প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ: এগারো বছরে ৪২ রায়, সাজাপ্রাপ্ত ১০৩, মৃত্যুদন্ড কার্যকর ৬

নিউজ ডেস্ক: আজ ২৫ মার্চ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তাদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার পর বিচার এখনও অব্যাহত রয়েছে।

১১ বছরে ৪২টি মামলায় মোট ১১৬ জন আসামির মধ্যে ১০৩ জন রাজাকারকে বিভিন্ন মেয়াদে দ- প্রদান করা হয়েছে। ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে ৬ যুদ্ধাপরাধীর। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী নেতা এটিএম আজাহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ এর রিভিউ আপীল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া আপীল বিভাগে ৩১টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই এ সমস্ত মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোঃ নিজামুল হক নাসিম বলেন, আজ ২৫ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা স্মরণীয় দিন। এই দিনে আজ থেকে ১১ বছর আগে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা আমাদের বিরোধিতা শুধু করেনি, মা-বোনদের হত্যা, ধর্ষণ করেছে এবং ৩০ লাখ মানুষকে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছে। তাদের বিচার করার জন্য এই ট্রাইব্যুনালের জন্ম হয়। যে ট্রাইব্যুনালের কথা স্বাধীনতার সময় বলা হয়েছিল। সেটা দীর্ঘদিন যাবত হয়নি। মানুষের মনে একটা দুঃখ ছিল হয়ত বিচার হবে না। কিন্ত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সেই কথাটি রাখলেন এবং আজকের এই দিনে ২০১০ সালে এই ট্রাইব্যুনালের জন্ম হয়। জানি না কি জন্য বাংলাদেশ সরকার চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে বেছে নেন। এটা হলো আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ পাওয়া।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হৃষিকেশ সাহা বলেছেন, ট্রাইব্যুনাল ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি, তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন মিলেই এই অসাধ্য কাজটি সম্ভব করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর এই বিচারটি থেকে যায়। পরবর্তীতে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যই এ বিচার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। ১১ বছরে ইতোমধ্যে আমরা ৪২টি রায় পেয়েছি। এই ১১ বছরে অর্জন বলতে গেলে অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো সাফল্য অর্জন করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে প্রমাণিত করতে পেরেছি যে, গণহত্যা যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অদম্য সাহসী ও আপোসহীন।

প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল বলেন, করেনার আগে বছরে গড়ে ৭ থেকে ৮টি মামলার রায় পেয়েছি। বিশ্বের করোনার প্রাদুর্ভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সীমিত আকারে বিচার কাজ চলছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে ৩৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এরমধ্যে ৩৪টি মামলা সাক্ষী পর্যায়ে রয়েছে। আমি আশা করছি চলতি বছরে ৫ থেকে ৬টি মামলার রায় পাব। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, ৩৮টি মামলায় ২৩২ জনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিচার কাজ চলছে। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ৭৭টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। ১১ বছরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ৪২টি রায়ে ১১৬ আসামির মধ্যে ১০৩ জনকে দ- প্রদান করা হয়েছে। এ সমস্ত মামলায় মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়েছে ৬৯ জনকে, আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করা হয়েছে ২৮ জনকে। আর ৫ জনকে যাবজ্জীবন করাদ- প্রদান, একজনকে ৯০ বছরের দ-, দুইজনকে ২০ বছরের কারাদ- প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৮টি মামলার বিচারকাজ চলছে। রায় হবার পূর্বে কেন্দ্রীয় কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১০ জন। আর রায় হওয়ার আগে পলাতক অবস্থায় মারা গেছেন ২ জন। জামিনে আছে ৪ জন। স্বেচ্ছায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছে ৩ জন। বর্তমানে তদন্ত সংস্থায় ৬৯৭টি অভিযোগ এসেছে। এরমধ্যে আসামি করা হয়েছে ৩৫০৩ জনকে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা এ তথ্য জানিয়েছেন । – জনকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত