প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হেলাল মহিউদ্দীন: আন্তর্জাতিক রুটে ও তাদের প্রাপ্য ক্যারি-অন ওয়েট নিতে না দেওয়া অসম্মান, জুলুম, অন্যায়, বঞ্চনা বা প্রবঞ্চনা নয় কি?

হেলাল মহিউদ্দীন: কানাডার উইনিপেগ হতে টরন্টো হয়ে কাতারের দোহা পর্যন্ত এলাম এয়ার কানাডায়। দোহা হতে কাতার এয়ারলাইন্সে ঢাকায় ফেরার কথা। আগেও বেশ কয়েকবার এই রুটে ভ্রমণ করেছি। কিন্তু, আমার রুট রি-শিডিউল হয়ে কয়েকদিন পিছিয়ে যায়। ফলে আগে ফিরতে চাওয়ায় বিকল্প একটি বন্দোবস্ত মেনে নিলাম। দোহা হতে কাতার এয়ারলাইনসের বদলে বিমান বাংলাদেশ-এ  ঢাকায় ফিরলাম। বিমান বাংলাদেশ কেন কোনো এয়ারলাইন্স নিয়েই আমার কোনোকালেই কোনো খুঁতখুঁতে ভাব ছিল না; এখনো নেই। ছোট, ভাঙ্গাচোরা, যখন যেভাবে যাদেরটিতে চড়ার দরকার, চড়েছি।

এই বিষয়ে আমার অবস্থান ‘নো কমপ্লেইন’ টাইপ। যথারীতি বিমান বাংলাদেশের সেবা বিষয়েও আমার অভিযোগ শূন্য। কেবিন ক্রু, স্টুয়ার্ড-স্টুয়ার্ডেস, অ্যটেন্ডেন্ট সকলকেই যথেষ্ট পেশাদার, প্রশিক্ষিত, ধৈর্য্যশীল, পরিশ্রমি ও আন্তরিক মনে হয়েছে। খাবার, সেবা সবই ঠিক আছে। শ্রমজীবী মানুষদের প্রতি তাদের সহানুভূতি-সহমর্মিতাও টের পেয়েছি। তবে আক্ষেপ, হতাশা গভীর দুঃখবোধ ও প্রতিবাদ জানাই অন্য একটি কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কায়িক শ্রমজীবী মানুষদের প্রতি বাংলাদেশের এবং বিমান কর্তৃপক্ষের নিদারুণ অসম্মানজনক এবং অবহেলামূলক আচরণের বিরূদ্ধে।

লাউঞ্জে বসা অবস্থায় দেখলাম অনেকেরই কাঁদো কাঁদো অবস্থা। হাতে যা নিয়েছেন, বেশির ভাগই রেখে আসতে  হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রুট। সাড়ে পাঁচ ঘন্টার ভ্রমণ-পথ। কিন্তু অভ্যন্তরীন রুটে চলাচলের উপযোগী একটি অত্যন্ত অপরিসর বিমান বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিমানটি বেশি ওজন বহনে সক্ষম নয়। আন্তর্জাতিক রুটে ও তাদের প্রাপ্য ক্যারি-অন ওয়েট নিতে না দেওয়া অসম্মান, জুলুম, অন্যায়, বঞ্চনা বা প্রবঞ্চনা নয় কি? মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমজীবী বাংলাদেশিদের রক্ত-ঘাম পানি করা টাকায় আমরা অর্থনীতি, উন্নয়ন ও রিজার্ভের গর্ব করি। শ্রমজীবীগণ যখন আসা-যাওয়া করেন, তাদের কষ্ট এবং অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিমানের আন্তর্জাতিক মানের ক্যারিয়ারের ব্যবস্থা করা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের ন্যূনতম নৈতিক কর্তব্য। কিন্তু স্বীকৃতির গল্প করতে পারা দূরে থাক, এক বুক কষ্ট ও হতাশা নিয়ে তাদের প্রতি বঞ্চনার সত্যটিই প্রকাশ করতে হচ্ছে।

এয়ারপোর্টের এটেন্ডেন্টকে জিজ্ঞেস করে জানলাম, শ্রমজীবী পরিবহনে সবসময়ই ছোট বিমান বরাদ্দ। ভূক্তভোগী একজনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম তাদের টিকেট কেনার আগে-পরে কখনোই জানানো হয়নি বা কোথাও লেখা নেই যে তারা আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সমান অধিকারের দাবীদার নন, এবং তাদের সীমিত ওজনের বেশি বিমানের অভ্যন্তরে নিতে দেওয়া হবে না। প্রিয়জনের জন্য কেনা জিনিসগুলো রেখে আসতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের এই কষ্টটুকু বোঝার জন্য সামান্য মানবিক হতে পারাও কেন রেমিটেন্স-ক্ষুধার্ত দেশটির পক্ষে সম্ভব হবে না? দুই যুগেরও অধিক ভ্রমণকালের অভিজ্ঞতা। কিন্তু আন্তর্জাতিক এই রুটেও এ রকম এয়ারক্র্যাফট চলাচল করে, এবং সেটি আমারই দেশের- এবারই প্রথম টের পেলাম।

শ্রমজীবীগণ স্বজনদের সুখের জন্য দুটো টাকা বাঁচাতে গিয়ে হয়তো সস্তায় টিকেট কিনেন। কে দুটো টাকা বাঁচাতে না চায়? বাংলাদেশেকে যদি কিছুটা ভর্তুকিও দিতে হয়, দিবে। শ্রমজীবী মানুষগুলোকে ব্যাগ খুলে জিনিসপত্র ফেলে আসতে বাধ্য করার মতো হেনস্থা, কিংবা পাঁচ-সাড়ে পাঁচ ঘন্টা লোকাল বাসে চড়ার অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া অসভ্যতা। এগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। ফেসবুক থেকে, মামুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত