প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজশাহীতে কুয়াশায়, আমের মুকুলের ক্ষতির শঙ্কা

মঈন উদ্দীন: [২] জেলায় শনিবার ভোরে সূর্যোদয়ের পর পরই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় সবুজ প্রকৃতি। গত কয়েকদিন থেকে অব্যাহতভাবে তাপমাত্রা বাড়ার পর হঠাৎ প্রকৃতির এমন আকস্মিক পরিবর্তনে আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আম চাষিরা। একই কথা বলছেন-ফল গবেষকরা।

[৩] জেলার আবহাওয়া অফিস বলছে, এবার অনেকটা আগেভাগেই বিদায় নিয়েছে শীত। ফালগুনের আগেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির ওপরে উঠে গেছে। বর্তমানে রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এছাড়া দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গিয়ে পৌঁছেছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। অর্থাৎ এবার সময়ের আগেই গরম পড়েছে রাজশাহীতে। আর ঘন কুয়াশা পড়েনি প্রায় এক মাস। এই বিরাট ফারাকের পর শনিবার ভোরে হঠাৎ ঘন কুয়াশা পড়ে আমের রাজধানী খ্যাত উত্তরের শহর রাজশাহীতে।

[৪] আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, শনিবার ভোরে সূর্যোদয় হলেও পরে কুয়াশা পড়ে। যা সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এর পরই আবার সূর্যের মুখ দেখা গেছে। শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।বর্তমানে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ওঠানামা করছে। এছাড়া দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে।

[৫] এদিকে এই ঘন কুয়াশার জন্য চিন্তার রেখা ফুটে উঠেছে আমচাষিদের কপালে। এমনভাবে কুয়াশা পড়লে আমের মুকুলের ক্ষতি হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। কারণ ঘন কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে আমের মুকুলে ‘পাউডারি মিলডিউ’ নামে এক ধরনের রোগ দেখা দেয়। এতে আমের মুকুল ঝরে পড়ে। যার প্রভাব পড়ে আমের ফলনেও।

[৬] তবে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন বলেন, এ বছর মাঘের শুরুতে শীতের তীব্রতা ছিল। ওই সময়ের মধ্যেই অনেক গাছে মুকুল চলে এসেছে। সাধারণত মার্চ মাসের মধ্যেই এই মুকুল আমের গুটিতে পরিণত হয়। এখন কোনো কারণে যদি ঘন কুয়াশা স্থায়ী হয় তাহলে আমের সেই মুকুল ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তবে এক-দুই দিনের এমন ঘন কুয়াশায় আমের মুকুলের ক্ষতি হবে না।

[৭] এছাড়া ইতোমধ্যে চাষিরা আমের মুকুলে স্প্রে করে দিয়েছেন। আবহাওয়া যদি র্রৌদ্রজ্জ্বল হয় এবং তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়তে থাকে। তবে কোনো সমস্যা হবে না বলেও মন্তব্য করেন ফল গবেষণা কেন্দ্রের এই প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত