প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করবে জাতিসংঘ, বিরোধিতা করলো বাংলাদেশ

সালেহ্ বিপ্লব: [২] জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কাউন্সিলে এ বিষয়ক একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। জেনেভায় কাউন্সিলের বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশলেট।  রয়টার্স, আল জাজিরা, ইয়ন

[৩] শ্রীলঙ্কায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলভার জেনেভায় অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের বৈঠকে আলোচনা হয়। দেশটির বিরুদ্ধে ব্রিটেনের আনা প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে ২২টি দেশ। বাংলাদেশসহ ১১টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। আর ভারত ও চীনসহ ১৪টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিলো, অর্থাৎ তারা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

[৪]  শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠে ২০১০ সালের দিকে। তামিল টাইগারদের সাথে যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ অভিযোগ তোলে জাতিসংঘ, ২০১১ সালে ।  তবে সে বছরই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শ্রীলঙ্কার সরকার। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্যে জাতিসংঘ একটি কমিটি গঠন করে। প্রায় এক যুগ পর মানবাধিকার কাউন্সিল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ক্ষমতা দিলো মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশলেটকে।

[৫] কানাডা, জর্মানী, মালাওয়ি, মন্টিনেগ্রো ও উত্তর মেসিডোনিয়ার সমর্থন নিয়ে মানবাধিকার কাউন্সিলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জুলিয়ান ব্রেথওয়েইট। এসময় তিনি বলেন, দায়মুক্তি এখন সুরক্ষিত। প্রতীকি কেসগুলোর অগ্রগতি নেই।

[৬] তার বিরোধিতা করে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত এম সি এ চন্দ্রপ্রেমা বলেন, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে।

[৭] শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে ২০০৯ সালে।  তামিলদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার তামিলরা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। জাতিসংঘের হিসেবে, ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

[৮] গৃহযুদ্ধের শেষ কয়েক মাসে শ্রীলঙ্কার সরকারি বাহিনী উত্তর পশ্চিম উপকূলের একটি সংকীর্ণ এলাকায় তামিল টাইগারদের আটকে ফেলে। জাতিসংঘের অভিযোগ,  সে সময় সরকারি বাহিনী হাজার হাজার মানুষকে মানব-বর্ম বানিয়ে নিজেদের রক্ষা করেছিলো।

[৯] গত জানুয়ারি মাসে মিশেল ব্যাশলেট এক প্রতিবেদনে শ্রীলঙ্কার সাবেক সামরিক কমান্ডারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান। এই তালিকায় দেশটির বর্তমান সেনাপ্রধানের নামও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গৃহযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সংঘটিত নৃশংসতায় তিনিও জড়িত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত