প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস: সবুজ আন্দোলন

সমীরণ রায়: [২] শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে “স্বাধীনতার ৫০ বছরে পরিবেশ বিপর্যয় ও উত্তরণের উপায়” শীর্ষক আলোচনা এক সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। আলোচনা সভায় মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সব বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

[৩] সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার, স্বাধীনতার ৫০ বছরে পরিবেশ বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন। এরমধ্যে রয়েছে-১. পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে অঞ্চলভেদে ২.৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। যা ১৯৭১-৭২ সালে ২৫.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ২০২০-২১ সালে ২৬.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস হয়েছে। ২. শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে প্রায় ৫৩ ভাগ বনভূমি হ্রাস পেয়েছে। ৩. আবাস যোগ্য জমির পরিমাণ কমেছে ৩১ শতাংশ। যার অন্যতম কারণ অবৈধ ইটভাটা ও অপরিকল্পিত নগরায়ন। ৪. ক্ষতিকর কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার বেড়েছে ৫৮ ভাগ। উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবহারের পরিমাণ আরও বেশি। ৫. দেশে নদী অস্তিত্ব হারিয়েছে ১১০টি। স্বাধীনতার শুরুতে ৩৫১টি থেকে বর্তমানে ২৪১টি নদী বিদ্যমান।

[৪] দখল ও দূষণের শিকার শতকরা ৯৮ ভাগ নদী। ৬. দেশীয় প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে ১০৮টি। যার মধ্যে অন্যতম উভচর ৮টি, সরীসৃপ ৯টি, পাখি ১৩টি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী ১০টি যা চিরতরে হারিয়ে গেছে। ৭. বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় শতকরা ক্ষতির পরিমাণ ৮১ ভাগ মানুষ। ই-বর্জ্যে ১০ ভাগ, জাহাজভাঙা বর্জ্য ৫ ভাগ, মানবসৃষ্ট বর্জ্য ২০ ভাগ, মেডিকেল বর্জ্য ৮ ভাগ, কলকারখানার বর্জ্য ৩৩ ভাগ এবং অন্যান্য ৫ ভাগ। ৮. নদী ভাঙ্গন কবলে ক্ষতিগ্রস্ত জনসংখ্যা প্রায় ২৯ ভাগ। যার মধ্যে দেশের প্রায় ৩৩টি জেলার জনগণ।

[৫] এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে রয়েছে-১. কৃষি খাতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য যুগোপযোগী কৃষি শিক্ষা, আধুনিক যন্ত্রাংশ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ২. ই বর্জ্য অপসারণে বিভাগীয় পর্যায়ে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ এবং মানবসৃষ্ট বর্জ্য অপসারণে ইউনিয়ন পর্যায়ে জায়গা অধিগ্রহণ করতে হবে। ৩. নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। ৪. শিল্প কলকারখানা বর্জ্য অপসারণে বাধ্যতামূলক ইটিপির ব্যবহার নিশ্চিত করতে আলাদা মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। ৫. সব প্রকার দূষণ বন্ধে “স্বতন্ত্র কমিশন” গঠন এবং “এনভায়রনমেন্ট পুলিশ” বাহিনী তৈরি করতে হবে। ৬. বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সকল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ৭. বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের সকল পরিবেশবাদী সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে “পরিবেশ-উন্নয়ন ফোরাম” গঠন এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। ৮. পরিবেশ খাতের সকল দুর্নীতি বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

[৬] কেন্দ্রীয় ছাত্র পরিষদের আহবায়ক (প্রস্তাবিত) ফকির আল মামুনের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার, প্রত্যাশার বাংলাদেশ’র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, সবুজ আন্দোলন পরিচালনা পরিষদের মহাসচিব মহসিন সিকদার পাভেল, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান হোসনে বাবু, সাধারণ সম্পাদক অভিনেতা উদয় খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সবুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক সোলায়মান হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক এ. জি. লাভলু, কেন্দ্রীয় সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ, এম. এ মামুন, নিলুফার মুন্নী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মির্জা আনোয়ার পারভেজ, সদস্য সচিব রাজু আহমেদ প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত