প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম: নারীর পূর্ণ স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ

অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম: গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তবে সামাজিক ক্ষেত্রে কিছু অরাজকতা বেড়েছে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা জনিত কারণে মানুষের জীবনে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে এবং মানুষের মধ্যে সামজিক বন্ধন কমেছে। সামাজিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও পড়াশোনায় তরুণদের মনোযোগ কমেছে। প্রযুক্তিনির্ভরতার কারণে তারা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন লেখা-পড়ার মান কমেছে, অন্যদিকে তাদের আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশে অনেক দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। আর্থিক ক্ষেত্রে মানুষের সচ্ছলতা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমান সময়ে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অল্পকিছু মানুষ সম্পদশালী হয়েছে, অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক মানুষ দরিদ্র হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতেও সমস্যা বেড়েছে। সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পায় না। আধুনিক চিকিৎসার ব্যয়বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। চিকিৎসা এখন পণ্য হয়েছে, এটা কিনতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বড় সমস্যা হলো, বেকারত্ব। বিনিয়োগের অভাবে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চাকরির ক্ষেত্রেগুলো কমেছে। যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পাওয়ায় তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি লক্ষণীয়। সারকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নারীর যতোটুকু মর্যাদা ও সুযোগ দেওয়া উচিত তা আমরা দিতে পারছি না।

অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের নারীরা খারাপ অবস্থানে নেই। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোর কারণেই নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়। যেকোনো দেশের উন্নয়নের জন্য নারীর স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। পিতা-মাতার উচিত ছেলে-মেয়েদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা। তরুণদের মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে। পূর্বে সমাজে একধরনের অনুশাসন ছিলো। অন্যায়-অবিচারের একটা নিয়ন্ত্রণ ছিলো, সে বিষয়গুলো এখন শিথিল হয়েছে। সমাজ ও পরিবার ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। তাই আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যেকোনো দুশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে পাশাপাশি অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে হবে। সামাজিক সমস্যা দূর করা জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের মানসিক স্বাস্থ্যর দিকেও নজর দিতে হবে। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যর বিষয়টিকে উপেক্ষা করা হয়।

একটি সুস্থ সমাজের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষকে কর্মমুখী সৃজনশীল, অপরাধহীন ও হতাশা মুক্ত রাখতে হলে মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না, সাধারণ মানুষের উপার্জন বৃদ্ধি করতে হবে। সেজন্য শিল্প-উদ্যোগ, শিল্প-নির্মাণ সৃষ্টি করতে হবে। মানুষকে ভিক্ষার মতো টাকা দিলে হবে না। মানুষ যাতে নিজেরাই টাকা উপার্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে সে পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দিকে সরকার বেশি নজর দিচ্ছে না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি, অথচ পুলিশ ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের হয়রানি করে। বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যাগুলো উত্তরণের জন্য সরকারের জোরালো ভ‚মিকার পাশাপাশি নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।  পরিচিতি : মনোবিদ। অনুলিখন : শাহিন হাওলাদার

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত