প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] উন্নত দেশের গণমাধ্যমও বাংলাদেশের মতো স্বাধীনতা ভোগ করে না: ড. হাছান মাহমুদ

সমীরণ রায়: [২] ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে একটি ভুল সংবাদ পরিবেশিত হওয়ার কারণে ১৬৭ বছরের পুরনো পত্রিকা ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম সারির গণমাধ্যম বিবিসিতে একজন এমপির বিরুদ্ধে অসত্য সংবাদ পরিবেশিত হওয়ার পর মামলা হলে প্রধান নির্বাহী থেকে শুরু করে পুরো টিমকে পদত্যাগ করতে হয়। যুক্তরাজ্যে প্রতিনিয়ত ভুল সংবাদ পরিবেশনের কারণে টেলিভিশন এবং পত্রপত্রিকাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়। আমাদের দেশে ভুল সংবাদ, অসত্য সংবাদ পরিবেশিত হয় না, এটি কেউ বলতে পারবেন না।

[৩] তিনি বলেন, ৫০ বছরের খতিয়ান দেবো না। গত ১২ বছরের খতিয়ান দিতে চাই। ১২ বছর আগে বাংলাদেশে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল ৪৫০, এখন ১২৫০। ১২ বছর আগে টেলিভিশন ছিল ১০টি। এই বেসরকারি টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব পাওয়ার পর। এখন অন-এয়ারে আছে ৩৪টি এবং আরও আসার অপেক্ষায় আছে ১১টি। এখন অনলাইন কয়েকশ’ কিংবা কয় হাজার সেটি একটি পরীক্ষা নিরীক্ষার বিষয়। মন্ত্রণালয়ের কাছে ৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে নিবন্ধনের জন্য। ইতোমধ্যে কয়েকশ’ দিয়েছি, আরও কয়েকশ’ দেওয়া হবে। এই গ্রোথের সঙ্গে নানা চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়েছে।

[৪] আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশে কোনো একজনের বিরুদ্ধে একটি বক্তব্য দেওয়া হলে তিনি প্রতিবাদ জানান। ভুল সংবাদ প্রথম পাতায় বড় করে আর প্রতিবাদটি তৃতীয় পাতায় ছোট্ট করে ছাপানো হয়। কিছু পত্রিকার ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যতিক্রম আছে। আর টেলিভিশনে যদি অসত্য সংবাদ পরিবেশিত হয় সেটার প্রতিবাদ সেখানে কোনোভাবেই যায় না। এটি বাস্তবতা। গণমাধ্যমের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেকের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। যাতে অপরের স্বাধীনতাকে হরণ না করে। দেশে অসত্য সংবাদ প্রচারের কারণে কোনো সংবাদপত্র বন্ধ হয়নি।

[৫] তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে উপমহাদেশে কোনও সাংবাদিকদের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান কোথাও দেওয়া হয়নি। দেশে করোনাকালে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে এককালীন ১০ হাজার টাকা করে ইতোমধ্যে তিন হাজার সাংবাদিককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আরও এক হাজারের চেয়ে কিছুটা বেশি দিতে পারবো।

[৬] ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্র হন করা হয়, কিংবা তার পরিবার সম্পর্কে লেখা হয়, তিনি কোন আইনে প্রতিকার পাবেন? এই আইনে তিনি প্রতিকার পাবেন। এই আইন একজন লেখক, গৃহিণী, কৃষক, চাকরিজীবী, রাজনীতিবিদ সবার ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। এই আইনের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে আমি। এখানে যাতে কোনো সাংবাদিক অহেতুক নিপীড়িত না হয়, সেটি নিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনায় থাকি।

[৭] মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘৫০ বছরে গণমাধ্যমের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত