প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইরাকের জালানি খাতে রাশিয়ার বিনিয়োগ ১০ বিলিয়ন ডলার

রাশিদ রিয়াজ : যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে রাশিয়া বিভিন্ন জালানি প্রকল্পে ইতিমধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বলেছেন কোভিড মহামারী সত্ত্বেও বিভিন্ন ধরনের বাধা অতিক্রম করে ইরাকে তার এধরনের বিনিয়োগ এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। নোভাক এক সময়ে রাশিয়ার জালানিমন্ত্রী ছিলেন। গত বুধবার ইরাকের জালানিমন্ত্রী ইহসান আবদুর জাব্বারের সঙ্গে এক বৈঠকে দেশটিতে রুশ বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের এ বৈঠকে ইরাকের তেল, গ্যাস খাত ছাড়াও আন্তর্জাতিক জালানি বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর নোভাক বলেন তাদের মধ্যেকার আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইরাকের জালানি খাতে রুশ প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে। প্রকল্পগুলো সম্পর্কে নোভাক বলেন, রুশ কোম্পানিগুলো ইরাকে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং যথেষ্ট সফলতার সঙ্গে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে রাশিয়ার অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে ফেডারেশন কাউন্সিল কমিটির প্রথম উপপ্রধান ইউরি ফেদোরোভ বলেন ইরাকের জালানিখাতে তার দেশের বিনিয়োগ ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। ২০১৯ সালে ইরাকের জালানি খাতে রাশিয়া বিনিয়োগ শুরু করে। জালানি অবকাঠামো ছাড়াও বিদ্যুৎ খাতে রুশ বিনিয়োগ বাড়তে থাকে। রুশ কোম্পানিগুলো যুদ্ধবিধ্বস্ত বাগদাদে বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। রুশ কোম্পানিগুলো ইরাকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরাকে তেলের প্রমাণিত মজুদ হচ্ছে ১৪৫ বিলিয়ন ব্যারেল। গ্যাসের মজুদ হচ্ছে ৩.৭ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার।

এরপরও ইরান থেকে গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে ইরাককে। তুরস্ক ও ইরাকে ইরানের গ্যাস রফতানির প্রধান বাজার। ইরানের জাতীয় গ্যাস কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোন্তাজের তোরবাতি বলেছেন, গত আট বছরের মধ্যে তার দেশের গ্যাস রপ্তানির পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। ইরানের হাসান রুহানি সরকারের দুই মেয়াদে গ্যাস রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধি ঘটেছে এবং চলতি ফার্সি বছরে ১,৮০০ কোটি ঘন মিটার গ্যাস রপ্তানি করেছে। ২০১৩ সালে গ্যাস রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯০০ কোটি ঘন মিটার।

তিনি জানান, ইরাক ও তুরস্ক হচ্ছে ইরানি গ্যাসের প্রধান ক্রেতা। একইভাবে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়াতেও বিপুল পরিমাণ গ্যাস রপ্তানি হয়। এসব দেশে ইরানের গ্যাস রপ্তানির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তোরবাতি। ইরান প্রতিদিন সাড়ে সাত কোটি ঘন মিটার গ্যাস রপ্তানি করে। তিনি জানান, তুরস্কে গ্যাস রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তুর্কি বাজারের অনেক কিছুই সরকারি খাত থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর হচ্ছে; সে কারণে ইরানের বেসরকারি খাতের লোকজনকে গ্যাস রপ্তানি বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া উচিত।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত