসেম্বর উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয় ক্যাম্প থেকে এক হাজার ৬৪২ জন, দ্বিতীয় দফায় গত ২৮ ডিসেম্বর এক হাজার ৮০৫ জন, তৃতীয় দফায় গত ২৯ ও ৩০ জানুয়ারী তিন হাজার ২০০ জনের বেশী এবং চতুর্থ দফায় গত ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারী প্রায় ৪ হাজার, চলতি মার্চ মাসে পঞ্চম দফায় ২ ও ৩ তারিখ ২৭১৩ জন রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছিল।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

সর্বাধিক পঠিত