প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মুর্তা ও শীতল পাটি

আশরাফ আহমেদ:[২] আধুনিক শিল্পের ক্রম বিকাশের ফলে প্লাস্টিক সামগ্রীর আগমনে দেশের প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যের মুর্তা ও শীতল পাটি এখন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে প্রায় বিলুপ্ত পথে।

[৩] শীতলপাটি শিল্প বাজারে প্লাষ্টিক সামগ্রী ও বিদেশী পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেনা।তাই বর্তমানে শীতলপাটি শিল্পীদের জীবন একেবারে নাজুক। হস্ত ও কুটির শিল্পকে উৎসাহিত করতে সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও শীতলপাটির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে তাদের কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

[৪] জানা যায়, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে খাল-বিল ও লোকালয়ের পাশে প্রচুর মুর্তা পাওয়া যেত ।শীতলপাটির প্রধান উপকরণ মুর্তা। কিন্তু নিজেদের প্রয়োজনে মুর্তা উজাড় করে ফেলার কারণে হোসেনপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চল থেকে ক্রমেই মুর্তা কিংবা মুর্তার বাগান হারিয়ে যাচ্ছে।

[৫] ফলে এখন আর সচরাচর মুর্তা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে পাটিশিল্পীরা বেকার হয়ে পড়েছেন।মুর্তা বা পাটিবেত বা পাটিপাতা বা মুস্তাক (বৈজ্ঞানিক নাম: Schumannianthusdichotomus) হচ্ছে সেই উদ্ভিদের নাম যা দিয়ে শীতল পাটি তৈরি হয়। শীতল পাটি হচ্ছে বাংলাদেশ এবং পূর্ব ভারতের ঐতিহ্যবাহী বিছানার মাদুর।মুর্তা উদ্ভিদ জাতীয়।

[৬] মুর্তা গাছ সবুজাভ। প্রাকৃতিক সবুজ আবরণে আবৃত ছোট ছোট গাছ। তার গা আকারে বেশি বড় ও লম্বায় এতো দীর্ঘ হয় না। গায়ে ২ ইঞ্চি থেকে ৪/৫ ইঞ্চি ব্যসার্ধ গোলাকার ও লম্বায় হাত দু’হাত থেকে ৫/৬ হাত লম্বা হয়ে থাকে। জাম বা কাঁঠালের পাতার মত আকারও সবুজ।

[৭] রজনীগন্ধার ফুলের মত সাদা ফুল ফুটে তবে ঘ্রাণ নেই। কখনো ঘিটু বাঁধা ডালপালা গজায়। মুর্তা গাছের আবৃত সবুজ অংশ আবরণ বা চামড়া পাতলা করে চিলে উঠানো সম্ভব। মুর্তাকে চাকু দিয়ে চিলে করে যে সরু ও চিকন বেত বের করা হয় তাই মুর্তা বেত। বেতকে বের করার পর ভেতরে যে সাদা অংশ পড়ে থাকে তাকে মুর্তার বুক বলা হয়।

[৮] মুর্তার বুক শুকিয়ে জ্বালানিতে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু শীতল পাটির জন্য উপযুক্ত বেত বের করতে মুর্তা বেত থেকে শুধু সবুজ আবরণটুকু চিলে নেয়ার ফলে আরেকটি সাদা আংশ বেত স্বরূপ পাওয়া যায়। তাকে আউতি বলে। এ আউতি দিয়ে চাটি, দাড়িয়া, দাড়া, ঝাড়ু ও আউতি আদি তৈরি করণে ব্যবহৃত হয়।

[৯] পক্ত শক্ত মোটা মুর্তা কেটে যে বেত বের করা হয় তা দৈনন্দিন ব্যবহার ও কাজে লাগে। সাংসারিক ব্যবহৃত বাঁশ বেতের জিনিসপত্র, খালই, টুকলা, টুকরি, ডাম, ধান বা ফসলের আটি, নেরার আটি ও ছনের ঘরের চাল ইত্যাদি বাঁধতে এ বেত ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত