প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পাকিস্তানের পাঠ্যপুস্তকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হেয় করা হয়েছে

মিনহাজুল আবেদীন: [২] ‘বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীনতার নামে একটা নাটক করে সফল হন’। পাকিস্তানে সরকারের অনুমোদিত ‘পাকিস্তান স্টাডিজ’ নামে এক পাঠ্যপুস্তকে এভাবেই লেখা আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস। এই বইতে পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে যওয়ার জন্য অভ্যন্তরীণ এবং বাইরের কারণকে দায়ী করা হয়েছে। বিবিসি বাংলা

[৩] বাংলাদেশের তরফ থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু পাকিস্তান বার বার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের পাঠ্যক্রমে বাংলাদেশের এসব অভিযোগ বা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কোনও উল্লেখ নেই।

[৪] পাকিস্তানে বাংলাদেশ সম্পর্কে স্কুল শিক্ষার্থীরা প্রথম জানার সুযোগ পায় নবম শ্রেণিতে উঠে, তখন তাদের বয়স থাকে ১৫-১৬। সরকারিভাবে স্কুলে যেসব বই পড়ানো হয়, সেখানে অস্পষ্টভাবে ১৯৭১ সালের ঘটনাবলী তুলে ধরা হয়। যা দুই বা তিন পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

[৫] এদিকে বেসরকারি স্কুলগুলোতে ‘ও লেভেলে’ পাকিস্তান স্টাডিজ বলে যে বইগুলো পড়ানো হয়, সেখানে পাকিস্তানের পূর্ব এবং পশ্চিম অংশের মধ্যে যেসব অসন্তোষ তৈরি হয়েছিলো তা তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পাকিস্তান ভাঙার জন্য ভারতকেই অপরাধী হিসেবে দায়ী করা হয়েছে।

[৬] পাকিস্তানের শিক্ষাবিদ প্রফেসর এ এইচ নাইয়ার বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির পর সরকারের লোকজন মনে করেছিলো পূর্ব আর পশ্চিম পাকিস্তান একমাত্র ধর্মই এক রাখতে পারে। এজন্য এমনভাবে ইতিহাস শিখিয়েছে যাতে করে একটা ধর্মীয় পরিচয় তৈরি করা যায়।

[৭] পাকিস্তানি লেখক এবং ইতিহাসবিদ খুরশিদ কামাল আজিজ তার প্রকাশিত বই ‘দ্য মার্ডার অব হিস্ট্রি’ বলেন, বাংলাদেশের আলাদা হওয়ার বিষয়টিকে অতীতে একেবারেই অগুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মূলত পাকিস্তানের সরকার যা চেয়েছিলো তাই আসলে ঘটছে। ছেলে-মেয়ের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ভারত হচ্ছে শত্রু আর পাকিস্তান এখানে নিপীড়নের শিকার।

[৮] পাকিস্তানের একজন কলামিস্ট এবং শিক্ষাবিদ আসিম সাজ্জাদ আকতার বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কোনও গবেষণার চেষ্টাকে বাধা দেয়া হয়েছে। ১৯৭১ সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় ভাষাকে যারা টিকিয়ে রাখতে চায়, তারা এক্ষেত্রে কোনও রকমের পরিবর্তন দেখতে চায় না। সম্পাদনা: রাশিদ

 

সর্বাধিক পঠিত