প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কালো হলে নারীদের পাশাপাশি পুরুষও বৈষম্যের শিকার হয়: অভিমত

মিনহাজুল আবেদীন: [২] জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিহা বারি জানায়, তারা পিঠাপিঠি দুই বোন, তার গায়ের রং শ্যমলা বর্ণ আর অন্যে বোনের গায়ের রং ফর্সা। তাই পরিবারের লোকজন তার চেয়ে তার বোনকে বেশি ভালোবাসে, তবে নাজিহাকে আলাদা চোখে দেখা হয়। বিভিন্ন আত্মীয় স্বজন তাকে পরামর্শ দেয়, তুমি সাবান, ক্রিম ব্যবহার ও সুন্দর সুন্দর জামা পরবে। অথচ তখন আমি ক্লাস ফোরে পড়ি। তিনি বলেন, শুধুমাত্র আমাকে নয়, প্রায় মেয়েকে এ ধরনের অপবাদ শুনতে হয়। তাচ্ছিলো করে বলা হয়, তুমি মিষ্টি মেয়ে কিন্তু তোমার গায়ের রং শ্যামলা।

[৩] শুক্রবার বিবিসি বাংলার সাক্ষ্যাৎকারে শিক্ষার্থীরা বলছে, কালো মানে সুন্দর না, ফর্সা মানে সুন্দর। মানুষকে এভাবে নিরুপণ করা উচিত নয়। মানুষের ব্যবহার, গুণ, আকৃতির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সিনেমা, নাটকে ফর্সা রংয়ের প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। তারা এও বলেন নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও গায়ের রং কালো হওয়ায় একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি পড়ছে।

[৪] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক যোবায়দা নাসরিন বলেন, সাদা রংয়ের ধারণা ঔপনিবেশিক আমলের প্রভাব থেকে রয়ে গেছে। ভিক্টেরিয়া নওশের সুন্দরের বিবরণ দিয়েছেন। তাতে গায়ের রং ফর্সা, নীল চোখ হতে হবে। তার বইয়ের প্রভাব সমাজে অনেকটা পড়েছে। যা সমাজে মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করেছে। যা এখন সবার মাঝে বিরাজমান। এমনকি জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতেও দেখা যায়, পাত্র-পাত্রী চাই বিজ্ঞাপনগুলোতে প্রথম শর্ত দেয়া হয়, পাত্র-পাত্রী সুন্দর হতে হবে, গায়ের রং সাদা হতে হবে।

[৫] ঢাকার প্রথম সারির ঘটক ম্যাস মিডিয়া প্রতিষ্ঠান সানাইয়ের প্রধান সৈয়দ জুলফিকার জানান, শতকরা ৯০ শতাংশ পাত্র ছেলের জন্য ফর্সা পাত্রী চায়। তারা পাচ্ছে কিনা সেটা পরের কথা, তাদের প্রত্যেকের প্রথম শর্তই থাকে গায়ের রং ফর্সা হতে হবে। তারা বিসিএস মেয়ে চায় না, সুন্দরী মেয়ে চায়। তাতে এসএসসি, ইন্টার পাস মেয়ে হলেও সমস্যা নেই। যাতে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের বাচ্চারা সুন্দর হয়।

[৬] ঢাকার বনানী পাল্লারের প্রধান নাহিদা হোসেন বলেন, বেশির ভাগ নারীরা আসেন ত্বকের রং ফর্সা করার জন্য। ফর্সা মহিলারাও তাদের গায়ের রং ফর্সা করতে চান। তবে বয়স্ক মহিলা, তরুণী, ছাত্রীরা বেশি ত্বকের রং ফর্সা করে।

[৭] বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক ইএক্সপি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইরেশ জাকের বলেন, দেশের প্রচলিত ধ্যান ধারণা থেকে এটি তৈরি হয়েছে। সমাজে ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পরিবার, বিজ্ঞাপন, নাটক, সিনেমা থেকে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়েছে।

[৮] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন্স জেন্ডার বিভাগের অধ্যাপক সানজিদা নিরা বলেন, সবার আগে মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। নারী একটি শরীর, এ চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রচারণার ধরণ বদলাতে হবে। সাদা-কালোর পার্থক্য পাঠ্য পুস্তকে অনুশীলনে রাখতে হবে। তাতে শিশু কিশোরদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটবে। সমাজের বিকাশ লাভ করবে। তবে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। সম্পাদনা: রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত