প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কক্সবাজারের ৪ ভুমিগ্রাসী সন্ত্রাসীকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ, একাত্তর সম্পাদক  ও জাপা নেতা রুহুল আমিন জেলে

ফরিদুল মোস্তফা খান: কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক কক্সবাজার একাত্তর সম্পাদক জেলা জাতীয় পার্টি সাংগঠনিক সম্পাদক ও অন্যায়ের প্রতিবাদী তরুন লেখক সাংবাদিক জননেতা আলহাজ্ব রুহুল আমিন সিকদারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে কক্সবাজার মডেল থানা পুলিশ।

২৬ মার্চ শুক্রবার বেলা দুই ঘটিকায় দিকে সদর মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে রুজু করা হয়েছে ২০১৯ সালের সংশোধিত আইন শৃংখলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইনের একটি আজগুবি মামলা।

অভিযোগ উঠেছে, সদর মডেল থানার অতি উৎসাহী দারোগা এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে রিমান্ডে এনে মেরে ফেলার পরিকল্পনা নিচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী বলছেন,আজীবন সামাজিক অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী রুহুল আমিন সিকদার কে পিএমখালী ছনখোলা এলাকায় ভুমিগ্রাসীরা বেধড়ক পিটিয়ে সর্বস্ব  লুট করেছে।

কেড়ে নিয়েছে তার মুঠোফোন ও নগদ টাকা সহ সাথে যা ছিল। তারা আবার ৯৯৯ তে ফোন দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে মামলা সাজিয়েছে।

কোন প্রকার তদন্ত ছাড়াই ভুমিগ্রাসী সন্ত্রাসীদের মামলা রুজু, তাকে কারাগারে প্রেরন,আবার রিমান্ড আবেদনের প্রস্তুতি সবই চরম অন্যায় ও জুলুমের শামিল।

এ ব্যাপারে জড়িত অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্য ও  ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়ে কক্সবাজারের সুশীল সমাজ বলেছেন,এই যদি হয় অবস্থা তাহলে পুলিশের প্রতি সাধারণত মানুষের আস্থা পুরোপুরি উঠে যাবে।

ক্ষুন্ন হবে সরকারের ভাবমূর্তি।

কক্সবাজার মডেল থানার ওসি শেখ মুনির উল উল গীয়াস রুহুল আমিন সিকদারের শারীরিক জখম  সহ সংগঠিত ঘটনার কথা স্বীকার ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন,তার সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই।

এলাকাবাসী গনধোলাই দিয়ে ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশে সোপর্দ করছে। মামলা না নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। রুহুল আমিন সিকদার একটি পত্রিকার সম্পাদক ও রাজনৈতিক নেতা।

তিনি বিগত জাতীয় সংসদ ও পৌর নির্বাচনে কক্সবাজারের প্রার্থী ছিলেন। তিনি একজন জমিদার ও বুনিয়াদি পরিবারের ছেলে। সন্ত্রাসী নন এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে মডেল থানার ওসি বলেন,বিষয়টি আপনারা স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করলে ভালো হয়। এমপি স্যারও ফোন করছিলেন,উপকার করতে পারিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই জামিরুল ইসলাম জানান,কেউ আইনের উর্ধে নই। আইন যা বলবে তাই হবে।

এদিকে  রুহুল আমিন সিকদারের গ্রেফতারের সংবাদে জেলায় কর্মরত সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবী জানিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিএমএফ কক্সবাজার জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ,নিরপেক্ষ তদন্ত এবং  রুহুল আমিন সিকদারের দ্রুত মুক্তি কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য রুহুল আমিন সিকদারের মামলায় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত একজন বয়স্ক ব্যাক্তি রয়েছেন।

তার নাম মোঃ সুলতান( ৬৫),পিতা মৃত ফজর আলী,সাং ছনখোলা, পিএমখালী। তাঁকেও দ্রুত বিচার আইনের মামলার আসামী করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

এসময় সন্ত্রাসী হামলা ও পুরো ঘটনায় জড়িত ছৈয়দ আলম,মামুনুল ইসলাম, জনজাম ও রাশেদুল ইসলাম নামের ৪  চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আটক করা হলেও শুক্রবার রাতে রহস্য জনক কারনে  পুলিশ তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রুহুল আমিন সিকদারের স্বজনরা ।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, মামলার বাদী পিএমখালী মনখোলা এলাকার মৃত আলী আকবরের সাথে আটক রুহুল আমিন সিকদার গংয়ের সাথে ভুমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল দীর্ঘ দিন ধরে।

তারা জোর পুর্বক জমি জবর দখল সহ এলাকায় হরেক অপকর্মে লিপ্ত।

মোটা অংকের নগদ টাকা খরচ করে পুরো ঘটনাটি সাজিয়ে পথের কাটা রুহুল আমিন সিকদারদের ফাঁসিয়ে দিল ছৈয়দ আলম গং। এদের সাথে মডেল থানা পুলিশের কিছু দালাল,  সরকারি দলের নাম ব্যাবহারকারী কয়েকজন কথিত টাউট নেতা ও পুলিশের কয়েকজন অসৎ সদস্য পরস্পর যোগসাজশে বড় অংকের নগদ লেনদেনে এ ঘটনা ঘটছে।

সর্বাধিক পঠিত