প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমতলীতে পৃথক দুটি নির্বাচনী সংঘর্ষে অন্তঃস্বত্তা মহিলাসহ এক মেম্বার সদস্য আহত

জিয়া উদ্দিন সিদ্দিকী: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে গত দুই দিনে বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী ও দুই সাধারণ সদস্য প্রার্থীদের কর্মী- সমর্থকদের মধ্যে সংর্ঘষে এক মেম্বার প্রার্থী ও  অন্তঃস্বত্তা  মহিলাসহ ২২জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে থেকে আশংকাজনক অবস্থায় ১৬ জনকে বরিশাল শেবাচিম ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকী ৬ জন আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

স্থাণীয় সূত্রে জানাগেছে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আবুল কালাম আজাদের সমর্থক নাসির উদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে আনারস মার্কার সমর্থনে চরকগাছিয়া সোমবাড়িয়া বাজার এলাকায় মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে নির্বাচনী প্রচার- প্রচারনা চালানোর এসময় অপর প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেলী পারভীন মালার নৌকা মার্কার সমর্থক কাওসার তালুকদারের নেতৃত্বে কর্মী-সমর্থকরা ওই মোটর সাইকেল শোভাযাত্রায় অতর্কিত হামলা চালায়।

এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়। আহতরা হলেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আবুল কালাম আজাদের সমর্থক বশির (৫৫), নাসির উদ্দিন তালুকদার (৫০), সোহেল তালুকদার (৪০) ও জসিম উদ্দিন তালুকদার (৫০), অপর প্রতিদ্বন্ধি চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেলী পারভীন মালার নৌকার সমর্থক তাওহীদ (৩২), শাহিন (৩০), শহিদুল ইসলাম (৩২), মাসুম তালুকদার (৩৫), কাওসার তালুকদার (৪০), নয়া তালুকদার (৩০) জহিরুল প্যাদা (৩৫) ও লোটাস (৩৭)।

ওই ঘটনায় আহত ১২ জনের মধ্যে ৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, আমার সমর্থক নাসির তালুকদারের নেতৃত্বে আজ বিকেলে আনারস মার্কার সর্মথনে চরকগাছিয়া সোমবাড়িয়া বাজার এলাকায় মোটর সাইকেলযোগে নির্বাচনী প্রচারনা চালায়। এসময় নৌকা সমর্থক কাওসার তালুকদারের নেতৃত্বে নৌকার সমর্থকরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমার ৪ কর্মী- সমর্থক গুরুত্বর আহত হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেলী পারভীন মালা পাল্টা অভিযোগ করেন, আজ বিকেলে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা শো ডাউনের নামে সোমবাড়িয়া ও নতুন বাজারে আমার দুটি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে তা ভাংচুর করে। এতে আমার ৮ কর্মী- সমর্থক আহত হয়েছে।

অপরদিকে (শুক্রবার) বিকেল সারে ৫টার দিকে উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের দুই প্রতিদ্বন্ধি মেম্বার প্রার্থী বর্তমান মেম্বার হারুন অর রশিদ (ফুটবল) ও সেলিম গাজী (মোরগ) প্রচার- প্রচারনা নিয়ে তাদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় প্রতিদ্বন্ধি মেম্বার প্রার্থী সেলিম গাজীর সমর্থকরা অপর প্রতিদ্বন্ধি বর্তমান মেম্বার হারুন অর রশিদের বসত ঘরে হামলা চালিয়ে টিভি ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এতে বাঁধা দিলে প্রার্থী হারুন অর রশিদ (৫০), মা সালমা বেগম (৭০), শামীম (২৫), নাসির মৃধা (৪৫) ও রিপন গাজী (৩০) গুরুত্বর আহত হয়। অপর মেম্বার প্রার্থী সেলিম গাজীর সমর্থক নাসির বয়াতি (৪০), তার স্ত্রী  ৫ মাসের  অন্তঃস্বত্তা মুক্তা (২৮), সালাম বয়াতি (৫০), তার স্ত্রী রুবিনা বেগম (৩৫) রাবেয়া (১৫) ও সুমী (১২) গুরুত্বর আহত হয়।

আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত মেম্বার প্রার্থী হারুন অর রশিদ বলেন, নির্বাচনে প্রচারনা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে আমার বসত ঘরে আমার প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্ধি মেম্বার প্রার্থী সেলিম গাজীর সমর্থকরা হামলা চালিয়ে টিভি ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে আমি আমার মাসহ ৪ জনকে আহত করে।

অপর মেম্বার প্রার্থী সেলিম গাজী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমার প্রতিদ্বন্ধি মেম্বার প্রার্থী হারুন অর রশিদ ও তার লোকজন আমার কর্মী -সমর্থকদের উপড় চরাও হয়ে হামলা চালায় এতে ৫মাসের  অন্তঃস্বত্তা মুক্তাসহ আমার ৬ জন কর্মী- সমর্থক আহত হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ ফারজানা আক্তার দিনা ও ডাঃ তানজিরুল ইসলাম জানান, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে থেকে গতকাল ৬ জন ও আজকে ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহআলম হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, দুই চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীর কর্মী- সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থতি সম্পূর্ন পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এ দুটি ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তি আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করবো।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত