প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঈশ্বরদীতে সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ পুত্রের সমর্থিত ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৯, আটক ৩

আবুল কালাম আজাদ: পাবনার ঈশ্বরদীতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে শিরহান শরীফ তমাল ও বর্তমান সাংসদ নুরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে দোলন সমর্থিত ছাত্রলীগের দুগ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের ৯ জন আহত হয়েছে। পুলিশ অস্ত্রসহ ২ জনকে আটক এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান,  বুধবার দুপুরে পৌর এলাকার কলেজ গেট এর সামনে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব ও পুর্ব বিরোধের জেরে হামলা ও সংঘর্ষের  ঘটনা ঘটে। এতে কলেজ ছাত্রলীগের প্রস্তাবিত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক এসএম রাতুল হাসানের হাত-পাসহ শরিরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে এবং পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত অন্যরা হলেন, ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রনি, ছাত্রলীগের ৬ নং ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক শাকিল হোসেন, ছাত্রলীগ কর্মী শুভ, ইমরান, রুবেল, চমনসহ ৯ জন। এদিকে আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের দুই নেতার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে।  এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়।

রাতুলের বড় ভাই এসএম রুশদি হাসান মিলন জানান, ছাত্রলীগ সভাপতি রনির আঘাতে রাতুল রাস্তায় পড়ে গেলে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। এসময় ছাত্রলীগ সভাপতি রনিও ছুরিকাহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রনি বলেন, আধিপত্য বিস্তার করতে রাতুল, শুভ, রিপন, রুবেল, সবুজ ও চমনসহ আরো কয়েকজন আমার দোকানে তালা মেরে দেয়। খবর পেয়ে দোকানের সামনে এসে তাদের কাছে তালা মারার কারন জানতে চাইলে আমাকে ও শাকিলকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ খবর পেয়ে অন্যান্যরা সেখানে এলে সংঘর্ষ বাধে। এসময় আমার ব্যাক্তিগত অফিস ও দুটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়।

গুরুতর আহত রাতুলের বড় ভাই এসএম রুশদি হাসান মিলন অভিযোগ করে বলেন, রনি দির্ঘদিন দোকানের ভাড়া না দেওয়ার কারনে তার দোকানে তালা মেরে দেওয়া হলে রনির নেতৃত্বে জীবন, লিটন, সালাম মোল্লা, সাগর, স্বপন ও জাহিদুলসহ তারা রাতুল ও তার সঙ্গে থাকা অন্য ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে। ছুরিকাঘাতে রাতুল রাস্তায় পড়ে গেলে তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।

সাংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে দোলন বিশ্বাস বলেন, আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ছেলে  উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলের সংযোগ পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা পালিয়ে যায়। কলেজের সামনে থেকে অস্ত্র সহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আর এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিকে থানায় আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। মৌখিক অভিযোগ পেলেও লিখিত অভিযোগ পাইনি। ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত