প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সমালোচনা আমাদের কাজের সফলতা : কবীর চৌধুরী তন্ময়

ডেস্ক রিপোর্ট :  হঠাৎ করেই কয়েকদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা সমালোচনায় একজন ব্যক্তি। জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলির সংবাদের মন্তব্যর ঘরে দেখা যাচ্ছে তাকে মন্তব্য করতে । যে মন্তব্যতে আবার পড়ছে হাজার হাজার লাইক। এই নিয়ে করা হচ্ছে ট্রল। ফেসবুকের সব জায়গায় কমেন্টকারি এই কবীর চৌধুরী তন্ময় যদিও এসব ট্রল বা তাকে নিয়ে করা বিভিন্ন ধরণের মন্তব্যের কোনও উওর এখনও দেননি। তবে কমেন্ট ইস্যুতে চলমান আলোচনা-সমালোচনার ব্যাখা দিয়েছেন নিউজ২৪ কে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তন্ময় নিউজ২৪ কে জানান, বিষয়টাকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখছি। আর এটি আমাদের কাজের কিংবা ক্যাম্পেইনের সফলতাও।

বিষয়টি নিয়ে পরিস্কার করে বললে, আমরা দেশের এবং দেশের বাইরের যেমন-ভারত, পাকিস্তান, আমেরিকা, কানাডা, রাশিয়ার সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের ফেসবুক পেজে আমারদের ক্যাম্পেইন শুরু করি। মন্তব্য করি, বাংলাদেশকে সেখানে তুলে ধরার চেষ্টা করি। পেজে আপলোড করা ছবি, ভিডিও এবং স্ট্যাটাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের মন্তব্য অর্থাৎ আমার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে মন্তব্য দিয়ে সেদেশের কিংবা উক্ত পেজের সাথে যুক্ত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের মনোজগতের বিষয়টা জানার চেষ্টা করি। এমনি করে পাকিস্তানের বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রশ্ন করি, তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কি জানে, গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া বিষয় নিয়েও তাদের মতামত জানতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কয়েকটা ফেসবুক পেজে আমরা মন্তব্য করা শুরু করি। আমাদের টার্গেট ছিল আমরা ১০ দিন আমাদের সকল গণমাধ্যমের বিশেষ করে জনপ্রিয় সাইটগুলোতে আমরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সামাজিক সচেতনতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং আদালত দ্বারা প্রমাণীত মানবতাবিরোধী অপরাধী দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে প্রশ্ন করবো এবং উত্তর জানার চেষ্টা করবো।

আর শুরুটা অন্য ফেসবুক থেকে করা হলে তেমনটা সাড়া পাওয়া যায়নি। বলা চলে, কেউ ওই মন্তব্যগুলোতে গুরুত্ব দেয়নি। তখনই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ থেকে আমাদের ক্যাম্পেইন অর্থাৎ মন্তব্য করা শুরু করি।

কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেন, সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, আমাদের ক্যাম্পেইন ১০ দিন করা লাগেনি। মাত্র দুইদিনেই যেসকল আলোচনা, সমালোচনা, ব্যক্তিগত আক্রমন, চরিত্রহনন করার চেষ্টা আমরা অবলোকন করেছি-ওইসব তথ্য প্রমাণগুলো যেমন, ব্যক্তির বয়স, পেশা, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক সচেতনতার অবস্থানগুলো নিয়ে এখন আমরা স্টাডি করার চেষ্টা করছি। ভাইরালকৃত ছবি, প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্য সুত্রগুলো আমাদের যাচাইবাচাই চলছে।

 

অনলাইন এ্যাক্টিভিষ্ট হিসাবে বিষয়টাকে আপনি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি নিউজ২৪ কে জানান, একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট কিংবা বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ) সভাপতি হিসাবে আমি এটাকে অভিজ্ঞতার দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়েছি। কারণ, ডিজিটাল প্লাটফর্ম নিরাপদ রাখতে হলে, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের মনোজগতের বিষয়, দায়িত্বজ্ঞান আর সচেতনতার দিকগুলো জানা আমাদের জন্য খুব জরুরী। একদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের আন্দোলন, আরেকদিকে এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কতিপয় মানুষ কি ধরণের অপপ্রচার আর ব্যক্তিগত আক্রমন করতে পারে-এটা আশাকরি আমাদের গণমাধ্যমসহ দেশবাসী অবগত হয়েছে।

 

কবীর চৌধুরী তন্ময়

২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের প্রগতিশীল ও জাতি পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং স্বাধীনতার পক্ষে একঝাঁক ব্লগার, লেখক, গবেষক, সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্টদের নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রগতিশীল বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে-ময়দানে দেখা যায়। সাংবাদিকতার পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তিনি নিয়মিত কলাম লিখছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন। লিখেছেন বেশ কয়েকটি বইও।

তার বাবা এম এ খালেক চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেন। বড় কাকা সুজত আলী চৌধুরী স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন, যাঁর মরদেহ তিনি ও তার পরিবার আজও খুঁজে পায়নি।

সূত্র- নিউজ24

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত